পারফিউম ছাড়াই শরীরের গন্ধ হবে আকর্ষণীয়, কোন খাবারে বাড়ে আকর্ষণীয় ঘ্রাণ?

প্রত্যেক মানুষের শরীরের নিজস্ব একটি গন্ধ রয়েছে। কারও শরীরের স্বাভাবিক গন্ধ মিষ্টি ও কোমল, আবার কারও ক্ষেত্রে তা তুলনামূলক তীব্র। এই গন্ধের পেছনে জিন, বয়স, হরমোন, স্বাস্থ্য, পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশের মতো নানা বিষয় কাজ করে। তবে এর সঙ্গে খাবারেরও রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক।
আমরা প্রতিদিন যে খাবারগুলো খাই, সেগুলোর কিছু উপাদান শরীরে বিপাকের পর ঘাম, নিঃশ্বাস ও ত্বকের মাধ্যমে বাইরে বের হতে পারে। ফলে বদলে যেতে পারে শরীরের স্বাভাবিক গন্ধ। গবেষণায় এমন কিছু খাবারের কথাও উঠে এসেছে, যেগুলো শরীরের ঘ্রাণকে তুলনামূলকভাবে আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে।

ফল ও সবজিতে হতে পারে সতেজ ঘ্রাণ
শরীরের গন্ধের সঙ্গে খাদ্যাভ্যাসের সম্পর্ক নিয়ে করা গবেষণাগুলোতে ফল ও সবজির ইতিবাচক প্রভাবের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। বিশেষ করে গাজর, টমেটো, কুমড়া, পেঁপের মতো ক্যারোটিনয়েডসমৃদ্ধ খাবার ত্বক ও শরীরের সামগ্রিক অবস্থায় ভূমিকা রাখতে পারে।
ফল ও সবজিতে থাকা বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ উপাদান শরীরের বিপাকক্রিয়ায় প্রভাব ফেলে। ফলে ঘামের গন্ধও তুলনামূলকভাবে মৃদু ও মনোরম হতে পারে। বিপরীতে, খাদ্যতালিকায় যদি ফল ও সবজির পরিমাণ কম থাকে এবং কার্বোহাইড্রেটনির্ভর খাবারের আধিক্য থাকে, তাহলে শরীরের গন্ধে তার প্রভাব পড়তে পারে। তাই শরীর ভালো রাখার পাশাপাশি স্বাভাবিক ঘ্রাণের জন্যও প্রতিদিনের খাবারে পর্যাপ্ত ফল ও সবজি রাখা উপকারী।
রসুনের গন্ধ নিয়ে রয়েছে চমক

রসুনের নিজস্ব গন্ধ বেশ তীব্র। তাই রসুন খাওয়ার পর মুখের গন্ধ নিয়ে অনেকেই অস্বস্তিতে পড়েন। কিন্তু শরীরের ঘামের গন্ধের ক্ষেত্রে বিষয়টি কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, রসুন খাওয়া ব্যক্তিদের ঘামের গন্ধ কিছু ক্ষেত্রে অন্যদের কাছে তুলনামূলকভাবে বেশি আকর্ষণীয় মনে হয়েছে। এর পেছনে রসুনে থাকা বিভিন্ন সালফারযুক্ত যৌগ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদানের ভূমিকা থাকতে পারে।
অর্থাৎ, রসুনের গন্ধ মুখে অস্বস্তিকর লাগলেও শরীরের স্বাভাবিক ঘ্রাণের ক্ষেত্রে এর প্রভাব সবসময় নেতিবাচক নাও হতে পারে।
সবজি খেলে ঘ্রাণে কী পরিবর্তন আসে?
ফুলকপি, বাঁধাকপি, ব্রকলি, শালগমের মতো সবজিতে সালফারযুক্ত যৌগ থাকে। এসব খাবার খেলে কারও কারও ঘাম বা নিঃশ্বাসে সাময়িকভাবে একটু তীব্র গন্ধ তৈরি হতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে এসব সবজি শরীরের জন্য খারাপ।
বরং এসব সবজি ভিটামিন, খনিজ, আঁশ ও বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ উপাদানের ভালো উৎস। শরীরের সামগ্রিক সুস্থতার জন্য এগুলো খাদ্যতালিকায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। তাই শুধু গন্ধের কথা ভেবে এসব পুষ্টিকর খাবার বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
মাংস বেশি খেলে কি গন্ধ বাড়ে?

খাদ্যাভ্যাস ও শরীরের গন্ধ নিয়ে করা কিছু গবেষণায় মাংস খাওয়ার সঙ্গে ঘামের গন্ধের পার্থক্যের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। বিশেষ করে একটি গবেষণায় দেখা যায়, কিছুদিন মাংস না খাওয়া ব্যক্তিদের শরীরের গন্ধ অন্যদের কাছে তুলনামূলকভাবে মনোরম মনে হয়েছিল।
এর সম্ভাব্য কারণ হিসেবে মাংস হজম ও বিপাকের সময় তৈরি হওয়া কিছু যৌগের কথা বলা হয়, যেগুলো শরীরের ঘ্রাণে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এর অর্থ মাংস সম্পূর্ণ বাদ দিতে হবে—এমন নয়। শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী পরিমিত মাছ, মাংস, ডিমসহ বিভিন্ন উৎসের প্রোটিন খাদ্যতালিকায় রাখা জরুরি।
চা-কফির ক্ষেত্রেও আছে প্রভাব

চা ও কফি অনেকের দৈনন্দিন জীবনের অংশ। তবে ক্যাফেইন শরীরকে কিছুটা উদ্দীপিত করে এবং ঘাম বাড়াতে পারে। ফলে বেশি পরিমাণে চা বা কফি পান করলে ঘামের মাধ্যমে শরীরের গন্ধ কিছুটা বেশি অনুভূত হতে পারে। এ ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত পানি পান করাও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ শরীরে পানির ঘাটতি হলে ঘামের ঘনত্ব ও গন্ধে পরিবর্তন আসতে পারে।
শরীরের গন্ধ একেবারেই খাবারের ওপর নির্ভর করে—বিষয়টি এমন নয়। জিন, হরমোন, পরিচ্ছন্নতা, ঘাম, বয়স, স্বাস্থ্য ও জীবনযাপন—সবকিছুর সম্মিলিত প্রভাবেই মানুষের স্বাভাবিক শরীরের গন্ধ তৈরি হয়। তবে খাবার যে সেই ঘ্রাণে কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে, তার প্রমাণ গবেষণায় পাওয়া গেছে। তাই শরীরের স্বাভাবিক গন্ধকে সতেজ রাখতে সবচেয়ে ভালো উপায় হলো সুষম খাবার খাওয়া—পর্যাপ্ত ফল ও সবজি, প্রয়োজনীয় প্রোটিন, পর্যাপ্ত পানি এবং পরিমিত চা-কফি।
অর্থাৎ, আকর্ষণীয় ঘ্রাণের জন্য কোনো বিশেষ ‘জাদুর খাবার’ নেই। বরং নিয়মিত স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসই শরীর ও স্বাভাবিক ঘ্রাণ—দুটোকেই ভালো রাখার সবচেয়ে সহজ পথ।



