বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনরবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬
বিবিধ

সঙ্গীর প্রাক্তন নিয়ে কৌতূহল, জেনে নিন কোথায় টানবেন সীমারেখা

0_5jbZB1FCZf8tsaq-

একটি নতুন সম্পর্কে জড়ানোর পর সঙ্গীর অতীত নিয়ে কৌতূহল তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তিনি আগে কাকে ভালোবাসতেন, সম্পর্কটি কেন ভেঙেছিল, এখনো সেই মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ আছে কি না—এমন নানা প্রশ্ন মনে উঁকি দিতে পারে। কখনো এসব প্রশ্ন আসে ভালোভাবে বোঝার ইচ্ছা থেকে, আবার কখনো আসে নিজের সঙ্গে প্রাক্তনের তুলনা, অনিরাপত্তা কিংবা হারানোর ভয় থেকে।

সমস্যা কৌতূহলে নয়; সমস্যা শুরু হয় যখন অতীত জানার আগ্রহ বর্তমান সম্পর্কের শান্তি নষ্ট করতে থাকে। তাই সঙ্গীর প্রাক্তন সম্পর্কে কতটা জানা প্রয়োজন এবং কোথায় সীমারেখা টানা উচিত—তা বোঝা জরুরি।

কেন প্রাক্তনকে নিয়ে এত কৌতূহল?

সঙ্গীর জীবনে নিজের আগে অন্য কেউ গুরুত্বপূর্ণ ছিল—এই বাস্তবতা অনেকের মধ্যেই অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে সম্পর্কটি যখন নতুন, তখন মনে হতে পারে, ‘সে কি তার প্রাক্তনকে আমার চেয়ে বেশি ভালোবাসত?’ কিংবা ‘তাদের সম্পর্কটা কেন শেষ হয়েছিল?’

এ ধরনের প্রশ্নের পেছনে অনেক সময় কাজ করে অনিরাপত্তা। নিজের সঙ্গে অন্য কারও তুলনা করার প্রবণতা থেকেও প্রাক্তনকে নিয়ে অতিরিক্ত আগ্রহ তৈরি হতে পারে। আবার কেউ কেউ সঙ্গীর অতীত জানতে চান শুধু তাকে আরও ভালোভাবে বোঝার জন্য। অর্থাৎ সব কৌতূহল নেতিবাচক নয়।

সবকিছু জানা কি সত্যিই প্রয়োজন?

Advertisements

না। সঙ্গীর আগের সম্পর্কের প্রতিটি ঘটনা জানার প্রয়োজন নেই। কোথায় প্রথম দেখা হয়েছিল, কী উপহার দিয়েছিলেন, কোথায় ঘুরতে গিয়েছিলেন কিংবা কে কাকে কতবার ফোন করতেন—এসব খুঁটিনাটি বর্তমান সম্পর্কের জন্য সাধারণত কোনো বাস্তব মূল্য যোগ করে না।

বরং এসব তথ্য জানার পর অনেক সময় অনিচ্ছাকৃতভাবে তুলনা শুরু হয়। সঙ্গী প্রাক্তনকে যে জায়গায় নিয়ে গিয়েছিলেন, আপনাকেও সেখানে নিয়ে যেতে হবে—এমন প্রত্যাশা তৈরি হতে পারে। পুরোনো কোনো ছবি বা স্মৃতি মাথায় ঘুরতে থাকায় বর্তমানের সুন্দর মুহূর্তও অস্বস্তিকর হয়ে উঠতে পারে। তাই প্রশ্ন করার আগে নিজেকে জিজ্ঞেস করা ভালো—‘এই তথ্যটি জানলে আমাদের সম্পর্ক আরও ভালোভাবে বুঝতে পারব, নাকি শুধু আমার কৌতূহল মিটবে?’

কোন বিষয়গুলো জানা গুরুত্বপূর্ণ?

অতীতের সবকিছু অপ্রয়োজনীয় নয়। কিছু তথ্য বর্তমান সম্পর্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। যেমন—আগের কোনো সম্পর্কের অভিজ্ঞতা যদি সঙ্গীর বর্তমান আচরণ, বিশ্বাস, প্রত্যাশা বা ব্যক্তিগত সীমারেখাকে প্রভাবিত করে, সেটি নিয়ে কথা বলা প্রয়োজন।

একইভাবে, প্রাক্তনের সঙ্গে এখনো যোগাযোগ থাকলে সেই যোগাযোগের ধরন ও সীমা নিয়ে দুজনের মধ্যে স্বচ্ছতা থাকা গুরুত্বপূর্ণ। আগের সম্পর্ক থেকে কোনো অসমাপ্ত বিষয় বর্তমান সম্পর্কে প্রভাব ফেলছে কি না, সেটিও জানা দরকার।
তবে এসব আলোচনা হওয়া উচিত পারস্পরিক সম্মান ও বিশ্বাসের জায়গা থেকে, জেরা করার মতো করে নয়।

কোন জায়গায় সীমা টানবেন?

সঙ্গীর ব্যক্তিগত অতীত জানার অধিকার আছে—এমন ধারণা থেকে তার পুরোনো মেসেজ, ছবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট কিংবা ব্যক্তিগত কথোপকথন গোপনে খুঁজে দেখা স্বাস্থ্যকর আচরণ নয়। ‘তোমার প্রাক্তন দেখতে কেমন ছিল?’—এমন সাধারণ প্রশ্ন এক বিষয়। কিন্তু ‘আমার চেয়ে সে সুন্দর ছিল?’ বা ‘তাকে কি আমার চেয়ে বেশি ভালোবাসতে?’—এ ধরনের প্রশ্ন সম্পর্ককে তুলনার দিকে ঠেলে দিতে পারে।

আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো, সঙ্গী যদি কোনো বিষয় নিয়ে কথা বলতে অস্বস্তি বোধ করেন, সেটি মেনে নেওয়া। প্রত্যেক মানুষের জীবনে কিছু ব্যক্তিগত স্মৃতি ও অভিজ্ঞতা থাকে, যা সে নিজের মতো করে সংরক্ষণ করতে চাইতেই পারে।

প্রাক্তনের সঙ্গে যোগাযোগ থাকলে?

সঙ্গীর প্রাক্তনের সঙ্গে যোগাযোগ থাকা মানেই যে বর্তমান সম্পর্কে সমস্যা আছে, তা নয়। একই কর্মক্ষেত্র, বন্ধুমহল, ব্যবসা কিংবা অন্য কোনো বাস্তব কারণে যোগাযোগ থাকতে পারে। এক্ষেত্রে সন্দেহের বদলে স্পষ্ট যোগাযোগ বেশি জরুরি। জানতে পারেন—কেন যোগাযোগ হচ্ছে, সম্পর্কটির বর্তমান প্রকৃতি কী এবং দুজনের মধ্যে কী ধরনের সীমারেখা রয়েছে। তবে উত্তর পাওয়ার পরও যদি বারবার একই বিষয় নিয়ে সন্দেহ করতে থাকেন, তাহলে সমস্যাটি হয়তো প্রাক্তন নয়; বরং সম্পর্কের ভেতরের আস্থার সংকট।

অতীত নয়, গুরুত্ব দিন বর্তমানকে

একটি মানুষের অতীত তাকে গড়ে তুলতে পারে, কিন্তু তার বর্তমান আচরণই বলে দেয় সে আজ আপনার সঙ্গে কেমন সম্পর্ক তৈরি করতে চাইছে। তাই সঙ্গীর প্রাক্তনকে নিয়ে অতিরিক্ত ভাবার বদলে বর্তমান সম্পর্কের দিকে নজর দেওয়া বেশি জরুরি।

তিনি কি আপনাকে সম্মান করেন? আপনার অনুভূতিকে গুরুত্ব দেন? আপনাদের মধ্যে কি বিশ্বাস ও নিরাপত্তা আছে? কঠিন সময়ে কি পাশে থাকেন? সম্পর্কের সীমারেখাগুলো কি দুজনেই সম্মান করেন?

এসব প্রশ্নের উত্তরই আসলে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

শেষ পর্যন্ত, সঙ্গীর অতীত মুছে ফেলার বিষয় নয়, আবার সেটিকে বর্তমানের ওপর চাপিয়ে দেওয়ারও প্রয়োজন নেই। অতীত সম্পর্কে যতটুকু জানা বর্তমান সম্পর্ককে বোঝা ও নিরাপদ রাখতে সাহায্য করে, ততটুকু জানুন। আর যেটুকু কেবল তুলনা, সন্দেহ কিংবা অস্থিরতা বাড়ায়, সেখানেই টানুন সীমারেখা।

কারণ একটি সুস্থ সম্পর্কের ভিত্তি কে আগে ছিল তা নয়—আজ দুজন একে অপরের জন্য কতটা সত্য, নিরাপদ ও সম্মানজনক, সেটিই।

Advertisements