ব্ল্যাক আইভরি ও কোপি লুওয়াক: মলে তৈরি কফির দাম কেন লাখ টাকা?

কফি মানেই মন চনমনে করা সুবাস আর স্বাদের অনন্য এক তৃপ্তি। তবে বিশ্বজুড়ে এমন কিছু কফি রয়েছে, যেগুলোর উৎপাদন প্রক্রিয়া জানলে চমকে উঠতে পারেন যে কেউ। এর মধ্যে অন্যতম ‘ব্ল্যাক আইভরি’ ও ‘কোপি লুওয়াক’। কফিপ্রেমীদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত ও বিরল এই কফি দুটি তৈরি হয় যথাক্রমে হাতি এবং গন্ধগোকুলের (পাম সিভেট) মল থেকে সংগৃহীত কফি বিন প্রক্রিয়াজাত করে।
থাইল্যান্ডে তৈরি হয় বিশেষ ধরনের ‘ব্ল্যাক আইভরি কফি’। এই কফি তৈরির প্রক্রিয়ায় উচ্চমানের আরাবিকা কফি চেরি মিশিয়ে দেওয়া হয় হাতির খাবারের সঙ্গে। হাতি খাবার গ্রহণের প্রায় ১৫ থেকে ১৭ ঘণ্টা পর তা মল হিসেবে ত্যাগ করে। পরে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সেই মল থেকে কফির আস্ত বিনগুলো আলাদা করা হয়। এরপর ভালোভাবে ধোয়া, রোদে শুকানো ও নির্দিষ্ট তাপে ভাজার (রোস্টিং) কয়েকটি ধাপ পেরিয়ে তৈরি হয় বিলাসবহুল এই কফি।
বিশ্বের সবচেয়ে দামী ব্ল্যাক আইভরি কফি। ব্লুমবার্গ
বিশেষজ্ঞদের মতে, হাতির পরিপাকতন্ত্রের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় পাকস্থলীর অ্যাসিড ও বিশেষ এনজাইম কফি বিনের ভেতরের প্রোটিন ভেঙে ফেলে। এর ফলে কফির স্বভাবজাত তিক্ত বা তেতো স্বাদ অনেকটাই কমে যায় এবং এতে চকোলেট, ক্যারামেল ও হালকা মাটির মিষ্টি সুবাস তৈরি হয়। তবে প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত শ্রমসাধ্য হওয়ায় এর উৎপাদন যেমন সীমিত, দামও তেমনি চড়া। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি কেজি ব্ল্যাক আইভরি কফির দাম প্রায় পৌনে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত ওঠে। এমনকি বিলাসবহুল রেস্তোরাঁয় কেবল এক কাপ কফির জন্যই গুনতে হয় কয়েক হাজার টাকা।
গন্ধগোকুলের মল থেকে সংগ্রহ করা হয় ’কোপি লুওয়াক’। সংগৃহীত
এদিকে ইন্দোনেশিয়ার বিশ্বখ্যাত ‘কোপি লুওয়াক’ তৈরি হয় এশিয়ান পাম সিভেট বা গন্ধগোকুলের মল থেকে। স্থানীয় ভাষায় ‘কোপি’ শব্দের অর্থ কফি এবং ‘লুওয়াক’ বলা হয় গন্ধগোকুলকে। বিড়ালসদৃশ এই নিশাচর স্তন্যপায়ী প্রাণীটি কফি গাছের সবচেয়ে সেরা ও পাকা চেরিগুলো বেছে বেছে খায়। ফলের মাংসল অংশ হজম হলেও কফির শক্ত বীজটি আস্ত অবস্থাতেই মলের সঙ্গে বেরিয়ে আসে।

গন্ধগোকুলের পরিপাকতন্ত্রের এনজাইম কফি বিনের গঠনে বিশেষ পরিবর্তন আনে, যা এর অ্যাসিডিক তীব্রতা কমিয়ে একধরনের কোমল ও অনন্য স্বাদ তৈরি করে। সংগৃহীত মল থেকে বীজ আলাদা করে সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে পরিষ্কার ও শুকিয়ে তৈরি হয় বিখ্যাত এই কোপি লুওয়াক। দুষ্প্রাপ্যতা ও জটিল প্রক্রিয়ার কারণে বৈশ্বিক বাজারে প্রতি পাউন্ড কোপি লুওয়াকের দাম হাঁকা হয় কয়েক শ মার্কিন ডলার। অদ্ভুত উৎপাদন প্রক্রিয়া আর অতুলনীয় স্বাদের কারণে বিশ্বজুড়ে এই কফিগুলো এখন কৌতুহল আর আভিজাত্যের প্রতীক।



