বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনমঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬
বিবিধ

বাঘ বাড়ছে, বাড়ছে সংঘাতও; ৮ মাসে মধ্যপ্রদেশে নিহত ৫০

WhatsApp Image 2025-06-25 at 4.23.03 PM.jpeg

ভারতের মধ্যপ্রদেশে চলতি বছরের প্রথম আট মাসে বন্যপ্রাণীর সঙ্গে মানুষের সংঘাতে অন্তত ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে রাজ্যটিতে ৪৫টিরও বেশি বাঘ মারা গেছে। বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মানুষের ওপর বন্যপ্রাণীর হামলার ঘটনায় সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে বাঘের আক্রমণে।

ভারতের বন বিভাগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম আট মাসে বাঘের হামলায় ২২ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া বুনো শুয়োরের আক্রমণে আটজন, হাতির হামলায় সাতজন, ভালুকের আক্রমণে চারজন এবং চিতাবাঘের হামলায় একজন প্রাণ হারিয়েছেন।

বন বিভাগের তথ্য আরও বলছে, বন্যপ্রাণীর সঙ্গে সংঘাতের কারণে যে ৫০টি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে, তার মধ্যে ৩০টিই ঘটেছে মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসে। বছরের এই সময়টিতে স্থানীয় গ্রামবাসী এবং উপজাতীয় সম্প্রদায়ের অনেক মানুষ তেন্দুপাতা ও মহুয়া ফুল সংগ্রহের জন্য বনে প্রবেশ করেন। তখন বন্যপ্রাণীর মুখোমুখি হয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে এবং প্রাণহানিও বাড়ে।

বাঘের হামলায় নিহত ২২ জনের মধ্যে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে সেওনিসহ ঘন বনাঞ্চল ঘেরা মহাকৌশল অঞ্চলে। আরও সাতজন প্রাণ হারিয়েছেন বান্ধবগড় ব্যাঘ্র প্রকল্প এলাকায়। এসব এলাকায় বাঘের বিচরণ বেশি হওয়ায় বনসংলগ্ন মানুষের সঙ্গে বাঘের সংঘাতের ঝুঁকিও তুলনামূলকভাবে বেশি।

Advertisements

মধ্যপ্রদেশের ছত্তিশগড় সীমান্তসংলগ্ন পূর্বাঞ্চলীয় জেলাগুলোতে মূলত হাতি ও ভালুকের হামলায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। বনাঞ্চলের কাছাকাছি বসবাসকারী মানুষের সঙ্গে বন্যপ্রাণীর সরাসরি সংস্পর্শের কারণে এসব এলাকায় সংঘাতের ঘটনা নিয়মিত ঘটছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২০-২১ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত পাঁচ বছরে মধ্যপ্রদেশে বন্যপ্রাণীর হামলায় মোট ৪০৬ জন মানুষ নিহত হয়েছেন। একই সময়ে আহত হয়েছেন ৫ হাজার ৮০৪ জন। বন্যপ্রাণীর হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ওই পাঁচ বছরে রাজ্য সরকার ক্ষতিপূরণ বাবদ ৮৮ দশমিক ৩৮ কোটি রুপির বেশি অর্থ দিয়েছে। এর মধ্যে শুধু ২০২৪-২৫ অর্থবছরেই ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়া হয়েছে ২০ দশমিক ০৫ কোটি রুপি।

বাড়ছে বাঘের সংখ্যা, বাড়ছে মানুষ-বাঘ সংঘাত

মধ্যপ্রদেশে গত কয়েক বছরে বাঘের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বর্তমানে রাজ্যটিতে বাঘের সংখ্যা প্রায় ১ হাজারে পৌঁছেছে। তবে বাঘের সংখ্যা বাড়লেও সেই অনুপাতে বনাঞ্চল বা তাদের বিচরণক্ষেত্র বাড়েনি।

ফলে অনেক সময় বাঘ অভয়ারণ্য ও নির্ধারিত বনাঞ্চলের বাইরে চলে আসছে। এসব বাঘ যখন লোকালয় কিংবা বনসংলগ্ন এলাকায় প্রবেশ করছে, তখন মানুষের সঙ্গে তাদের সরাসরি সংযোগ তৈরি হচ্ছে। এর ফলেই মানুষ ও বন্যপ্রাণীর মধ্যে সংঘাত বাড়ছে এবং প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে।

আট মাসে ৪৫টির বেশি বাঘের মৃত্যু

মানুষের পাশাপাশি চলতি বছরের প্রথম আট মাসে মধ্যপ্রদেশে ৪৫টিরও বেশি বাঘ মারা গেছে। এসব বাঘের মৃত্যুর পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বন বিভাগের তথ্য ও সংশ্লিষ্টদের ধারণা অনুযায়ী, কিছু বাঘ স্বাভাবিক কারণে মারা গেছে। এ ছাড়া নিজেদের মধ্যে আঞ্চলিক আধিপত্যের লড়াই, বয়সজনিত কারণ, বিষপ্রয়োগ, শিকার এবং সড়ক ও রেল দুর্ঘটনাও বাঘের মৃত্যুর জন্য দায়ী।

অভয়ারণ্য ও সংরক্ষিত বনাঞ্চলের বাইরে বাঘের চলাচল বাড়ায় সড়ক ও রেলপথে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে অবৈধ শিকার ও বিষপ্রয়োগের মতো মানবসৃষ্ট কারণও বাঘের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠেছে।

এর আগে এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল, ২০২০ ও ২০২১ সালে মধ্যপ্রদেশে ৮৮টি বাঘের মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো স্পষ্ট হয়নি। এসব মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে জাতীয় ব্যাঘ্র সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে।

বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধি একদিকে মধ্যপ্রদেশের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের সাফল্য হিসেবে দেখা হলেও, অন্যদিকে বনাঞ্চল ও বাঘের বিচরণক্ষেত্রের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে। ফলে মানুষের বসতি ও বাঘের আবাসস্থলের মধ্যে দূরত্ব কমে আসার সঙ্গে সঙ্গে মানুষ-বন্যপ্রাণী সংঘাতও ক্রমেই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।

Advertisements
বন্যপ্রাণীবাঘভারতমধ্যপ্রদেশ