‘২০১২’ সিনেমার সেই ভয়ংকর দৃশ্যই কি এখন নেপালের বাস্তবতা?

নেপালের ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ি ঢলের ধ্বংসযজ্ঞ দেখে নতুন করে আলোচনায় এসেছে হলিউডের জনপ্রিয় সিনেমা ‘২০১২’। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বাস্তব দুর্যোগের ভিডিওর সঙ্গে সিনেমার প্রলয়ঙ্করী দৃশ্যের মিল টেনে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—১৫ বছর আগে পর্দায় দেখা সেই ভয়ংকর কল্পচিত্র কি আজ নেপালের বাস্তবতায় ধরা দিল?
নেপালের রসুয়া জেলায় সাম্প্রতিক আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পাহাড়ি জনপদে নেমে আসা প্রবল স্রোতে মুহূর্তেই বদলে গেছে চারপাশের চিত্র। ভেসে গেছে বসতি ও বিভিন্ন স্থাপনা, আর দুর্যোগের পর রয়ে গেছে ধ্বংসস্তূপ ও স্বজন হারানোর বেদনা।
এই ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেই নেটদুনিয়ায় আবার ঘুরে ফিরে আসছে ২০০৯ সালে মুক্তি পাওয়া কল্পবিজ্ঞান চলচ্চিত্র ‘২০১২’। জন কুস্যাক, আমান্ডা পিট ও চিওয়েটেল এজিওফর অভিনীত ছবিটিতে পৃথিবীব্যাপী ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও মহাপ্লাবনের কাহিনি তুলে ধরা হয়েছিল।
সিনেমার সবচেয়ে আলোচিত দৃশ্যগুলোর একটিতে দেখা যায়, হিমালয় অঞ্চলের দিকে ধেয়ে আসছে বিশাল জলরাশি। পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে এক বৌদ্ধ সন্ন্যাসী মঠের ঘণ্টা বাজাচ্ছেন, আর মুহূর্তের মধ্যে ভয়ংকর ঢেউ গ্রাস করছে নিচের উপত্যকা। সেই দৃশ্যের সঙ্গে নেপালের সাম্প্রতিক বন্যার কিছু ভিডিওর মিল খুঁজে পাচ্ছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহারকারীরা।
অনেকে সিনেমার সেই দৃশ্য ও পোস্টারের সঙ্গে বাস্তব দুর্যোগের ছবি জুড়ে দিয়ে দাবি করছেন, ছবিটি যেন বহু বছর আগেই এমন বিপর্যয়ের ইঙ্গিত দিয়েছিল। সিনেমার পোস্টারে থাকা ‘We Were Warned’ বাক্যটিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, সিনেমার সঙ্গে বাস্তব ঘটনার এমন মিলকে ভবিষ্যদ্বাণী হিসেবে দেখার কোনো কারণ নেই। ‘২০১২’ ছিল সম্পূর্ণ কল্পনানির্ভর একটি দুর্যোগের গল্প, যেখানে বৈশ্বিক প্রাকৃতিক বিপর্যয়কে নাটকীয়ভাবে তুলে ধরা হয়েছিল। বাস্তব ঘটনার সঙ্গে এর মিলকে মূলত কাকতালীয় বলেই মনে করা হচ্ছে।
তবু নেপালের এই ভয়াবহ দুর্যোগ একটি বিষয় আবারও সামনে এনে দিয়েছে—প্রকৃতির পরিবর্তিত আচরণ এখন আর শুধু সিনেমার গল্প নয়। জলবায়ু পরিবর্তন, হিমবাহ গলে যাওয়া এবং পাহাড়ি অঞ্চলের পরিবেশগত ঝুঁকি বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। আর সেই বাস্তবতার মধ্যেই ‘২০১২’-এর পর্দার প্রলয়ের দৃশ্য যেন নতুন করে মানুষের মনে ভয় ও প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।



