২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | বুধবারবাংলা: ৮ আশ্বিন ১৪৩৩
বিবিধ

এই শরৎ-এ ঢাকার কাছে যেসব জায়গায় দেখতে পাবেন কাশফুল

244769501_586939149124591_1423074558333558038_n

শরৎ এলেই প্রকৃতি যেন নিজের সাজ বদলে ফেলে। নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা, মৃদু বাতাস আর মাঠজুড়ে দুলতে থাকা সাদা কাশফুল—সব মিলিয়ে তৈরি হয় বাংলার চিরচেনা শরতের ছবি। কাশফুলের শুভ্রতা আর বাতাসে তার ছন্দময় দোল বাঙালির মনে শরতের যে আবহ তৈরি করে, তার সঙ্গে অন্য কোনো ঋতুর তুলনা চলে না।

শহুরে ব্যস্ততায় থেকেও শরতের সেই সৌন্দর্য থেকে খুব বেশি দূরে থাকতে হয় না। ঢাকার আশপাশেই রয়েছে বেশ কিছু জায়গা, যেখানে শরতের মৌসুমে দেখা মেলে কাশফুলের। পরিবার, বন্ধু কিংবা প্রিয়জনকে সঙ্গে নিয়ে এক দিনের ছোট্ট ভ্রমণে এসব জায়গা হতে পারে চমৎকার গন্তব্য।

আফতাবনগর

ঢাকার ভেতরেই কাশফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে চাইলে আফতাবনগর হতে পারে সহজ একটি গন্তব্য। রামপুরা ব্রিজ হয়ে এখানে যাওয়া যায়। শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সহজেই যানবাহনে পৌঁছানো সম্ভব। শরতের বিকেলে কাশফুলের ফাঁকে দাঁড়িয়ে ছবি তোলার জন্যও জায়গাটি বেশ আকর্ষণীয়।

৩০০ ফিট

রাজধানীর পূর্ব প্রান্তের ৩০০ ফিট সড়কের আশপাশেও শরৎকালে দেখা মেলে কাশফুলের। কুড়িল বিশ্বরোড থেকে সহজেই এদিকে যাওয়া যায়। ব্যস্ত শহর থেকে কিছুটা খোলা পরিবেশে গিয়ে কাশফুলের সঙ্গে শরতের নীল আকাশ উপভোগ করতে চাইলে এই এলাকা বেছে নিতে পারেন।

Advertisements

দক্ষিণখান

কাশফুল দেখার জন্য ঢাকার সবচেয়ে পরিচিত জায়গাগুলোর একটি দিয়াবাড়ী। উত্তরা ১৫ ও ১৬ নম্বর সেক্টরের বিস্তীর্ণ খোলা জায়গায় শরৎকালে কাশফুলের শুভ্রতা চোখে পড়ে। ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে মেট্রোরেলে উত্তরা এলাকায় পৌঁছে সেখান থেকে সহজেই দিয়াবাড়ীর দিকে যাওয়া যায়। বিকেলের নরম আলোয় কাশফুলের সৌন্দর্য এখানে আরও মনোমুগ্ধকর হয়ে ওঠে।

দিয়াবাড়ী

বড় পরিসরে কাশফুলের সৌন্দর্য দেখতে চাইলে যেতে পারেন দক্ষিণখানের দিকে। খিলক্ষেত বাজার হয়ে উত্তরমুখী পথে এগোলে রাস্তার দুই পাশে বিভিন্ন জায়গায় দেখা মিলতে পারে কাশবনের। শহরের কোলাহল পেরিয়ে খোলা প্রকৃতির এমন দৃশ্য শরতের অনুভূতিকে আরও গভীর করে।

কেরাণীগঞ্জ

ঢাকার একেবারে কাছেই কেরাণীগঞ্জ। শরতের দিনে একটু সময় হাতে নিয়ে এখানে ঘুরে আসা যায়। বিভিন্ন খোলা জায়গায় কাশফুলের দেখা মেলে। বন্ধু বা পরিবারের সঙ্গে গেলে এটি হয়ে উঠতে পারে স্বল্প সময়ের আনন্দভ্রমণ কিংবা ছোট্ট এক দিনের পিকনিকের আয়োজন।

ধলেশ্বরীর তীরে

ঢাকা থেকে মাওয়া সড়ক ধরে কুচিয়ামোরা এলাকায় গেলে ধলেশ্বরী নদীর দেখা মেলে। নদীর ভেতরের দিকে যেতে স্থানীয়ভাবে নৌকা ভাড়া করতে হয়। নদীর দুই তীরে শরৎকালে কাশফুলের উপস্থিতি তৈরি করে অন্যরকম পরিবেশ। নৌকায় বসে নদীর বাতাস আর দুই পাশের কাশবন উপভোগের অভিজ্ঞতাও হতে পারে বেশ সুন্দর।

হযরতপুর

কেরাণীগঞ্জের হযরতপুরেও শরৎকালে দেখা যায় কাশফুলের সৌন্দর্য। কালীগঙ্গা নদীর বাঁক ঘেঁষে বিভিন্ন জায়গায় গড়ে ওঠে কাশবন। বছিলা সেতু পার হয়ে আটিবাজারের দিক দিয়ে হযরতপুরে পৌঁছানো যায়। এরপর খেয়া নৌকায় নদী পার হয়ে কাশবনের কাছে যাওয়া যায়।

বসিলা ব্রিজের ওপারে

ঢাকার মোহাম্মদপুর থেকে বসিলা ব্রিজ পার হলেই কেরাণীগঞ্জের অংশে পড়বে ওয়াশপুর, ঘাটারচর ও মধু সিটি-সংলগ্ন কিছু খোলা এলাকা। এসব জায়গার খালি প্লট ও বালু ভরাট এলাকায় শরৎকালে কাশফুলের দেখা মিলতে পারে। খুব দূরে না গিয়েও প্রকৃতির কাছাকাছি কিছু সময় কাটাতে চাইলে জায়গাগুলো হতে পারে সহজ বিকল্প।

পদ্মার চর

মাওয়া হয়ে শরতের কাশফুল দেখতে চাইলে পদ্মার চরও হতে পারে আকর্ষণীয় গন্তব্য। শিমুলিয়া ঘাট থেকে নৌপথে কোনো চরে গেলে দেখা মিলতে পারে বিস্তীর্ণ কাশবনের। তবে চরাঞ্চলে যাওয়ার ক্ষেত্রে নদীর স্রোত, আবহাওয়া ও নৌযাত্রার নিরাপত্তার বিষয়টি অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে।

মায়ার দ্বীপ

মেঘনার বুকে জেগে ওঠা মায়ার দ্বীপও শরতের প্রকৃতি উপভোগের জন্য ভিন্নধর্মী একটি গন্তব্য। ঢাকার গুলিস্তান থেকে বাসে বৌদ্দের বাজার হয়ে মেঘনার ঘাটে যেতে হয়। এরপর ইঞ্জিনচালিত নৌকায় পৌঁছানো যায় দ্বীপে। নদীর বিস্তীর্ণ জলরাশি আর চারপাশের কাশফুল মিলিয়ে এখানে পাওয়া যায় শহরের ব্যস্ততা থেকে একেবারেই আলাদা এক শরতের অনুভূতি।

শরতের কাশফুলের সৌন্দর্য অবশ্য বেশিদিন স্থায়ী হয় না। তাই সুযোগ থাকলে ছুটির দিনে কাছের কোনো গন্তব্যে বেরিয়ে পড়তে পারেন। তবে কাশবনে ঘুরতে গিয়ে ফুল না ছেঁড়া, পরিবেশ নষ্ট না করা এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয়গুলো খেয়াল রাখাও জরুরি। প্রকৃতিকে উপভোগ করার পাশাপাশি তাকে সুন্দর রাখার দায়িত্বটুকুও আমাদেরই।

Advertisements