৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | বুধবারবাংলা: ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩
বিনোদন

বিবাহিত প্রকৌশলীর সঙ্গে সম্পর্ক, মৃত্যুর আগে কী ঘটেছিল নিধির জীবনে

IMG_5534

ভারতের মধ্যপ্রদেশের সিংগ্রৌলির পরিচিত মুখ নিধি তিওয়ারির মৃত্যু ঘিরে নানা প্রশ্ন উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয় এই তরুণীর মৃত্যুর আগের কয়েক ঘণ্টার ঘটনা, এক বিবাহিত প্রকৌশলীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ও শেষ ফোনালাপ নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

৩০ বছর বয়সী নিধি ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে নিয়মিত নাচের ভিডিও প্রকাশ করতেন। দুই প্ল্যাটফর্ম মিলিয়ে তাঁর অনুসারী ছিল প্রায় ১৬ লাখ। স্থানীয় অনুষ্ঠান ও সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার পাশাপাশি ২০২৪ সালে ‘মিস প্রিটি ইন্ডিয়া’ খেতাবও পেয়েছিলেন তিনি। অভিনয়ে কাজ করার স্বপ্ন ছিল তাঁর।

সিংগ্রৌলির ভুসা মোড় এলাকার বাড়ি থেকে নিধিকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর মৃত্যুর কারণ এবং শেষ কয়েক ঘণ্টায় কী ঘটেছিল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

নিধি আগে সিংগ্রৌলির মরওয়া এলাকার একটি হোটেলে রিসেপশনিস্ট হিসেবে কাজ করতেন। সেখানেই সোনু সিং নামের এক প্রকৌশলীর সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয় বলে পরিবারের দাবি। ওই ব্যক্তি একটি এনসিএল–সংশ্লিষ্ট আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন বলে জানা গেছে।

নিধির মা হেমলতা তিওয়ারির ভাষ্য, পরে তাঁরা জানতে পারেন ওই প্রকৌশলী বিবাহিত এবং তাঁর দুই সন্তান রয়েছে। এরপর নিধিকে তাঁর কাছ থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে পরিবারের অভিযোগ, এরপরও তাঁদের যোগাযোগ বন্ধ হয়নি। প্রকৌশলী নিধির ওপর নজর রাখতেন বলেও অভিযোগ করেছে পরিবার। এসব অভিযোগ এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই হয়নি।

নিধির মৃত্যুর আগের রাতের একটি ফোনালাপ তদন্তে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, সেদিন সন্ধ্যায় নিচতলায় পূজা করার পর নিজের ঘরে চলে যান নিধি। রাত প্রায় ৮টার দিকে ওই প্রকৌশলীর সঙ্গে তাঁর ফোনে কথা হয়। ওই সময় তাঁদের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়েছিল বলে দাবি করেছেন তাঁর মা। তবে ফোনালাপে ঠিক কী কথা হয়েছিল, তা এখনো নিশ্চিত করেনি পুলিশ।

Advertisements

ফোনালাপের পর নিধি ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেন। রাত ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে পরিবারের সদস্যরা দরজায় ধাক্কা দিলেও তিনি দরজা খোলেননি। বরং তাঁদের চলে যেতে বলেন। খাবারও নিতে চাননি বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

পরদিন সকালেও দরজা বন্ধ থাকায় পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ জানালা দিয়ে ঘরের ভেতর নিধিকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায়। দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও বাঁচানো যায়নি।

নিধির মৃত্যুর পর ওই প্রকৌশলীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের বিষয়টি সামনে আসে। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁর ভূমিকা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। মৃত্যুর পর ওই ব্যক্তির মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া গেছে এবং তাঁকে খুঁজছে পুলিশ বলে জানা গেছে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে—এমন তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। নিধির মৃত্যুর সঙ্গে তাঁর সরাসরি কোনো সম্পর্ক ছিল কি না, সেটিও তদন্তাধীন।

মৃত্যুর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টও দিয়েছিলেন নিধি। সেখানে নিজের ভেতরের শূন্যতা এবং নিজেকে ভালোবাসার কথা তুলে ধরেছিলেন তিনি। তবে ওই পোস্টের সঙ্গে তাঁর মৃত্যুর সরাসরি কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা পুলিশ এখনো নিশ্চিত করেনি।

পরিবারের বড় মেয়ে নিধি পরিবারের দায়িত্বও সামলাতেন বলে জানিয়েছেন তাঁর মা। সিংগ্রৌলির বাইধান এলাকায় পরিবারের জন্য একটি বড় বাড়ি নির্মাণ করছিলেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয়তার পাশাপাশি নিজের ক্যারিয়ার নিয়েও এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন।

নিধির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তাঁর কল রেকর্ড ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যক্রম বিশ্লেষণ করছে পুলিশ। মৃত্যুর আগে কার সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছিল, শেষ ফোনালাপে কী কথা হয়েছিল এবং পরিবারের অভিযোগের সঙ্গে এসব তথ্যের মিল আছে কি না—এসব বিষয় যাচাই করা হচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, পরিবারের অভিযোগগুলোও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত নিধির মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ কিংবা শেষ কয়েক ঘণ্টার পুরো ঘটনাপ্রবাহ নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফলে প্রকৌশলীর সঙ্গে নিধির সম্পর্কের সঙ্গে তাঁর মৃত্যুর কোনো যোগসূত্র ছিল কি না, সে বিষয়ে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।

Advertisements