র্যাশ ছাড়াই দীর্ঘদিন চুলকানি? যে ৪ রক্ত পরীক্ষা লাগতে পারে

মাঝেমধ্যে শরীরে চুলকানি হওয়া স্বাভাবিক। বিশেষ করে ত্বক শুষ্ক হয়ে গেলে এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে ত্বকে কোনো র্যাশ, দাগ বা ফুসকুড়ি না থাকলেও যদি দীর্ঘদিন ধরে সারা শরীরে চুলকানি হতে থাকে, তাহলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী চুলকানির পেছনে শুধু ত্বকের সমস্যা নয়, শরীরের ভেতরের অন্য কোনো সমস্যাও থাকতে পারে। তাই চুলকানি দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
চুলকানির পেছনে যেসব কারণ থাকতে পারে
ত্বকে লালচে দাগ, ফুসকুড়ি বা অতিরিক্ত শুষ্কতা থাকলে সাধারণত ত্বকের সমস্যার কারণেই চুলকানি হতে পারে। কিন্তু ত্বক দেখতে স্বাভাবিক থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন চুলকানি হলে লিভার, কিডনি বা থাইরয়েডের সমস্যার মতো বিভিন্ন কারণ বিবেচনা করা হয়।
লিভারের কিছু সমস্যায় বিশেষ করে হাতের তালু ও পায়ের পাতায় চুলকানি হতে পারে। কিডনির দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার ক্ষেত্রেও সারা শরীরে চুলকানি দেখা দিতে পারে। আবার থাইরয়েডের সমস্যা, আয়রনের ঘাটতি বা রক্তস্বল্পতার সঙ্গেও চুলকানির সম্পর্ক থাকতে পারে।
ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রেও ত্বক শুষ্ক হয়ে চুলকানি দেখা দিতে পারে। তবে শুধু চুলকানি দেখে কোনো নির্দিষ্ট রোগের সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
চুলকানি দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশেষ করে নিচের লক্ষণগুলো থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি—
- ছয় সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চুলকানি থাকলে।
- চুলকানির সঙ্গে চোখ বা ত্বক হলুদ হয়ে গেলে।
- কোনো কারণ ছাড়াই ওজন কমতে থাকলে।
- রাতে অতিরিক্ত ঘাম বা জ্বর হলে।
- গলা বা শরীরের অন্য কোথাও গ্রন্থি ফুলে উঠলে।
যে ৪টি রক্ত পরীক্ষা করা হতে পারে
দীর্ঘস্থায়ী চুলকানির কারণ অনুসন্ধানে চিকিৎসক রোগীর উপসর্গ ও শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে কিছু রক্ত পরীক্ষা দিতে পারেন। এর মধ্যে রয়েছে—
১. লিভার ফাংশন টেস্ট (LFT): লিভারের কার্যকারিতা ও কিছু লিভার-সংক্রান্ত সমস্যার ইঙ্গিত পেতে এই পরীক্ষা করা হয়।
২. কিডনি ফাংশন টেস্ট: কিডনির কার্যকারিতা সম্পর্কে ধারণা পেতে এই পরীক্ষা করা হয়।
৩. থাইরয়েড পরীক্ষা: থাইরয়েডের কার্যকারিতায় কোনো অস্বাভাবিকতা রয়েছে কি না, তা দেখতে পরীক্ষা করা হতে পারে।
৪. কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট (CBC): রক্তস্বল্পতা বা রক্তের বিভিন্ন অস্বাভাবিকতা শনাক্তে এই পরীক্ষা সহায়ক হতে পারে।
তবে সবার জন্য একই পরীক্ষা প্রয়োজন হয় না। দীর্ঘদিন ধরে চুলকানি থাকলে নিজে থেকে পরীক্ষা না করিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানোই ভালো। কারণ চুলকানির কারণ নির্ভর করে বয়স, অন্যান্য উপসর্গ, ওষুধ সেবন এবং শারীরিক অবস্থাসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর।



