১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | শনিবারবাংলা: ৪ আশ্বিন ১৪৩৩
স্বাস্থ্য

চুপিসারে বাড়ে থাইরয়েড ক্যানসার, নজরে রাখুন ৬ লক্ষণ

image_223500_1758032603

থাইরয়েড শরীরের ছোট্ট একটি গ্রন্থি হলেও এর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গলার সামনের দিকে অবস্থিত প্রজাপতির মতো আকৃতির এই গ্রন্থি শরীরের বিপাকক্রিয়া, হৃদস্পন্দন ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ কাজে ভূমিকা রাখে। কিন্তু এই গ্রন্থিতেই কখনো ক্যানসার তৈরি হতে পারে, যার প্রাথমিক লক্ষণ অনেক সময় এতটাই মৃদু থাকে যে তা সহজেই চোখ এড়িয়ে যায়।

থাইরয়েড ক্যানসারের অনেক ধরনই ধীরে বৃদ্ধি পায় এবং শুরুতেই শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসার ফল ভালো হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই গলা বা কণ্ঠে অস্বাভাবিক কোনো পরিবর্তন দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে সেটিকে সাধারণ সমস্যা ভেবে এড়িয়ে না গিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

থাইরয়েড ক্যানসারের অন্যতম পরিচিত লক্ষণ হলো গলার সামনে অস্বাভাবিক কোনো গাঁট বা ফোলা দেখা দেওয়া। সাধারণত এটি ব্যথাহীন হতে পারে। আয়নায় তাকালে কিংবা গলায় হাত দিলে নতুন কোনো চাকা বা শক্ত অংশ অনুভূত হলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। তবে গলায় গাঁট দেখা দিলেই যে সেটি ক্যানসার, এমন নয়; বিভিন্ন নিরীহ কারণেও এমন হতে পারে।

কণ্ঠস্বরের পরিবর্তনও একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কসংকেত। হঠাৎ করে গলার স্বর কর্কশ হয়ে যাওয়া কিংবা দীর্ঘদিন ধরে কণ্ঠস্বর স্বাভাবিক না হলে কারণ খুঁজে দেখা প্রয়োজন। বিশেষ করে এর সঙ্গে গলায় গাঁট বা অন্য কোনো উপসর্গ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

খাবার বা পানি গিলতে গিয়ে অস্বস্তি হওয়া, গলায় কিছু আটকে থাকার মতো অনুভূতি কিংবা গিলতে কষ্ট হওয়াও নজরে রাখার মতো বিষয়। থাইরয়েডের কোনো অস্বাভাবিক বৃদ্ধি আশপাশের অঙ্গের ওপর চাপ তৈরি করলে এ ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

গলার পাশে লিম্ফ নোড বা লসিকাগ্রন্থি ফুলে যাওয়াও কখনো থাইরয়েড ক্যানসারের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। বিশেষ করে কোনো সংক্রমণ ছাড়াই যদি গলার লিম্ফ নোড দীর্ঘদিন ফোলা থাকে, তাহলে বিষয়টি পরীক্ষা করে দেখা দরকার।

Advertisements

গলা বা ঘাড়ে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা কিংবা অস্বস্তিকেও অবহেলা করা ঠিক নয়। কিছু ক্ষেত্রে এই ব্যথা কানের দিকেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। অবশ্য ঘাড়ে ব্যথার অসংখ্য সাধারণ কারণ রয়েছে, তাই শুধু ব্যথা থাকলেই ক্যানসার ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। তবে কারণ না জেনে দীর্ঘদিন ব্যথা চলতে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

আরেকটি সূক্ষ্ম পরিবর্তন হলো ঘাড়ে চাপ বা অস্বাভাবিক টান অনুভূত হওয়া। আগের তুলনায় জামার কলার বেশি টাইট লাগা কিংবা গলায় চাপ অনুভব করার মতো সমস্যা থাকলে সেটিও খেয়াল করা প্রয়োজন। বিশেষ করে এর সঙ্গে গলায় ফোলা বা গাঁট থাকলে পরীক্ষা করানো জরুরি।

থাইরয়েড ক্যানসারেরও একাধিক ধরন রয়েছে। এর মধ্যে প্যাপিলারি থাইরয়েড ক্যানসার সবচেয়ে বেশি দেখা যায় এবং সাধারণত তুলনামূলক ধীরে বৃদ্ধি পায়। ফলিকুলার, মেডুলারি ও হারথল সেল ক্যানসারও রয়েছে। অন্যদিকে এনাপ্লাস্টিক থাইরয়েড ক্যানসার বিরল হলেও দ্রুত বৃদ্ধি ও ছড়িয়ে পড়ার প্রবণতার কারণে এটি বেশি গুরুতর।

কিছু মানুষের ক্ষেত্রে থাইরয়েড ক্যানসারের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি হতে পারে। আগে মাথা বা ঘাড়ে রেডিয়েশন থেরাপি নেওয়া, পরিবারে থাইরয়েড ক্যানসারের ইতিহাস থাকা এবং কিছু নির্দিষ্ট জেনেটিক পরিবর্তন এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য। তবে এসব ঝুঁকি না থাকলেও কারও থাইরয়েড ক্যানসার হতে পারে।

রোগটির ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দ্রুত শনাক্তকরণ। গলায় নতুন কোনো গাঁট, দীর্ঘস্থায়ী কণ্ঠস্বর পরিবর্তন, গিলতে সমস্যা, লিম্ফ নোড ফুলে যাওয়া কিংবা ঘাড়ে অস্বাভাবিক ব্যথা বা চাপ অনুভূত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রয়োজন হলে চিকিৎসক আল্ট্রাসাউন্ড, রক্ত পরীক্ষা বা ফাইন-নিডল অ্যাসপিরেশন (FNA) বায়োপসির মতো পরীক্ষা করতে পারেন।

তবে মনে রাখতে হবে, এসব লক্ষণের কোনোটিই একা থাইরয়েড ক্যানসারের নিশ্চিত প্রমাণ নয়। একই ধরনের উপসর্গ বিভিন্ন সাধারণ রোগ বা অন্য কারণেও হতে পারে। তাই আতঙ্কিত না হয়ে উপসর্গ দীর্ঘস্থায়ী হলে সঠিক পরীক্ষা ও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

Advertisements