২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | সোমবারবাংলা: ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩
নারী

একের পর এক নারীর মরদেহ, দক্ষিণ আফ্রিকায় ‘সিরিয়াল কিলার’ আতঙ্ক

da

একজন, দুজন নয়—জোহানেসবার্গের পূর্বাঞ্চলে কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে উদ্ধার হয়েছে ১১ নারীর মরদেহ। একের পর এক মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় দক্ষিণ আফ্রিকার ইকুরহুলেনি এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্ক। এসব হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কোনো সিরিয়াল কিলার বা সংঘবদ্ধ চক্র রয়েছে কি না, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর তদন্ত। তবে এখনো সব হত্যাকাণ্ডের মধ্যে সরাসরি যোগসূত্রের প্রমাণ পায়নি পুলিশ।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ইকুরহুলেনি পৌর এলাকার একটি খোলা মাঠ থেকে আরও এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। টহলরত একটি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা মরদেহটি দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার ব্রেন্ডা মুরিদিলি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তবে ওই নারীর পরিচয়, বয়স কিংবা কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে—তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

এর ঠিক এক দিন আগে, শনিবার একই পৌর এলাকার একটি কবরস্থানের কাছে অর্ধনগ্ন অবস্থায় আরেক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাদেশিক পুলিশপ্রধান টমি মথোমবেনির ভাষ্য অনুযায়ী, ওই নারীকে পাথর দিয়ে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে ময়নাতদন্তের অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ।

শনিবারের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরের একটি এলাকা থেকে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নতুন এই গ্রেপ্তারের পর ধারাবাহিক নারী হত্যার ঘটনায় পুলিশের হেফাজতে থাকা সন্দেহভাজনের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে চারজনে।

তবে তদন্তে নতুন মোড় এলেও রহস্য কাটছে না। গত ১৭ সেপ্টেম্বর উদ্ধার হওয়া নবম নারীর মরদেহের ঘটনায় এরই মধ্যে দুই নারীকে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ওই হত্যার পেছনে ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিষয় জড়িত থাকতে পারে।

Advertisements

প্রাদেশিক পুলিশপ্রধান মথোমবেনি অবশ্য মনে করছেন, নবম হত্যাকাণ্ডটি অন্য ঘটনাগুলো থেকে আলাদা হতে পারে। একই সঙ্গে আরও কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের মধ্যে সম্ভাব্য যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশের ভাষ্য, ঘটনাগুলোর মধ্যে কিছু মিল চোখে পড়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত এমন কোনো চূড়ান্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি, যার ভিত্তিতে নিশ্চিতভাবে বলা যায়—সব হত্যাকাণ্ডের পেছনে একই ব্যক্তি বা গোষ্ঠী রয়েছে।

ঘটনাগুলোর পরিসরও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। ইকুরহুলেনি এলাকায় জুলাই ও আগস্টে মাত্র ছয় কিলোমিটারের মধ্যে তিন নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। এরপর সেপ্টেম্বরের শুরুতে মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে একই এলাকায় আরও ছয়টি মরদেহ পাওয়া যায়।

শনিবারের মরদেহ উদ্ধারের আগ পর্যন্ত নিহত নারীদের বয়স ছিল ২০ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। তাদের কয়েকজনকে পুরোপুরি কিংবা আংশিক নগ্ন অবস্থায় পাওয়া গেছে। জুলাইয়ের মাঝামাঝি উদ্ধার হওয়া প্রথম মরদেহটির শরীর তার দিয়ে বাঁধা ছিল। ওই ঘটনায় নিহত নারীর প্রেমিককে গ্রেপ্তার করা হলেও পরে তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হয়নি। এদিকে, দক্ষিণ আফ্রিকায় নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বহুদিন ধরেই বড় সামাজিক উদ্বেগের বিষয়। দেশটিতে নারীদের হত্যার ঘটনাও উচ্চহারে ঘটে থাকে। সাম্প্রতিক ধারাবাহিক মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সেই উদ্বেগ আরও তীব্র হয়েছে।

শনিবার দশম নারীর মরদেহ উদ্ধারের পর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা। নারীদের হত্যার ঘটনাকে দেশের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।

এখন তদন্তকারীদের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—এগুলো কি বিচ্ছিন্ন কিছু হত্যাকাণ্ড, নাকি একই অপরাধী কিংবা চক্রের পরিকল্পিত হামলা? সেই উত্তর খুঁজতেই তদন্ত এগিয়ে নিচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকার পুলিশ।

Advertisements