‘সম্মান ছাড়া কোনো সম্পর্কই টেকে না’: রিচা চাড্ডা

বলিউডে রিচা চাড্ডা এমন একজন অভিনেত্রী, যিনি গ্ল্যামারের চেয়ে অভিনয়ের বৈচিত্র্য ও চরিত্রের গভীরতাকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। ভিন্নধর্মী গল্প ও চরিত্রে নিজেকে মেলে ধরার জন্য বরাবরই পরিশ্রম করেছেন তিনি। অভিনয়ের প্রতি এই নিষ্ঠার কারণেই তারকা খ্যাতির পাশাপাশি একজন দক্ষ অভিনেত্রী হিসেবেও দর্শকদের কাছে আলাদা জায়গা তৈরি করেছেন রিচা।
তবে বেশ কিছুদিন ধরে বড় পর্দায় নিয়মিত দেখা যাচ্ছে না তাকে। প্রিয় অভিনেত্রীকে দীর্ঘ সময় পর্দায় না পেয়ে ভক্তদের অনেকেই আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন। কিন্তু অভিনয় থেকে তার সাময়িক দূরে থাকার কারণ নিয়ে সরাসরি খুব বেশি কথা বলেননি রিচা।
ব্যক্তিজীবনে অভিনেতা আলি ফজলের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের পর ২০২২ সালে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হন রিচা। এরপর ২০২৪ সালে তাদের সংসারে আসে কন্যাসন্তান জুনেইরা ইদার। সন্তান জন্মের পর স্বাভাবিকভাবেই বদলে গেছে তাদের দৈনন্দিন জীবনযাপন। এখন তাদের বেশিরভাগ আলোচনা ও ব্যস্ততার বড় অংশজুড়ে থাকে সন্তান ও সংসার।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে দাম্পত্য জীবন নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন রিচা। তিনি জানান, আগে যেসব বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে বেশি আলোচনা হতো, এখন তার জায়গা নিয়েছে সংসারের নানা দায়িত্ব। কে কী করবেন, কোন খরচ কে বহন করবেন, চিঠিপত্র পাঠানো কিংবা বাড়িওয়ালার সঙ্গে যোগাযোগ—এসব বিষয়ই এখন তাদের দৈনন্দিন কথাবার্তার বড় অংশ।
রিচার মতে, প্রেমের সম্পর্ক আর দাম্পত্য জীবনের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই কিছু পার্থক্য তৈরি হয়। প্রেমিক-প্রেমিকা থেকে স্বামী-স্ত্রী হওয়ার পর একই ছাদের নিচে বসবাস করতে গিয়ে দুজনের অভ্যাস, মতামত ও চাহিদার পার্থক্য আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ফলে শুধু ভালোবাসা থাকলেই একটি সম্পর্ক দীর্ঘদিন সুন্দরভাবে টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়।
এই জায়গায় পারস্পারিক সম্মান ও বিশ্বাসকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন রিচা। তার ভাষায়, সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই দুটি বিষয় নিয়ে কোনো ধরনের আপস করতে চান না তিনি। তার কাছে বিশ্বাসের অর্থ শুধু জীবনসঙ্গী অন্য কারও সঙ্গে সম্পর্কে জড়াবেন না—এমন নিশ্চয়তা নয়। বরং প্রয়োজনের সময়ে পাশে থাকার বিষয়টিও বিশ্বাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
অভিনেত্রীর মতে, দাম্পত্য জীবনে নানা ধরনের মতবিরোধ বা কঠিন পরিস্থিতি আসতেই পারে। কিন্তু একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা ও আস্থা থাকলে সেসব পরিস্থিতি সামলে নেওয়া সম্ভব। তাদের নিজেদের সম্পর্কের ক্ষেত্রেও পারস্পারিক সম্মান ও বিশ্বাসই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মনে করেন তিনি।
রিচা ও আলি গত কয়েক বছরে শুধু প্রেমিক-প্রেমিকা থেকে স্বামী-স্ত্রীই হননি, বাবা-মায়ের ভূমিকাতেও নিজেদের মানিয়ে নিয়েছেন। সন্তান আসার পর তাদের জীবনযাত্রায় বড় পরিবর্তন এলেও এই সময়টাকেই জীবনের অন্যতম সুন্দর অধ্যায় হিসেবে দেখছেন তারা।
রিচার মতে, সম্পর্ককে সুন্দর ও স্থায়ী রাখার জন্য ভালোবাসার পাশাপাশি একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ থাকা জরুরি। কারণ কোনো সম্পর্কে সম্মান হারিয়ে গেলে সেই সম্পর্কের ভিত্তিও ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ে।
অভিনেত্রী স্পষ্ট করে বলেন, যে সম্পর্কে সম্মান নেই, সেটি দীর্ঘদিন টিকে থাকা কঠিন। আর প্রতারণা কিংবা গুরুতর কোনো ভুল সম্পর্কের মধ্যে ঘটলে তখন সেই সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।



