বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনরবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬
বিবিধ

কাপ্তাই হ্রদের পানি বাড়ছে দ্রুত, বাঘাইছড়ির নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

IMG_20260829_232620

টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে রাঙ্গামাটির কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা দ্রুত বাড়ছে। এর প্রভাবে জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলায় কাচালং নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। নদীর পানি উপচে পড়ে বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে ঢুকে পড়ায় বসতবাড়ি, সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো প্লাবিত হতে শুরু করেছে।

পানি বাড়তে থাকায় বাঘাইছড়ি পৌরসভার বটতলী, এফব্লক, পুরাতন মারিশ্যা, মাস্টারপাড়া, মাদ্রাসাপাড়া, লাইল্যাঘোনা, উলুছড়ি, বাঘাইহাট, পশ্চিম মুসলিম ব্লক ও মধ্যমপাড়াসহ বেশ কিছু এলাকার ঘরবাড়ি ও সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে স্থানীয়দের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। কয়েকটি পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।

বাঘাইছড়ি প্রেস ক্লাবের সভাপতি আব্দুল মাবুদ শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জানান, এলাকায় পানি দ্রুত বাড়ছে। এরই মধ্যে কয়েকটি পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য স্থানীয় বিদ্যালয়ে অবস্থান নিয়েছে। এদিকে কাপ্তাই হ্রদের পানি বিপদসীমার কাছাকাছি চলে আসায় বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পানি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ। শনিবার রাত সোয়া ৮টার দিকে কেন্দ্রটির স্প্রিলওয়ের ১৬টি গেট ৬ ইঞ্চি করে খুলে দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৯ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে নিষ্কাশন করা হচ্ছে।

কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে জারি করা জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে পানি নিষ্কাশনের সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শনিবার দুপুর ২টায় কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা ১০৫ দশমিক ৬৪ ফুট এমএসএল রেকর্ড করা হয়। হ্রদের সর্বোচ্চ পানি ধারণক্ষমতা ১০৯ ফুট এমএসএল। পানির উচ্চতা বিপদসীমার কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ায় উজান ও ভাটি অঞ্চলের পানি ব্যবস্থাপনা এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণে স্প্রিলওয়ের ১৬টি গেট খুলে প্রাথমিকভাবে ৯ হাজার কিউসেক পানি নিষ্কাশনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

রাত সোয়া ৮টার সময় পানি ছাড়ার সময় হ্রদের পানির উচ্চতা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ১০৫ দশমিক ৯৮ ফুট এমএসএল। কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান বলেন, কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা, বৃষ্টিপাত এবং উজান থেকে আসা পানির প্রবাহ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী গেট খোলার সময়সূচি কিংবা পানি নিষ্কাশনের পরিমাণ পরিবর্তন ও বাড়ানো হতে পারে।
অন্যদিকে হ্রদের পানি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় শনিবার দুপুরে রাঙ্গামাটির পর্যটন এলাকার ঝুলন্ত সেতুটিও পানিতে ডুবে যায়। নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় নিয়ে পর্যটকদের সেতুতে চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, বৃষ্টি ও উজানের ঢল অব্যাহত থাকলে কাপ্তাই হ্রদের পানি আরও বাড়তে পারে। এতে জেলার তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের আরও এলাকা প্লাবিত হয়ে জনদুর্ভোগ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

Advertisements