বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬
নারী

দুবাইকে কেন বিশ্বের সবচেয়ে নিরাপদ শহর মনে করেন নারীরা

file_000000009b40820780f99625778103d3

রাতে একা বাসায় ফেরার সময় চারপাশে বারবার তাকানো, অপরিচিত পুরুষদের দেখলে পথ বদলে নেওয়া কিংবা নিরাপদে পৌঁছে সঙ্গে সঙ্গে স্বজনকে জানানো-বিশ্বের অনেক শহরেই নারীদের কাছে এসব যেন দৈনন্দিন জীবনের স্বাভাবিক অংশ। কিন্তু দুবাইয়ে এসে অনেক নারীই বলছেন, নিরাপত্তা নিয়ে এই অদৃশ্য মানসিক চাপ অনেকটাই দূরে রাখা যায়।


প্রায় ৫০টি দেশে একা ভ্রমণের অভিজ্ঞতা রয়েছে ৩৭ বছর বয়সী অস্ট্রেলীয় আল্ট্রাম্যারাথন দৌড়বিদ জেনাহ-লুইসের। বিভিন্ন দেশে অপহরণের চেষ্টা কিংবা নেশাজাতীয় দ্রব্য খাওয়ানোর মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন তিনি। সেই অভিজ্ঞতার পরও দুবাই বা জেবেল জাইসের মতো এলাকায় ভোরের অন্ধকারে একা থাকলেও তিনি নিরাপদ ও স্বাধীন বোধ করেন বলে জানান।

নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে গবেষণাতেও দেখা যায়, বাইরে চলাফেরার সময় নারী-পুরুষের সতর্কতার ধরন আলাদা। ২০২৪ সালের মার্চে ‘ভায়োলেন্স অ্যান্ড জেন্ডার’ সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়, একা হাঁটার সময় পুরুষরা সাধারণত সামনের পথের দিকে মনোযোগ রাখেন। বিপরীতে নারীরা ঝোপঝাড়, ছায়া ও অন্ধকার জায়গার দিকেও বাড়তি নজর রাখেন। দীর্ঘদিনের এই সতর্কতা মানসিক চাপ, উদ্বেগ, ক্লান্তি ও বিষণ্নতার কারণ হতে পারে বলেও বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে।

দুবাইয়ের ক্ষেত্রে এই অভিজ্ঞতা অনেকটাই ভিন্ন বলে দাবি করেন সেখানে বসবাসকারী নারীরা। এর অন্যতম কারণ কঠোর আইন ও আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার দৃশ্যমান উপস্থিতি। হয়রানি, মৌখিক বা শারীরিক নিপীড়নের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান, অনুমতি ছাড়া কারও ছবি তোলার ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং দ্রুত পুলিশি সহায়তা নারীদের নিরাপত্তাবোধ বাড়িয়েছে।

২০২১ সালের জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির ‘উইমেন, পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি ইনডেক্স’-এর তথ্য অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৯৮ দশমিক ৫ শতাংশ নারী রাতে একা হাঁটার সময় নিরাপদ বোধ করেন। নারী যাত্রীদের জন্য পিঙ্ক ট্যাক্সি, দুবাই মেট্রোতে নারী ও শিশুদের জন্য নির্দিষ্ট কামরা এবং ২৪ ঘণ্টা পুলিশি সহায়তার মতো ব্যবস্থাও নিরাপত্তার অনুভূতিকে আরও শক্তিশালী করেছে।

দুবাইয়ে বেড়ে ওঠা ৪০ বছর বয়সী ভারতীয় ফ্যাশন উদ্যোক্তা দীপ্তি খন্নার অভিজ্ঞতাও একই রকম। তার ভাষ্য, হারানো ফোন বা মানিব্যাগ ফিরে পাওয়া কিংবা রাতে একা চলাফেরা করা সেখানে অস্বাভাবিক কোনো ঘটনা নয়। নিজের আট বছরের মেয়ের নিরাপত্তা নিয়েও তিনি তুলনামূলকভাবে নিশ্চিন্ত থাকেন।নয়াদিল্লি থেকে দুবাইয়ে আসা ৪১ বছর বয়সী একতা আলরেজার অভিজ্ঞতাও বদলে গেছে। দিল্লিতে রাতে বাইরে বের হওয়া নিয়ে তাকে নানা দুশ্চিন্তায় থাকতে হতো। এমনকি মেট্রোর নারী কামরাতেও নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করতেন। দুবাইয়ে এসে নিজের ১৩ বছরের মেয়েকে আরও স্বাধীনভাবে বেড়ে উঠতে দেখছেন তিনি।

নিরাপত্তার পাশাপাশি নারীদের অর্থনৈতিক ও পেশাগত স্বাধীনতার সুযোগও দুবাইয়ের প্রতি তাদের আকর্ষণ বাড়িয়েছে বলে জানান ২৭ বছর বয়সী পাকিস্তানি উদ্যোক্তা শিফা খালিদ এবং ৩৮ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি বিপণন পেশাদার রীম আল নাজ্জার। তাদের মতে, শহরটি নারীদের শুধু নিরাপদে চলাফেরার সুযোগই দেয় না, ব্যবসা ও ক্যারিয়ার গড়ার ক্ষেত্রেও আত্মবিশ্বাসী করে তোলে।
জেনাহ-লুইসের মতে, একজন নারী যখন প্রতিনিয়ত নিজের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তা করতে বাধ্য হন না, তখন তার মানসিক শক্তির বড় একটি অংশ অন্য কাজে ব্যয় করার সুযোগ তৈরি হয়। আর সেই জায়গা থেকেই নিজের স্বপ্ন, সক্ষমতা ও সম্ভাবনা নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

Advertisements
দুবাইনারীনিরপেক্ষতানিরাপত্তা