২০ বছর আগে স্বামী মারা গেলেও ৭৮ বছর বয়সে মেলেনি বিধবা ভাতার কার্ড

বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছেন ৭৮ বছরের বিধবা বোচন বিয়া। শারীরিক দুর্বলতার কারণে এখন আর কাজ করার মতো সক্ষমতা নেই। স্বামী মারা গেছেন প্রায় দুই দশক আগে। দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে একসময় সংসার সামলালেও এখন সন্তানদের কেউ তার পাশে নেই। ফলে সমাজের কিছু মানুষের সহযোগিতায় কোনোভাবে দিন কাটছে তার। এমন অসহায় অবস্থার মধ্যেও এখন পর্যন্ত সরকারি সুরক্ষা সহায়তার কার্ড পাননি তিনি।
বোচন বিয়া ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার পাঠাননগর ইউনিয়নের মধ্যম শিলুয়া গ্রামের আজম মেস্তরী বাড়ির বাসিন্দা। তিনি ওই এলাকার মৃত করিম উল্ল্যাহর স্ত্রী। প্রায় ২০ বছর আগে স্বামী মারা যাওয়ার পর সংসারের দায়িত্ব পুরোপুরি তার কাঁধে এসে পড়ে।

স্বামী মারা যাওয়ার পর দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে নতুন করে জীবনসংগ্রাম শুরু করেন বোচন বিয়া। সংসার চালানোর পাশাপাশি মেয়ের বিয়ের দায়িত্বও নিজের কাঁধে তুলে নেন। মানুষের বাড়িতে কাজ করে উপার্জন করা অর্থ দিয়ে মেয়েকে বিয়ে দেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে তার নিজের জীবন আরও কঠিন হয়ে পড়ে।
তার দুই ছেলের মধ্যে বড় ছেলে মারা গেছেন। ছোট ছেলে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে অন্যত্র বসবাস করেন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ছোট ছেলে মায়ের নিয়মিত খোঁজখবর রাখেন না। ফলে শেষ বয়সে এসে কার্যত একাই জীবন কাটাতে হচ্ছে বোচন বিয়াকে।
স্থানীয় বাসিন্দা মজিবুল হক জানান, স্বামীর রেখে যাওয়া বসতভিটা ছাড়া বোচন বিয়ার তেমন কোনো সম্পদ নেই। তার ঘরেও প্রয়োজনীয় আসবাবপত্রের অভাব রয়েছে। দীর্ঘদিন মানুষের বাড়িতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করলেও বয়সের কারণে এখন আর সেই কাজ করার মতো শারীরিক সক্ষমতা নেই। ফলে অন্য মানুষের সহযোগিতার ওপর নির্ভর করেই তার দিন কাটছে।
নিজের অসহায় অবস্থার কথা বলতে গিয়ে বোচন বিয়া বলেন, ‘এখন আর কাজ করার মতো শক্তি নেই। কিছু মানুষ সহযোগিতা করেন বলেই কোনোভাবে চলছি। অনেকবার ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে ভাতা পাওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু এখনো কোনো কার্ড পাইনি।’
বয়সের শেষ সময়ে এসে নিজের স্বামীর রেখে যাওয়া বসতভিটাতেই বাকি জীবন কাটাতে চান তিনি। এ জন্য সরকারি সহায়তার পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান মানুষের সহযোগিতাও কামনা করেছেন বোচন বিয়া।
তবে বোচন বিয়ার কাছ থেকে ভাতার কার্ড করে দেওয়ার বিনিময়ে টাকা চাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পাঠাননগর ইউনিয়ন পরিষদের হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মনিল বাবু।
তিনি জানান, বোচন বিয়ার ভোটার আইডি কার্ড না থাকায় তার নামে ভাতার কার্ড করা সম্ভব হয়নি। ভোটার পরিচয়পত্র না থাকায় সরকারি ভাতা পাওয়ার প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে জানান তিনি।
এদিকে বোচন বিয়ার অসহায়ত্বের বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের নজরে এসেছে বলে জানিয়েছেন ছাগলনাইয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ ফারহানা পৃথা।
তিনি বলেন, বোচন বিয়ার বিষয়ে তারা অবগত হয়েছেন। তার জন্য বয়স্ক ভাতার কার্ড করে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করারও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
জীবনের শেষ প্রান্তে এসে সরকারি সামাজিক নিরাপত্তার সহায়তা পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন ৭৮ বছরের বোচন বিয়া। স্বামীহারা এই বৃদ্ধার একমাত্র সম্বল বসতভিটাটুকু। শারীরিকভাবে কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলা এই নারীর জন্য সরকারি সহায়তা দ্রুত নিশ্চিত করা গেলে শেষ বয়সে তার জীবন কিছুটা স্বস্তির হতে পারে।



