বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬
বিবিধ

সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল পেছাল ১২৯ বার

sagor-2210310547

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ আবারও পিছিয়েছে। নতুন করে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য করেছেন আদালত। এর ফলে বহুল আলোচিত এই হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ এ নিয়ে ১২৯ বার পিছিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। তবে তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেনি। পরে শুনানি শেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালত নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।

প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া করা বাসায় নির্মমভাবে খুন হন সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি। ঘটনার সময় তাদের সাড়ে চার বছরের ছেলে মাহির সরওয়ার মেঘ বাসায় ছিল।

সাগর সরওয়ার বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক এবং মেহেরুন রুনি এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। হত্যাকাণ্ডের পর রুনির ভাই নওশের আলম রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলাটির তদন্ত প্রথমে শেরেবাংলা নগর থানার পুলিশ শুরু করে। পরে তদন্তভার ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় র‌্যাবকে।

মামলায় রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মাসুম মিন্টু, কামরুল ইসলাম ওরফে অরুণ, আবু সাঈদ, সাগর-রুনির বাসার দুই নিরাপত্তারক্ষী পলাশ রুদ্র পাল ও এনায়েত আহমেদ এবং তাদের ‘বন্ধু’ তানভীর রহমান খানকে আসামি করা হয়েছে। আসামিদের মধ্যে তানভীর রহমান খান ও পলাশ রুদ্র পাল জামিনে রয়েছেন। অন্যরা কারাগারে আটক রয়েছেন।

দীর্ঘ সময়েও মামলার তদন্ত শেষ না হওয়ায় তদন্তের দায়িত্ব নিয়েও একাধিকবার পরিবর্তন এসেছে। গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত র‌্যাবের কাছ থেকে সরিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে গঠিত একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্সের মাধ্যমে পরিচালনার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি মুহাম্মদ মাহবুব উল ইসলামের হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালত বলেন, এখন থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে গঠিত উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স মামলাটির তদন্ত করবে।

এরপর গত ২৩ অক্টোবর উচ্চ আদালতের নির্দেশে সরকার চার সদস্যের একটি টাস্কফোর্স গঠন করে। এই টাস্কফোর্সের আহ্বায়ক করা হয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) প্রধানকে।

তবে টাস্কফোর্সের মাধ্যমে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়ার পরও নির্ধারিত সময়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা সম্ভব হয়নি। ফলে বৃহস্পতিবারও প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ পিছিয়ে দেওয়া হয় এবং আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।

২০১২ সালের এই হত্যাকাণ্ড এক যুগেরও বেশি সময় ধরে তদন্তাধীন থাকায় মামলাটি দেশের অন্যতম আলোচিত ও দীর্ঘসূত্রতাপূর্ণ হত্যা মামলা হিসেবে পরিচিত। বারবার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ পিছিয়ে যাওয়ায় মামলার বিচারিক কার্যক্রমও এখনো শুরু করা সম্ভব হয়নি।

Advertisements