৭ অক্টোবর, ২০২৬ | বুধবারবাংলা: ২২ আশ্বিন ১৪৩৩
জীবনযাপন

শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ৭ পুষ্টিকর খাবার

images (5)

শিশুর শারীরিক বৃদ্ধির পাশাপাশি মস্তিষ্কের সঠিক বিকাশের জন্যও সুষম ও পুষ্টিকর খাবার গুরুত্বপূর্ণ। ছোটবেলা থেকেই প্রয়োজনীয় প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর চর্বি, ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা শিশুর সামগ্রিক বিকাশে সহায়ক হতে পারে। বিশেষ করে মস্তিষ্কের গঠন ও স্বাভাবিক কার্যক্রমের জন্য কিছু খাবার গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি সরবরাহ করে।

তবে কোনো একটি খাবার খেলেই শিশুর বুদ্ধি বা স্মৃতিশক্তি হঠাৎ বেড়ে যাবে—এমন ধারণা ঠিক নয়। বরং বিভিন্ন ধরনের পুষ্টিকর খাবার নিয়মিত ও পরিমিত পরিমাণে খাদ্যতালিকায় রাখা এবং বয়স অনুযায়ী সুষম খাবার নিশ্চিত করাই গুরুত্বপূর্ণ। শিশুর খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন এমন কয়েকটি খাবার হলো—

চর্বিযুক্ত মাছ

স্যামন, সার্ডিন, ম্যাকারেল বা দেশীয় কিছু সামুদ্রিক ও তৈলাক্ত মাছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড পাওয়া যায়। মস্তিষ্কের কোষ ও স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক গঠনে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি মাছ ভালো মানের প্রোটিনও সরবরাহ করে। তাই শিশুর বয়স ও খাবার গ্রহণের উপযোগিতা অনুযায়ী খাদ্যতালিকায় মাছ রাখা যেতে পারে।

শিশুকে মাছ খাওয়ানোর সময় কাঁটা ভালোভাবে বেছে দিতে হবে। মাছটি ভালোভাবে রান্না করাও জরুরি।

বেরি জাতীয় ফল

Advertisements

ব্লুবেরি, স্ট্রবেরি, ব্ল্যাকবেরির মতো বেরি জাতীয় ফলে বিভিন্ন ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও উদ্ভিজ্জ পুষ্টি উপাদান থাকে। এসব উপাদান শরীরের কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে সুরক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি ফলগুলোতে থাকা ভিটামিন ও ফাইবার শিশুর সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।

দেশে সহজে পাওয়া মৌসুমি ফলও শিশুর খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে। তাই শুধু বিদেশি বেরির ওপর নির্ভর করার প্রয়োজন নেই।

সবুজ শাকসবজি

পালং শাক, ব্রকলি, লালশাকসহ বিভিন্ন সবুজ শাকসবজিতে ফোলেট, ভিটামিন কে, বিটা-ক্যারোটিন, ভিটামিন সি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায়। এসব পুষ্টি শিশুর সামগ্রিক বৃদ্ধি ও শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে ভূমিকা রাখে।

শিশু শাকসবজি খেতে না চাইলে ডিম, মাছ বা অন্যান্য পছন্দের খাবারের সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া যেতে পারে। এতে প্রতিদিনের খাবারে সবজির পরিমাণ বাড়ানো সহজ হয়।

বাদাম ও বীজ

আখরোট, কাঠবাদাম, কাজুবাদাম, কুমড়ার বীজ ও সূর্যমুখীর বীজে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, প্রোটিন, ভিটামিন ই ও বিভিন্ন খনিজ উপাদান রয়েছে। আখরোটে বিশেষ করে উদ্ভিজ্জ উৎসের ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড পাওয়া যায়।

তবে ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে গোটা বাদাম খাওয়ানো ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, কারণ এতে শ্বাসনালিতে আটকে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। বয়স অনুযায়ী বাদাম গুঁড়া করে, পেস্ট বা মাখন হিসেবে দেওয়া নিরাপদ হতে পারে।

ডিম

ডিম সহজলভ্য এবং পুষ্টিকর একটি খাবার। এতে উচ্চমানের প্রোটিনের পাশাপাশি কোলিনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান থাকে। কোলিন মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং শিশুর বিকাশের সময় এটি প্রয়োজনীয় একটি পুষ্টি উপাদান।

ডিমের কুসুমেও কোলিনসহ বেশ কিছু পুষ্টি রয়েছে। তাই শিশুর বয়স ও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ডিমকে নিয়মিত খাদ্যতালিকার অংশ করা যেতে পারে।

ডার্ক চকোলেট

কোকোসমৃদ্ধ ডার্ক চকোলেটে ফ্লাভোনয়েড নামের উদ্ভিজ্জ যৌগ থাকে। কোকোর কিছু উপাদান রক্তনালির স্বাভাবিক কার্যক্রম ও রক্তপ্রবাহের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে গবেষণায় দেখা গেছে। তবে ডার্ক চকোলেটকে শিশুর বুদ্ধি বাড়ানোর বিশেষ খাবার হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

শিশুকে চকোলেট দেওয়ার ক্ষেত্রে পরিমাণের দিকে খেয়াল রাখা জরুরি। কারণ অনেক চকোলেটে চিনি ও ক্যালরির পরিমাণ বেশি থাকে। তাই বেশি পরিমাণে না দিয়ে কোকোর পরিমাণ বেশি এবং তুলনামূলক কম চিনি থাকা পণ্য বেছে নেওয়া ভালো।

দুধ ও দই

দুধ ও দই শিশুর জন্য প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন বি১২সহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পুষ্টির উৎস হতে পারে। ক্যালসিয়াম হাড় ও দাঁতের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ হলেও দুধ ও দুগ্ধজাত খাবারের অন্যান্য পুষ্টিও শিশুর সামগ্রিক বৃদ্ধি ও বিকাশে ভূমিকা রাখে।

চিনি মেশানো ফ্লেভারড দইয়ের বদলে সাধারণ দইয়ের সঙ্গে ফল মিশিয়ে দেওয়া যেতে পারে। এতে শিশুর খাবারে অতিরিক্ত চিনি কমানো সম্ভব।

শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশের জন্য শুধু নির্দিষ্ট কয়েকটি খাবারের ওপর নির্ভর না করে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় বৈচিত্র্য রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। মাছ, ডিম, শাকসবজি, ফল, দুধ বা দই, ডাল, বাদাম ও পূর্ণ শস্য—এসবের সমন্বয়ে সুষম খাবার শিশুর প্রয়োজনীয় পুষ্টি পূরণে সহায়তা করতে পারে।

Advertisements