বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনমঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
জীবনযাপন

রাজপরিবারের প্রথা ভেঙে যে বিশেষ চায়ের প্রেমে পড়েন যুবরানি ডায়না

রাজপরিবারের প্রথা ভেঙে যে বিশেষ চায়ের প্রেমে পড়েন যুবরানি ডায়না

কফিতে অভ্যস্ত হলেও এক বিশেষ ধরনের চায়ের প্রেমে পড়েছিলেন যুবরানি ডায়না। রাজপরিবারের চিরাচরিত প্রথা ভেঙে একমাত্র তিনিই সে চা পান করতেন।

ব্রিটিশ রাজপরিবারের বাসভবন বাকিংহাম প্যালেসে শুধু আর্ল গ্রে চায়েরই প্রবেশাধিকার ছিল। রানি এলিজ়াবেথ সকালে সামান্য দুধ মিশিয়ে আর্ল গ্রে চায়ে চুমুক দিতেন। বিশ্বের অভিজাত চায়ের জগতে আর্ল গ্রে সেরা। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী চার্লস গ্রে বা দ্বিতীয় আর্ল গ্রে-র নামেই হয় এই চায়ের নামকরণ। তাই এই চা ভিন্ন অন্য চা ঢুকত না বাকিংহামে।

সেখানেও প্রথা ভেঙেছিলেন ‘প্রিন্সেস অফ ওয়েলস’ যুবরানি ডায়না। তিনি পান করতেন এক বিশেষ রকম চা। ৩১ আগস্ট, যুবরানির মৃত্যুবার্ষিকীতে তার চা-প্রীতির সেই আশ্চর্য গল্প শুনিয়েছেন রাজপরিবারেরই সাবেক এক রন্ধনশিল্পী ড্যারেন ম্যাকগ্র্যাডি।

ডায়নার কফি খেতেই বেশ পছন্দ করতেন। ড্যারেন জানিয়েছেন, চা বিশেষ পছন্দ করতেন না যুবরানি। তবে এক সময় রোজ় পাউচং চায়ের প্রেমে পড়েন। তাই কেনসিংটন প্রাসাদে ডায়নার জন্য এই চা নিয়ে আসা হত। একসময়ে যুবরানির ব্যক্তিগত রন্ধনশিল্পী হিসেবে কেনসিংটনে নিযুক্ত হয়েছিলেন ড্যারেন। ১৯৯৩ সাল থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত ডায়নার জন্য খাবার তিনিই রাঁধতেন। যুবরানির পছন্দের খুঁটিনাটি বিষয়ে খেয়াল রাখতেন।

তিনি জানান, রাজপরিবারে বরাবরই আর্ল গ্রে চায়ের কদর ছিল। কিন্তু যুবরানি এসে সে প্রথা ভাঙেন। তিনি পছন্দ করতেন গোলাপের পাপড়ি দেওয়া রোজ় পাউচং চা। সকাল ও বিকেলে এই সুগন্ধি চা তাকে বানিয়ে দিতেন ড্যারেন।

রোজ় পাউচং চা তৈরি হয় চীনে। সাধারণ চা পাতা নয়, এর সঙ্গে মেশানো থাকে গোলাপের শুকনো পাপড়ি। পাউচং মূলত গ্রিন টি। সবুজ চা পাতার সঙ্গে গোলাপের পাপড়ি গুঁড়ো করে মেশানো থাকে। এমনকি তাইওয়ানেও এই চা খুবই জনপ্রিয়। খুব হালকা মিষ্টি সুগন্ধ থাকে চায়ে। লিকারের রং হয় হালকা সোনালি-বাদামি।

ড্যারেন জানিয়েছেন, খুব কড়া চা যুবরানির পছন্দ ছিল না। উদ্বেগ বা উৎকণ্ঠায় থাকলে গোলাপের সুবাসে ভরপুর এই চা বানিয়ে দিতে বলতেন তিনি।

পাউচং চা বানানোরও নিয়ম আছে। পানি ফুটিয়ে গোলাপের পাপড়ি মেশানো চা পাতা অল্প করে বেশ সময় নিয়ে ভিজিয়ে রেখে দিতে হয়। এই চায়ে দুধ, চিনি বা কোনও মশলা মেশানো হয় না। হালকা লিকারই খেতে বেশি সুস্বাদু। যেমন স্বাদে, তেমনই সুগন্ধেও।

নটিং হিলে ডায়নার স্মৃতিবিজড়িত ‘ক্যাফে ডায়না’-তে এখনও রোজ় পাউচং চায়ের বিক্রি রীতিমতো জমজমাট।

Advertisements