২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | সোমবারবাংলা: ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩
নারী

মারা গেছেন মাহাথির মোহাম্মদের স্ত্রী সিতি হাসমাহ

sa_125.1790569557

শতবর্ষের দীর্ঘ জীবনের ইতি টানলেন মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদের স্ত্রী তুন ড. সিতি হাসমাহ মোহাম্মদ আলী। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) কুয়ালালামপুরের ন্যাশনাল হার্ট ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ১০০ বছর।

হংকংভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট পরিবারের বরাত দিয়ে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। তবে ঠিক কী কারণে তার মৃত্যু হয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানানো হয়নি।

সিতি হাসমাহ শুধু মাহাথির মোহাম্মদের জীবনসঙ্গী হিসেবেই পরিচিত ছিলেন না; মালয়েশিয়ার চিকিৎসা ও জনস্বাস্থ্য খাতেও তার ছিল গুরুত্বপূর্ণ অবদান। দেশটির প্রথমদিকের মালয় নারী চিকিৎসকদের অন্যতম ছিলেন তিনি। চিকিৎসাবিজ্ঞানে পড়াশোনা শেষ করার পর কর্মজীবনের দীর্ঘ সময় কাটিয়েছেন চিকিৎসা, জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে। বিশেষ করে গ্রামীণ অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া এবং মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় তার ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। চিকিৎসক হিসেবে কর্মজীবনের পাশাপাশি সমাজের পিছিয়ে থাকা মানুষের জন্যও বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগে যুক্ত ছিলেন তিনি।

১৯৫৬ সালে মাহাথির মোহাম্মদের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন সিতি হাসমাহ। এরপর দীর্ঘ পথচলায় তিনি হয়ে ওঠেন মাহাথিরের জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সঙ্গী। মাহাথির মোহাম্মদের দুই দফা প্রধানমন্ত্রিত্বের সময় দেশটির ফার্স্ট লেডি হিসেবে জনপরিসরেও তার উপস্থিতি ছিল দৃশ্যমান। ফার্স্ট লেডি হিসেবে আনুষ্ঠানিক ভূমিকার বাইরে নারী, শিশু ও জনস্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করতেও সক্রিয় ছিলেন তিনি। ফলে মালয়েশিয়ার মানুষের কাছে তিনি কেবল একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী নন, বরং চিকিৎসক ও সমাজসেবী হিসেবেও আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছিলেন।

দীর্ঘ ১০০ বছরের জীবনে চিকিৎসা পেশা, জনসেবা, পরিবার ও রাষ্ট্রীয় জীবনের নানা অধ্যায়ের সাক্ষী হয়েছেন সিতি হাসমাহ। তার প্রয়াণে মালয়েশিয়ায় শোকের আবহ নেমে এসেছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তার মৃত্যুতে শোক ও শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে।

একজন চিকিৎসক, জনস্বাস্থ্যকর্মী এবং মালয়েশিয়ার সাবেক ফার্স্ট লেডি হিসেবে সিতি হাসমাহর দীর্ঘ কর্মময় জীবনের পর্দা নামল শতবর্ষের দোরগোড়ায় এসে।

Advertisements
Advertisements