চারটি কমলার দাম ৫০ হাজার টাকা, নিলামের আড়ালে মাদরাসার প্রতি সহযোগিতার গল্প

চারটি কমলা। দেখতে আর দশটি কমলার মতোই সাধারণ। কিন্তু নিলামে উঠতেই সেই চারটি কমলার দাম গিয়ে ঠেকল ৫০ হাজার টাকায়। ঘটনাটি ঘটেছে মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নের মরিচা মাদরাসার ওয়াজ মাহফিলে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) রাতে আয়োজিত ওই মাহফিলে মাদরাসার সহযোগিতার জন্য বিভিন্ন ফল নিলামে তোলা হয়। সেখানেই চারটি কমলা নিয়ে শুরু হয় দর হাঁকাহাঁকি। মাত্র ৫ হাজার টাকা থেকে শুরু হওয়া নিলাম একপর্যায়ে পৌঁছে যায় ৫০ হাজার টাকায়। শেষ পর্যন্ত সর্বোচ্চ দর হাঁকিয়ে কমলাগুলো কিনে নেন যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী আব্দুল মালিক রুকন। তবে এই নিলামের গল্পটা শুধু চারটি কমলার অস্বাভাবিক দামের গল্প নয়। এর পেছনে ছিল একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে সহযোগিতার ইচ্ছা।
মাহফিলে উপস্থিত ব্যক্তিদের ভাষ্য, নিলামে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মূল উদ্দেশ্য ছিল মাদরাসার জন্য অর্থ সহায়তা করা। তাই ফলের প্রকৃত বাজারমূল্যের সঙ্গে নিলামের দামের কোনো সম্পর্ক ছিল না। বরং নিলামে দেওয়া অর্থকে তারা মাদরাসার প্রতি নিজেদের সহযোগিতা হিসেবে দেখেছেন।
আব্দুল মালিক রুকনের ছেলে আব্দুল আজিজ সালমান জানান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতার বিষয়টি বিবেচনা করেই তাঁর বাবা চারটি কমলা কিনেছেন। শুধু নিলামে অংশ নেওয়াই নয়, মাদরাসাটিকে নিয়মিত সহযোগিতা করার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি। বছরে ৩৬ হাজার টাকা করে মাদরাসাটিকে সহযোগিতা করার কথা জানিয়েছেন আব্দুল মালিক রুকন।
মরিচা মাদরাসার সভাপতি সোলেমান আহমেদ ও মুহতামিম হাফিজ মাওলানা ফখরুল ইসলাম শাহীন জানান, কয়েক বছর ধরে ওয়াজ মাহফিলকে ঘিরে মাদরাসার সহযোগিতার জন্য বিভিন্ন ফল নিলামে তোলা হয়। এবারও সেই ধারাবাহিকতায় কমলা ও খেজুর নিলামে ওঠে।
চারটি কমলা ৫০ হাজার টাকায় বিক্রির পাশাপাশি আধা কেজি খেজুরও নিলামে তোলা হয়। সেটির দামও স্বাভাবিক বাজারদরের তুলনায় অনেক বেশি উঠে ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি হয়।
মাদরাসা কর্তৃপক্ষের মতে, এসব ফলের দাম এত বেশি ওঠার পেছনে মূল বিষয় হলো সহযোগিতার মানসিকতা। নিলামে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা মাদরাসার শুভাকাঙ্ক্ষী। প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন কার্যক্রম ও উন্নয়নে তাঁরা আগেও সহযোগিতা করেছেন।
ফলে ৫০ হাজার টাকার চারটি কমলা কিংবা ১৫ হাজার টাকার আধা কেজি খেজুর—দাম দিয়ে দেখলে ঘটনাটি বিস্ময়কর। কিন্তু নিলামের উদ্দেশ্য বুঝলে এর পেছনে থাকা বিষয়টি কিছুটা ভিন্ন। এখানে ফল কেনার চেয়ে বড় হয়ে উঠেছে একটি প্রতিষ্ঠানের পাশে দাঁড়ানোর ইচ্ছা। সেই সহযোগিতার প্রতীক হিসেবেই হয়তো সাধারণ চারটি কমলা হয়ে উঠেছে ৫০ হাজার টাকার।



