৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | বুধবারবাংলা: ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩
শিক্ষা

শুধু প্রথম শ্রেণি নয়, পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত লটারিতে ভর্তি হতে পারে শিক্ষার্থীরা

school-20260922054226

ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে ছোটদের দুশ্চিন্তা আর কোচিংয়ের দৌড়ঝাঁপ- প্রাথমিক স্তরে হয়তো আবারও সেই বাস্তবতা থেকে দূরে রাখার পরিকল্পনা করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শুধু প্রথম শ্রেণি নয়, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রাথমিকের প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থী ভর্তি লটারির মাধ্যমে করার কথা ভাবা হচ্ছে। ফলে প্রাথমিক স্তরে কোনো ভর্তি পরীক্ষাই না থাকার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

শিক্ষা বিভাগের ঊর্ধ্বতন দুটি সূত্র জানিয়েছে, এ বিষয়ে নীতিনির্ধারকেরা পর্যালোচনা করছেন। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ভর্তি করা হবে লটারির মাধ্যমে। তবে মাধ্যমিক স্তরের অন্যান্য শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত আপাতত বহাল থাকবে।

এর আগে প্রথম শ্রেণির বাইরে অন্যান্য শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলে শিক্ষাবিদ ও শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অনেকেই আপত্তি জানিয়েছিলেন। তাঁদের আশঙ্কা ছিল, ছোট শিশুদের ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির চাপের মধ্যে পড়তে হবে। পাশাপাশি বাড়তে পারে কোচিং ও প্রাইভেটনির্ভরতা। এতে আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের শিশুরা আরও প্রতিযোগিতামূলক পরিস্থিতির মুখে পড়তে পারে।

শুধু তাই নয়, বিপুলসংখ্যক শিশুকে নিয়ে প্রতিবছর ভর্তি পরীক্ষা আয়োজন করাও শিক্ষা বিভাগের জন্য বড় ধরনের প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই প্রাথমিক স্তরের ভর্তি পদ্ধতি নিয়ে নতুন করে ভাবা হচ্ছে, বিষয়টি নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন গত সোমবার সচিবালয়ে প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা বিষয়টি পর্যালোচনা করছেন। শিক্ষাসংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

অবশ্য কয়েক মাস আগেও চিত্রটি ছিল ভিন্ন। গত মার্চে এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছিলেন, ভর্তি প্রক্রিয়ায় লটারির পরিবর্তে ভর্তি পরীক্ষা চালু করা হবে। সে সময় তিনি বলেছিলেন, ‘আমরা লটারি ব্যবস্থা প্রত্যাহার করলাম।’ এরপর থেকেই এ সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। বিশেষ করে প্রাথমিক স্তরে ভর্তি পরীক্ষা চালু হলে শিশুদের ওপর বাড়তি মানসিক চাপ তৈরি হতে পারে বলে মত দেন অনেক শিক্ষাবিদ। একই সঙ্গে ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে কোচিং বাণিজ্য এবং প্রাইভেট পড়ার প্রবণতা বাড়ার আশঙ্কাও সামনে আসে। এরই মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির নামে কোচিং কার্যক্রম শুরু হওয়ার খবরও পাওয়া যায়।

বাংলাদেশে বিদ্যালয়ে ভর্তি প্রক্রিয়ায় লটারি পদ্ধতির ব্যবহার অবশ্য নতুন নয়। ২০১১ শিক্ষাবর্ষ থেকে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের যেসব প্রতিষ্ঠানে প্রথম শ্রেণি রয়েছে, সেখানে ভর্তি পরীক্ষার পরিবর্তে লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি বাধ্যতামূলক করা হয়। পরের বছর বেসরকারি বিদ্যালয়েও একই পদ্ধতি চালু করা হয়। তবে দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তি পরীক্ষা তখনও চালু ছিল। করোনাভাইরাস মহামারির সময় পরিস্থিতি আরও বদলে যায়। ২০২১ শিক্ষাবর্ষে সব শ্রেণিতেই লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। পরবর্তী সময়েও এই পদ্ধতি অব্যাহত থাকে।

Advertisements

সম্প্রতি আবার ভর্তি পদ্ধতিতে পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর মধ্যে গত ৮ আগস্ট প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষার পরিবর্তে লটারি পদ্ধতি বহাল রাখার কথা জানানো হয়। এবার সেই পরিধি আরও বাড়িয়ে দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণিকেও লটারির আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। অর্থাৎ পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিকের পাঁচটি শ্রেণিতেই থাকবে না ভর্তি পরীক্ষার চাপ। শিক্ষার্থীদের ভর্তি হবে লটারির মাধ্যমে। আর মাধ্যমিক স্তরে থাকবে আলাদা ভর্তি প্রক্রিয়া।

তবে এখনো এটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিষয়টি পর্যালোচনা করছে এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত নেওয়ার পর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হওয়ার কথা। ভর্তি মৌসুম ঘনিয়ে আসায় এ বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

Advertisements