২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | রবিবারবাংলা: ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
রূপ-সৌন্দর্য

জ্বরের ধকল কাটলেও ফিরছে না ত্বকের উজ্জ্বলতা? যা করবেন

image-653409-1678506561

সর্দি-জ্বরের সময় শরীরের দুর্বলতা, মাথাব্যথা কিংবা ক্ষুধামন্দা নিয়েই সাধারণত বেশি চিন্তা থাকে। কিন্তু অসুস্থতা কাটিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার পর অনেকের নজরে আসে আরেক ধরনের পরিবর্তন—ত্বক যেন প্রাণহীন হয়ে গেছে, ঠোঁট শুকিয়ে যাচ্ছে, মুখে ক্লান্তির ছাপ স্পষ্ট, আর চিরুনি চালালেই আগের তুলনায় বেশি চুল উঠে আসছে।

অসুস্থতার ধকল কাটিয়ে উঠতে শরীরকে সময় দিতে হয়। জ্বর, কম খাওয়া, পর্যাপ্ত পানি না পাওয়া এবং ঘুমের ব্যাঘাত ত্বক ও চুলের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। তাই জ্বর সেরে যাওয়ার পর হঠাৎ অনেক ধরনের প্রসাধনী ব্যবহার না করে বরং শরীরের স্বাভাবিক পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াকে সহায়তা করাই গুরুত্বপূর্ণ।

প্রথম কাজ, শরীরের পানিশূন্যতা কাটানো

জ্বরের সময় শরীরে তরলের ঘাটতি তৈরি হতে পারে। এর প্রভাব ত্বকে শুষ্কতা, টানটান ভাব বা নিস্তেজ চেহারা হিসেবে দেখা দিতে পারে। তাই অসুস্থতা থেকে সেরে ওঠার পর নিয়মিত পানি পান করা জরুরি।

শুধু পানি নয়, প্রয়োজন অনুযায়ী স্যুপ, ডাবের পানি বা ওরাল রিহাইড্রেশন সলিউশনও নেওয়া যেতে পারে। তবে কতটা তরল প্রয়োজন তা ব্যক্তির বয়স, শারীরিক অবস্থা ও পানিশূন্যতার মাত্রার ওপর নির্ভর করে।

সংগৃহীত

ত্বককে কিছুদিন ‘বিশ্রাম’ দিন

জ্বরের পর ত্বক সংবেদনশীল মনে হলে একসঙ্গে স্ক্রাব, পিলিং, শক্তিশালী অ্যাসিড বা নানা ধরনের নতুন প্রসাধনী ব্যবহার না করাই ভালো। মুখ পরিষ্কার করার জন্য মৃদু ক্লিনজার ব্যবহার করে এরপর একটি সাধারণ ময়েশ্চারাইজার লাগানো যেতে পারে।

ময়েশ্চারাইজারে গ্লিসারিন, সিরামাইড বা হায়ালুরোনিক অ্যাসিডের মতো আর্দ্রতা ধরে রাখতে সহায়ক উপাদান থাকলে ভালো। ত্বক খুব শুষ্ক হলে দিনে একাধিকবার ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা যায়।

Advertisements

এ সময় ত্বকের খসখসে অংশ জোর করে ঘষে তুলে ফেলার চেষ্টা না করাই ভালো। ত্বককে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে সময় দেওয়া প্রয়োজন।

ঠোঁট ও নাকের চারপাশে বাড়তি যত্ন

সর্দির সময় বারবার নাক মোছা এবং নাক বন্ধ থাকার কারণে মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়ার ফলে ঠোঁট ও নাকের চারপাশের ত্বক শুকিয়ে যেতে পারে। সেখানে ঘষাঘষি না করে পেট্রোলিয়াম জেলি বা সুগন্ধিবিহীন ময়েশ্চারাইজিং লিপ বাম ব্যবহার করা যেতে পারে।

নাকের চারপাশের ত্বক লাল বা জ্বালাপোড়া করলে একইভাবে মৃদু ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা যেতে পারে। জ্বালা বাড়লে নতুন কোনো প্রসাধনী ব্যবহার না করাই নিরাপদ।

চুল পড়া দেখলেই ভয় পাওয়ার কারণ নেই

জ্বর বা শরীরে বড় ধরনের শারীরিক চাপের কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস পর অনেকের চুল পড়া বেড়ে যেতে পারে। এর একটি পরিচিত কারণ হলো টেলোজেন এফ্লুভিয়াম। শরীরের ওপর চাপ পড়ার পর স্বাভাবিক চুলের বৃদ্ধি-চক্র সাময়িকভাবে বদলে যাওয়ায় এমনটা হতে পারে।

এ ধরনের চুল পড়া সাধারণত অসুস্থতার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় না। বরং জ্বর বা অসুস্থতার কিছু সময় পর চুল পড়া চোখে পড়তে পারে। ফলে জ্বর সেরে যাওয়ার পর হঠাৎ চিরুনিতে বেশি চুল দেখে অনেকে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।

এ সময় চুলে অতিরিক্ত টান দেওয়া, শক্ত করে বাঁধা, ঘন ঘন হিট দেওয়া বা রাসায়নিক প্রক্রিয়া করানো এড়িয়ে চলা ভালো।

চুলের জন্য দামি পণ্যের চেয়ে প্রয়োজন নিয়মিত যত্ন

চুল পরিষ্কার রাখতে প্রয়োজন অনুযায়ী মৃদু শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। শ্যাম্পু করার সময় মাথার ত্বকে নখ দিয়ে ঘষাঘষি না করে আঙুলের ডগা দিয়ে আলতোভাবে পরিষ্কার করা ভালো।

চুলের দৈর্ঘ্যে কন্ডিশনার ব্যবহার করলে শুষ্কতা ও জট কমাতে সাহায্য করতে পারে। ভেজা চুলে জোরে আঁচড়ানো বা তোয়ালে দিয়ে ঘষে শুকানোর অভ্যাসও বাদ দেওয়া উচিত।

তবে জ্বরের পর চুল পড়া শুরু হলেই বিশেষ তেল, ঘরোয়া প্যাক বা চুল গজানোর নানা পণ্য ব্যবহার করা প্রয়োজন—এমন নয়। অতিরিক্ত পণ্য ব্যবহার বরং মাথার ত্বকে সমস্যা তৈরি করতে পারে।

সংগৃহীত

চুল ও ত্বকের জন্য খাবারের দিকেও নজর

অসুস্থতার সময় অনেকের খাবারের পরিমাণ কমে যায়। ফলে পর্যাপ্ত ক্যালরি, প্রোটিন, আয়রন, জিংকসহ প্রয়োজনীয় পুষ্টি না পেলে শরীরের স্বাভাবিক পুনরুদ্ধার ধীর হতে পারে।

তাই সুস্থ হওয়ার পর খাবারের তালিকায় ডিম, মাছ, মাংস, ডাল, দুধ বা দই, বাদাম এবং বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি ও ফল রাখা ভালো। ভিটামিন ও খনিজের ঘাটতি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

শুধু চুল পড়ছে বলে নিজের ইচ্ছায় একাধিক ভিটামিন বা খাদ্য-পরিপূরক শুরু করা ঠিক নয়। প্রয়োজন থাকলে চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে ঘাটতি নির্ণয় করতে পারেন।

ঘুমও সৌন্দর্যের যত্নের অংশ

জ্বরের সময় ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট হতে পারে। অসুস্থতা কাটার পরও পর্যাপ্ত ঘুম না হলে মুখে ক্লান্তির ছাপ থাকতে পারে এবং শরীরের পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াও ব্যাহত হতে পারে।

তাই সুস্থ হওয়ার পর নিয়মিত ঘুমের সময় ঠিক করা, পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া এবং শরীরকে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক রুটিনে ফিরিয়ে আনা জরুরি।

বাইরে গেলে সূর্য থেকে সুরক্ষা

অসুস্থতার পর ত্বক যদি শুষ্ক বা সংবেদনশীল থাকে, বাইরে যাওয়ার সময় সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে ত্বককে সুরক্ষিত রাখা ভালো। ত্বকের ধরন অনুযায়ী উপযুক্ত সানস্ক্রিন ব্যবহার করা যেতে পারে। পাশাপাশি ছাতা, টুপি বা সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলাও কাজে আসে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, জ্বর সেরে যাওয়ার পর ত্বক বা চুলকে রাতারাতি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা না করা। শরীর সুস্থ হতে যেমন সময় নেয়, তেমনি ত্বক ও চুলের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতেও কিছুটা সময় লাগতে পারে।

তবে অতিরিক্ত চুল পড়া দীর্ঘদিন চলতে থাকলে, মাথার ত্বকে ফুসকুড়ি বা ক্ষত হলে, চুলের নির্দিষ্ট অংশ পাতলা হয়ে গেলে কিংবা ত্বকে দীর্ঘস্থায়ী র‍্যাশ, চুলকানি বা অন্য কোনো অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে ত্বক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

Advertisements