২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | রবিবারবাংলা: ৫ আশ্বিন ১৪৩৩
বিবিধ

আল্লাহর সন্তুষ্টি ও বিশুদ্ধ বাতাসের জন্য ৩৪ বছর ধরে গাছ লাগাচ্ছেন ইমাম

fb3ac068-30a4-45ab-aa97-6d31265ccc8b

ভোলার চরফ্যাশনে পরিবেশ রক্ষা ও আগামী প্রজন্মের জন্য সবুজ-নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তুলতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন মসজিদের ইমাম রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। প্রায় ৩৪ বছর ধরে নিজ উদ্যোগে গ্রামের বিভিন্ন সড়কের পাশে তাল, ফলদ ও ঔষধি গাছ লাগিয়ে চলেছেন তিনি।

১৯৯৩-৯৪ সালে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে স্থানীয় ভূইয়ারহাটে নার্সারি স্থাপনের মাধ্যমে তার এই উদ্যোগের শুরু। এরপর মাইকিং করে মানুষকে গাছের চারা বিতরণ ও বৃক্ষরোপণে উৎসাহিত করেন। তার দাবি, এ পর্যন্ত প্রায় ৫০-৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছেন তিনি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫-৩০ হাজার।

চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের বাউল সড়কের দুই পাশে সারি সারি তালগাছ এখন পথচারীদের নজর কাড়ে। গাছের ছায়ায় স্বস্তি পাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দা, কৃষক ও পথচারীরা। পাশাপাশি তালগাছের ফল ও পাতা স্থানীয়দের বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল জানান, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং ইহকাল ও পরকালে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে তিনি এই কাজ করছেন। সাম্প্রতিক সময়ে বজ্রপাতের কথা বিবেচনা করে তালগাছ লাগানোর ওপরও তিনি বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন। স্থানীয় বন বিভাগের কাছ থেকেও মাঝে মাঝে পরামর্শ নেন।

তিনি বলেন, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যার কাজ চালিয়ে যেতে চান তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, তার লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে ফলন দিচ্ছে। গাছের সৌন্দর্যে বাউল সড়কটি স্থানীয়দের পাশাপাশি দূর-দূরান্তের মানুষের কাছেও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। তার উদ্যোগ দেখে অনেক তরুণও নিজেদের জমিতে বেশি করে গাছ লাগানোর আগ্রহ প্রকাশ করছেন।

Advertisements

চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আফরোজও তার উদ্যোগের প্রশংসা করে জানিয়েছেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

দীর্ঘ ৩৪ বছর ধরে ব্যক্তিগত উদ্যোগে পরিচালিত এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এখন স্থানীয়ভাবে পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজায়নের একটি দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।

Advertisements