যৌতুক মামলা প্রমাণিত না হওয়ায় স্বামী খালাস, স্ত্রীর কারাদণ্ড

মানিকগঞ্জে স্বামীর বিরুদ্ধে মিথ্যা যৌতুক মামলা দায়েরের অভিযোগে লাভলী আক্তার নামে এক নারীকে ১০ দিনের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় অভিযুক্ত তার স্বামী মো. আরিফুল ইসলাম রতনকে অভিযোগ থেকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে মানিকগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ২ নম্বর আদালতের বিচারক দোলন বিশ্বাস এ রায় ঘোষণা করেন।
রায় ঘোষণার পর আদালত দণ্ডপ্রাপ্ত লাভলী আক্তারকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তবে পরে তার আইনজীবীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আপিল করার শর্তে জামিন মঞ্জুর করেন আদালত।
যেভাবে মামলার সূত্রপাত
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ২২ জানুয়ারি ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী মো. আরিফুল ইসলাম রতনের সঙ্গে লাভলী আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের পর ২০২২ সালের ১৫ মার্চ স্বামীর বিরুদ্ধে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করার অভিযোগ এনে মামলা করেন লাভলী আক্তার।
সিংগাইর থানা আমলি আদালতে যৌতুক নিরোধ আইনে মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলায় বাদীপক্ষের তিনজন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন।
তবে মামলার শুনানির সময় আসামিপক্ষের আইনজীবীর জেরায় মামলার অভিযোগ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসে। আদালতে প্রমাণিত হয়, অভিযোগে যে সময়ের ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে, তার প্রায় সাত মাস আগেই অভিযুক্ত মো. আরিফুল ইসলাম রতন বিদেশে চলে গিয়েছিলেন।
ফলে মামলায় তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণ করা সম্ভব হয়নি। সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত তাকে বেকসুর খালাস দেন।
মিথ্যা মামলা দায়েরের দায়ে সাজা
অভিযোগের পক্ষে প্রয়োজনীয় প্রমাণ না থাকায় আদালত শুধু আসামিকে খালাসই দেননি, মামলাটি মিথ্যা হিসেবে দায়ের করার দায়ে বাদী লাভলী আক্তারকেও ১০ দিনের কারাদণ্ড দেন।
বাদীপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট মো. আজিজ উল্লাহ। অন্যদিকে আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন কহিনুর।
রায়ের পর লাভলী আক্তারের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সমাপ্তি আক্তার জানান, আদালতে আপিলের শর্তে তার জামিনের আবেদন করা হয়। পরে আদালত মানবিক দিক বিবেচনায় এক মাসের মধ্যে আপিল করার শর্তে এক হাজার টাকা বন্ডে লাভলী আক্তারের জামিন মঞ্জুর করেন।
এ বিষয়ে আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহাবুবুল ইসলাম বলেন, মিথ্যা মামলা করে কাউকে হয়রানি করার প্রবণতা রোধে এ ধরনের রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তার মতে, আদালতের এমন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে মিথ্যা অভিযোগের কারণে নিরপরাধ ব্যক্তিদের হয়রানি করার প্রবণতা নিরুৎসাহিত হতে পারে।



