বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনরবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬
জীবনযাপন

গরমে প্রচণ্ড মাথাব্যথা? কীভাবে বুঝবেন বিপদের সংকেত

migraine

গ্রীষ্মের তীব্র গরমে অনেকেরই হঠাৎ মাথাব্যথা শুরু হয়। কখনো ব্যথা মৃদু, আবার কখনো এতটাই তীব্র হয় যে স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হতে পারে। প্রচণ্ড রোদ, অতিরিক্ত ঘাম, শরীরে পানিশূন্যতা, ঘুমের ঘাটতি কিংবা দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার মতো কারণেও গরমের সময়ে মাথাব্যথা বাড়তে পারে। তবে সব মাথাব্যথাকে সাধারণ সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যাওয়াও ঠিক নয়।

গরমে মাথাব্যথা কেন হয়?

অতিরিক্ত গরমে শরীর ঘামের মাধ্যমে প্রচুর পানি ও লবণ হারায়। পর্যাপ্ত পানি ও প্রয়োজনীয় ইলেকট্রোলাইটের ঘাটতি হলে দেখা দিতে পারে ডিহাইড্রেশন। এর অন্যতম লক্ষণ মাথাব্যথা। পাশাপাশি দীর্ঘ সময় রোদে থাকলে শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায় এবং মাথা ভার লাগা, দুর্বলতা, মাথা ঘোরা কিংবা বমি বমি ভাবও হতে পারে। অতিরিক্ত ঘাম, অনিয়মিত খাবার, ঘুমের অভাব এবং খুব উজ্জ্বল সূর্যালোকও অনেকের মাইগ্রেন বা মাথাব্যথার সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে। এমনকি গরমের দিনে অতিরিক্ত চা-কফি পান করাও কারও কারও ক্ষেত্রে পানিশূন্যতা বা মাথাব্যথার প্রবণতা বাড়াতে পারে।

মাথাব্যথা শুরু হলে প্রথমে কী করবেন?

মাথা প্রচণ্ড ব্যথা করলে প্রথমেই রোদ ও গরম থেকে সরে ঠান্ডা, বাতাস চলাচল করে এমন জায়গায় বিশ্রাম নিন। ধীরে ধীরে পর্যাপ্ত পানি পান করুন। অতিরিক্ত ঘাম হয়ে থাকলে ওরস্যালাইন বা উপযুক্ত ইলেকট্রোলাইটযুক্ত পানীয়ও নেওয়া যেতে পারে।
কপাল, ঘাড় ও শরীরের অন্যান্য অংশে ঠান্ডা পানিতে ভেজানো কাপড় দিয়ে হালকা সেঁক দিলে আরাম মিলতে পারে। আঁটসাঁট পোশাক খুলে ঢিলেঢালা ও আরামদায়ক পোশাক পরুন। কিছুক্ষণ মোবাইল, কম্পিউটার বা টিভির উজ্জ্বল স্ক্রিন এড়িয়ে শান্ত, অল্প আলোয় বিশ্রাম নেওয়াও উপকারী।

কী খাবেন?

গরমে পানিশূন্যতা এড়াতে শুধু তৃষ্ণা পেলেই পানি পান না করে নিয়মিত পানি পান করা উচিত। ডাবের পানি, স্যুপ, পানিসমৃদ্ধ ফল যেমন তরমুজ, কমলা, শসা ইত্যাদি খাদ্যতালিকায় রাখা যায়। তবে অতিরিক্ত মিষ্টি কোমল পানীয়কে পানির বিকল্প হিসেবে বেছে নেওয়া ঠিক নয়। দীর্ঘ সময় খালি পেটে থাকাও মাথাব্যথার কারণ হতে পারে। তাই নিয়মিত ও পরিমিত খাবার খাওয়ার অভ্যাস জরুরি।

কখন সতর্ক হবেন?

গরমে মাথাব্যথার সঙ্গে যদি প্রচণ্ড দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, বমি, বিভ্রান্তি, অস্বাভাবিক আচরণ, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, খুব বেশি শরীরের তাপমাত্রা বা খিঁচুনি দেখা দেয়, তাহলে বিষয়টি গুরুতর হতে পারে। বিশেষ করে প্রচণ্ড গরমে দীর্ঘ সময় থাকার পর এসব উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।

এ ছাড়া হঠাৎ জীবনের সবচেয়ে তীব্র মাথাব্যথা, কথা জড়িয়ে যাওয়া, শরীরের কোনো অংশ অবশ বা দুর্বল হয়ে যাওয়া, দৃষ্টির সমস্যা কিংবা ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে জরুরি চিকিৎসা নেওয়া উচিত।
প্রতিরোধই সবচেয়ে ভালো উপায়

গরমে বাইরে বের হলে ছাতা, টুপি বা সানগ্লাস ব্যবহার করুন। সম্ভব হলে দিনের সবচেয়ে গরম সময়ে সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলুন। সঙ্গে পানির বোতল রাখুন এবং নিয়মিত পানি পান করুন। পর্যাপ্ত ঘুম ও নিয়মিত খাবারের অভ্যাসও বজায় রাখতে হবে।
গরমে মাথাব্যথা অনেক সময় শরীরের পানিশূন্যতা বা অতিরিক্ত তাপের সতর্কবার্তা হতে পারে। তাই ব্যথা কমানোর পাশাপাশি এর কারণটিও বোঝা জরুরি। বারবার মাথাব্যথা হলে বা ব্যথা অস্বাভাবিক তীব্র হলে নিজের মতো করে ওষুধ না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।

Advertisements