৯ অক্টোবর, ২০২৬ | শুক্রবারবাংলা: ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩
খাবার-দাবার

জন্মদিনের আয়োজনে কেকের বদলে কোন দেশে কী খাওয়া হয়?

IMG_0376_2048x

জন্মদিন মানেই কেক কাটা, মোমবাতি জ্বালানো আর প্রিয়জনদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়া। তবে বিশ্বের সব দেশে জন্মদিন উদ্‌যাপনের রীতি এক নয়। কোথাও দীর্ঘায়ুর কামনায় খাওয়া হয় বিশেষ নুডলস, কোথাও আবার জন্মদিনের আয়োজনে থাকে ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি কিংবা স্থানীয় জনপ্রিয় খাবার। দেশভেদে এসব খাবারের সঙ্গে জড়িয়ে আছে নানা বিশ্বাস, সংস্কৃতি ও পারিবারিক ঐতিহ্য।

সংগৃহীত

চীনে দীর্ঘ নুডলস

চীনে জন্মদিনের খাবারের তালিকায় বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে দীর্ঘ নুডলসের। দেশটিতে বিশ্বাস করা হয়, লম্বা নুডলস দীর্ঘ জীবনের প্রতীক। তাই জন্মদিনে অনেকেই এক বাটি দীর্ঘ নুডলস খান। খাওয়ার সময় নুডলস না কেটে খাওয়ার রীতিও প্রচলিত রয়েছে। এটি দীর্ঘ ও সুস্থ জীবনের প্রত্যাশাকে তুলে ধরে।

দক্ষিণ কোরিয়ায় সামুদ্রিক শৈবালের স্যুপ

দক্ষিণ কোরিয়ায় জন্মদিনে মিয়কগুক নামের সামুদ্রিক শৈবালের স্যুপ খাওয়ার প্রচলন রয়েছে। দেশটিতে সাধারণত সন্তান জন্ম দেওয়ার পর মায়েদের এই স্যুপ খাওয়ানো হয়। সেই ঐতিহ্য থেকেই জন্মদিনে এটি খাওয়ার রীতি গড়ে উঠেছে বলে মনে করা হয়। জন্মদিনে এই খাবার খাওয়ার মধ্য দিয়ে মায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা প্রকাশ করা হয়।

ভারতে মিষ্টিমুখের আয়োজন

Advertisements

ভারতে জন্মদিন উদ্‌যাপনে কেকের পাশাপাশি নানা ধরনের মিষ্টি বেশ জনপ্রিয়। অঞ্চলভেদে লাড্ডু, রসগোল্লা, বরফি কিংবা অন্যান্য মিষ্টি দিয়ে আনন্দ ভাগ করে নেওয়া হয়। বিশেষ কোনো শুভ কাজ বা উৎসবের শুরুতে মিষ্টিমুখ করার প্রচলনও রয়েছে। জন্মদিনে প্রিয়জনদের মিষ্টি খাওয়ানোকে অনেকে শুভকামনা ও আনন্দ প্রকাশের অংশ হিসেবে দেখেন।

রাশিয়ায় পিঠা ও পাই

রাশিয়ায় জন্মদিনের আয়োজনে বিভিন্ন ধরনের পিঠা ও পাই পরিবেশন করা হয়। এসব খাবারের ভেতরে মাংস, মাছ, ফল কিংবা অন্যান্য উপকরণ ব্যবহার করা হতে পারে। পরিবারের সদস্য ও অতিথিদের নিয়ে একসঙ্গে খাবার খাওয়ার মধ্য দিয়ে জন্মদিন উদ্‌যাপন করা হয়। কিছু পরিবারে জন্মদিন উপলক্ষে ঘরে তৈরি বিশেষ খাবারের আয়োজনও থাকে।

জার্মানিতে জন্মদিনের বিশেষ কেক

জার্মানিতে জন্মদিনে কেক খাওয়ার প্রচলন থাকলেও এর সঙ্গে রয়েছে কিছু বিশেষ রীতি। দেশটির কিছু অঞ্চলে জন্মদিনের কেক বা মিষ্টি রুটির ওপর মোমবাতি সাজিয়ে রাখা হয়। জন্মদিনের ব্যক্তির বয়স অনুযায়ী মোমবাতি জ্বালানোর রীতিও দেখা যায়। পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে কেক ভাগ করে খাওয়ার মাধ্যমে দিনটি উদ্‌যাপন করা হয়।

ব্রাজিলে ব্রিগেইরো

ব্রাজিলে জন্মদিনের পার্টিতে ব্রিগেইরো নামের চকোলেটের মিষ্টি বেশ জনপ্রিয়। কনডেন্সড মিল্ক, কোকো পাউডার ও মাখন দিয়ে তৈরি এই মিষ্টি ছোট ছোট বলের মতো করে পরিবেশন করা হয়। বাইরে চকোলেটের দানা লাগানো থাকে। দেশটির শিশুদের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে এটি বিশেষভাবে জনপ্রিয় হলেও বড়দের আয়োজনেও এর দেখা মেলে।

নাইজেরিয়ায় জোলোফ রাইস

নাইজেরিয়ায় বিভিন্ন উৎসব ও পারিবারিক অনুষ্ঠানের মতো জন্মদিনেও জোলোফ রাইস পরিবেশন করা হয়। টমেটো, মরিচ, মসলা ও চাল দিয়ে তৈরি এই খাবার পশ্চিম আফ্রিকার বেশ কয়েকটি দেশেই জনপ্রিয়। জন্মদিনের অনুষ্ঠানে অতিথিদের জন্য বড় পরিসরে জোলোফ রাইস রান্না করা হয়। এর সঙ্গে মাংস, মাছ কিংবা অন্যান্য খাবারও পরিবেশন করা হতে পারে।

ঘানায় ওতো

ঘানায় জন্মদিনসহ বিভিন্ন বিশেষ অনুষ্ঠানে ওতো নামের একটি ঐতিহ্যবাহী খাবার খাওয়া হয়। এটি সাধারণত সেদ্ধ ও মাখানো ইয়াম দিয়ে তৈরি করা হয়। এর সঙ্গে ডিম ও অন্যান্য উপকরণ পরিবেশন করা হতে পারে। অঞ্চল ও পারিবারিক রীতিভেদে খাবারটির প্রস্তুতপ্রণালিতে পার্থক্য দেখা যায়। বিশেষ দিনগুলোতে এই খাবারের সাংস্কৃতিক গুরুত্ব রয়েছে।

তুরস্কে বাকলাভা ও লোকুম

তুরস্কে জন্মদিনের মতো বিশেষ উপলক্ষে বাকলাভা ও লোকুমের মতো ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি পরিবেশন করা হতে পারে। পাতলা ময়দার স্তর, বাদাম ও সিরাপ দিয়ে তৈরি বাকলাভা দেশটির পরিচিত মিষ্টান্ন। অন্যদিকে লোকুম নরম, ছোট আকারের মিষ্টি, যা বিভিন্ন স্বাদে পাওয়া যায়। পরিবার ও অতিথিদের সঙ্গে এসব মিষ্টি ভাগ করে নেওয়ার মধ্য দিয়ে আনন্দ উদ্‌যাপন করা হয়।

অস্ট্রেলিয়ায় ফেয়ারি ব্রেড

অস্ট্রেলিয়ায় শিশুদের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে ফেয়ারি ব্রেড বেশ পরিচিত একটি খাবার। এটি তৈরি করা হয় সাদা পাউরুটির ওপর মাখন লাগিয়ে রঙিন ছোট ছোট চিনির দানা ছড়িয়ে। দেখতে আকর্ষণীয় এবং তৈরি করা সহজ হওয়ায় শিশুদের পার্টিতে খাবারটি জনপ্রিয়। জন্মদিনের টেবিলে অন্যান্য খাবারের পাশাপাশি ফেয়ারি ব্রেডও রাখা হয়।

Advertisements