২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | সোমবারবাংলা: ৬ আশ্বিন ১৪৩৩
বিবিধ

জাপানে শক্তিশালী টাইফুন দুজুয়ানের আঘাত, বাতিল ৩০০ ফ্লাইট

Untitled-13-6ab0e710e467d

শক্তিশালী টাইফুন দুজুয়ান সোমবার জাপানের টোকিওতে আঘাত হেনেছে। ঝড়ের প্রভাবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কায় দেশটির ছয়টি প্রশাসনিক অঞ্চলের ১৯ লাখের বেশি বাসিন্দাকে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে প্রায় ৫০ হাজার পরিবার বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

টাইফুনের প্রভাবে বিভিন্ন এলাকায় দুর্ঘটনা ও অবকাঠামোগত ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। কানাগাওয়া অঞ্চলে ভূমিধসের কারণে একটি বাড়ি ধসে পড়লে সেখানে এক নারী আটকা পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অন্যদিকে চিবা অঞ্চলে ধ্বংসাবশেষ সরানোর সময় এক ব্যক্তি আটকে গেলে পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

ঝড়ের কারণে জাপানে প্রায় ৩০০টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি কয়েকটি ট্রেনের চলাচলও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী টাইফুন দুজুয়ানের বাতাসের গতি ঘণ্টায় প্রায় ১৩০ কিলোমিটার। ঝোড়ো হাওয়ার সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ১৯৪ কিলোমিটার পর্যন্ত রেকর্ড করা হয়েছে।

প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে আঘাত হানা ঝড়গুলোর মধ্যে দুজুয়ান সর্বশেষ। চলতি বছরের ‘সুপার এল নিনো’র প্রভাবে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় ঝড়ের শক্তি বৃদ্ধির অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

জাপানের আবহাওয়া সংস্থা পরিস্থিতিকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষ করে ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো বাতাসের কারণে জীবন ও সম্পদের জন্য তাৎক্ষণিক ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

Advertisements

টাইফুনের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি তাঁর যুক্তরাষ্ট্র সফর পিছিয়ে দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

এদিকে টোকিওর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের বেসমেন্ট বা ভূগর্ভস্থ স্থানে আশ্রয় না নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। সেখানে ভারী বৃষ্টির তৃতীয় স্তরের সতর্কতা জারি রয়েছে।

কর্তৃপক্ষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত সতর্কবার্তায় জানিয়েছে, বেসমেন্টে দ্রুত পানি ঢুকে পড়তে পারে। এতে বাইরে বের হওয়ার পথ বন্ধ হয়ে গিয়ে আটকা পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। তাই ঝড়ের সময় সবাইকে অত্যন্ত সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বন্যার পানির কারণে ম্যানহোলের ঢাকনা সরে যেতে পারে বলেও সতর্ক করেছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা। ফলে রাস্তায় চলাচলের সময় পানির নিচে থাকা এসব স্থানে পড়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

Advertisements