রাজধানীর বাজারে চালের দাম বৃদ্ধি, চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে ডিম-মুরগি

রাজধানীর খুচরা বাজারে সব ধরনের চালের দাম বেড়েছে। গত এক থেকে দেড় সপ্তাহের মধ্যে সরু চালের দাম কেজিতে ২ থেকে ৩ টাকা এবং মাঝারি চালের দাম ১ থেকে ২ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়াকে চালের দাম বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন ব্যবসায়ীরা। একই সময়ে দেশি পেঁয়াজ, রসুন ও খোলা সয়াবিন তেলের দামও বেড়েছে। অন্যদিকে, ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের দাম আগের উচ্চ অবস্থানেই রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, টাউন হল বাজার ও আগারগাঁও তালতলা বাজার ঘুরে নিত্যপণ্যের এমন চিত্র পাওয়া গেছে।
বাজারে বর্তমানে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মিনিকেট চাল কেজিপ্রতি ৭৪ থেকে ৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ডায়মন্ড, মঞ্জুর ও সাগর ব্র্যান্ডের চালের দাম সপ্তাহখানেক আগের তুলনায় বেড়েছে। আগে এসব চালের কেজি ছিল ৭২ টাকা। এ ছাড়া রশিদের মিনিকেট ৬৫ টাকা এবং মোজাম্মেল মিনিকেট ৭৬ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মানভেদে সরু নাজিরশাইল চালের দাম দাঁড়িয়েছে ৭০ থেকে ৯৫ টাকা, যা আগের তুলনায় কেজিতে ২ থেকে ৩ টাকা বেশি।
ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, মাঝারি মানের পাইজাম, ব্রি-২৮ ও ব্রি-২৯ চালের দামও বেড়েছে। এসব চাল বর্তমানে কেজিপ্রতি ৫৮ থেকে ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগের তুলনায় প্রায় ৩ টাকা বেশি। তবে মোটা চালের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এ ধরনের চালের কেজি ৫০ থেকে ৫৫ টাকা।
ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর প্রতি ট্রিপে ট্রাকভাড়া ২ থেকে ৩ হাজার টাকা বেড়েছে। ধান সংগ্রহ থেকে শুরু করে আড়ত পর্যন্ত পৌঁছাতে একাধিকবার পরিবহন করতে হয়। ফলে বাড়তি ভাড়ার প্রভাব পড়ছে পাইকারি বাজারেও। পাশাপাশি নওগাঁসহ বিভিন্ন মোকামে ধানের দাম বৃদ্ধির কারণে মিলমালিকেরা ৫০ কেজির বস্তাপ্রতি কাটারি চালের দাম ৫০ টাকা বাড়িয়েছেন।
তবে খুচরা বিক্রেতাদের অভিযোগ, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির অজুহাতে পাইকারি পর্যায়ে চালের দাম তুলনামূলক বেশি বাড়ানো হচ্ছে। বাজারে যথাযথ তদারকি না থাকায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন তারা।
চালের পাশাপাশি অন্যান্য নিত্যপণ্যের দামও ঊর্ধ্বমুখী। গত এক সপ্তাহে দেশি পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে ৫৫ থেকে ৬০ টাকায় পৌঁছেছে। রসুনের দামও কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে। অন্যদিকে, বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ সংকটের কথা উল্লেখ করে গত দুই সপ্তাহে খোলা সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৫ টাকা বাড়িয়েছেন বিক্রেতারা।
আমিষের বাজারেও ক্রেতাদের জন্য স্বস্তির খবর নেই। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকায়। ফার্মের মুরগির ডিমের দাম প্রতি ডজন ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকা। ফলে চালসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাড়তি দামের চাপে সীমিত ও মধ্যম আয়ের মানুষের সংসার চালানো ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে।



