বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনরবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬
বিবিধ

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে প্রধানমন্ত্রীর দুঃখপ্রকাশ, সমাধানে আশ্বাস

d50550e71abb4aaad1ea5598a50d8ba9-6a807e8761b8e


দেশের চলমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা সমাধানে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে। এ বিষয়ে চীন ও মালয়েশিয়ার সঙ্গে আলোচনা চলছে। পাশাপাশি দেশে তৃতীয় এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে এ ধরনের অবকাঠামো নির্মাণে সময় প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট নিয়ে বিরোধী দলের আন্দোলনের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমস্যার সমাধানে হঠকারী কর্মসূচি না দিয়ে কার্যকর পরিকল্পনা নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত। তাঁর ভাষায়, ‘পেছনে ফ্যানের বাতাস খাচ্ছে, হাতে হারিকেন নিয়ে বসে বলছে—গ্যাস দে, বিদ্যুৎ দে।’ তিনি এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে হঠকারিতা হিসেবে উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের জ্বালানি সংকটের পেছনে আগের সময়ের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের প্রভাব রয়েছে। তাঁর দাবি, অন্তর্বর্তী সরকার এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দিয়েছিল। এখন সরকার নতুন করে তৃতীয় এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের চেষ্টা করছে।

সংকট মোকাবিলায় রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকেও বাস্তবসম্মত প্রস্তাব চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আগামী তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে সংকট সমাধানের কোনো কার্যকর পরিকল্পনা থাকলে তা সরকারের কাছে উপস্থাপন করা যেতে পারে। জনগণের স্বার্থে ভালো কোনো পরিকল্পনা পাওয়া গেলে সরকার তা গ্রহণ করবে।

তবে সংকটকে কেন্দ্র করে বিভ্রান্তি ছড়ানো এবং হঠকারী রাজনীতি থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, কার্যকর সমাধান না থাকলে শুধু আন্দোলন, ভাঙচুর কিংবা রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করে জনগণের দুর্ভোগ বাড়ানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ‘রাস্তায় বসে ভাঙচুরের রাজনীতির দিন শেষ’—বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জবাবদিহি নিশ্চিত করা গেলে দেশের উন্নয়ন আরও গতিশীল হবে। জনগণের সমস্যা সমাধান ও রাষ্ট্র পরিচালনায় জবাবদিহিকে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে বলেও জানান তিনি।

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের পাশাপাশি শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতেও সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, আগামী এক মাসের মধ্যে স্কুলশিক্ষার্থীদের মধ্যে স্কুল ড্রেস বিতরণের কাজ শুরু হবে। একই সঙ্গে দেশের উপজেলার সব ৫০ শয্যার হাসপাতালকে পর্যায়ক্রমে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

জ্বালানি সংকটের কারণে যখন দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন, তখন প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যে সংকট সমাধানের আশ্বাসের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনাও সামনে এসেছে। এখন মূল প্রশ্ন—সরকারের নেওয়া উদ্যোগগুলো কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয় এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহের স্বাভাবিকতা কতটা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়।

Advertisements
গ্যাসপ্রধানমন্ত্রীবিদ্যুৎসংকট