৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | বুধবারবাংলা: ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩
বাংলাদেশ

বিদেশে পাঠানোর নামে নারী পাচার, চক্রের হোতা আটক

IMG_5538

প্রায় ১২ বছর ধরে সক্রিয় মানবপাচার চক্রের অন্যতম মূল হোতা মোহাম্মদ আরজু রহমানকে (৪৭) গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে নারীদের বিদেশে পাচার এবং পরে তাদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে এই চক্রের বিরুদ্ধে।

জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার রাজধানীর বনানীর সি ব্লক থেকে এসআরবি-৪ ও এসআরবি-১-এর যৌথ অভিযানে আরজুকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এসআরবি জানিয়েছে, ভুক্তভোগী কামরুন নাহার গত ১৬ জুলাই এনএসআইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করলে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়। তদন্তের ধারাবাহিকতায় আরজুর সন্ধান পাওয়ার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপের বিভিন্ন দেশে চাকরি দেওয়ার কথা বলে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা করে নেওয়া হতো। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এই অর্থ ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত পৌঁছাত। সম্প্রতি কামরুন নাহার, ফাতেমা, আনজুমান আরা, পারভেজ, ফিরোজ ও মেহেদী হাসানকে সার্বিয়া ও বেলারুশ হয়ে ইতালি পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রায় ৮৫ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে বলে জানায় এসআরবি।

চক্রটি প্রথমে ভুক্তভোগীদের এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে পাঠাত। পরে নেপাল বা শ্রীলঙ্কা হয়ে মিশর কিংবা লিবিয়ায় নেওয়া হতো। সেখান থেকে ঝুঁকিপূর্ণ নৌপথে ইউরোপে পাঠানোর চেষ্টা করা হতো।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিদেশে নেওয়ার পর অনেক নারীকে বন্দি করে রাখা এবং শারীরিক নির্যাতন করা হতো। সিগারেটের ছ্যাঁকাসহ বিভিন্নভাবে নির্যাতনের শিকার হওয়ার কথাও জানিয়েছেন তারা। মিশর থেকে পালিয়ে আসার পর কামরুন নাহার ও আনজুমান আরা ভিডিওবার্তায় তাদের ওপর চালানো নির্যাতনের কথা পরিবারকে জানান।

Advertisements

আরজু গ্রেপ্তারের পর দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জন ভুক্তভোগী এসআরবির সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। সংস্থাটি আরও প্রায় ৩০০ সম্ভাব্য ভুক্তভোগীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। তদন্তকারীদের প্রাথমিক ধারণা, এই চক্রের মাধ্যমে ২ হাজারের বেশি বাংলাদেশি প্রতারণা ও মানবপাচারের শিকার হয়েছেন।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আরজু প্রায় ১২ বছর ধরে অবৈধ মানবপাচার কার্যক্রম চালানোর কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে এসআরবি। বিদেশে লোক পাঠাতে তিনি অনুমোদনহীন বিভিন্ন এজেন্সির নাম ব্যবহার করতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার একটি ব্যাংক হিসাবে গত এক বছরে ১ কোটি ৭০ লাখ টাকার লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।

বিদেশে আটকে থাকা ভুক্তভোগীদের দেশে ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে এসআরবি। গ্রেপ্তার আরজুকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থার জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তার সহযোগী ও চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Advertisements