বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনসোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬
খাবার-দাবার

কোলাজেনের ভালো উৎস মুরগির পা, রয়েছে নানা পুষ্টিগুণ

1_d9VwXATUYfPaunNINYM-Fw@2x

মুরগির পা বা Chicken Feet বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দীর্ঘদিন ধরে ঐতিহ্যবাহী খাবার হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বিশেষ করে স্যুপ ও বোন ব্রথ তৈরিতে এর ব্যবহার বেশ জনপ্রিয়। পুষ্টিগুণের দিক থেকেও মুরগির পা কোলাজেনের একটি ভালো উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়।

দীর্ঘ সময় ধরে ধীরে ধীরে রান্না করলে মুরগির পায়ের সংযোজক টিস্যু ভেঙে জেলাটিনে পরিণত হয়। এই জেলাটিনে গ্লাইসিন ও প্রোলিনের মতো বিভিন্ন অ্যামিনো অ্যাসিড থাকে, যা শরীরের বিভিন্ন প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখে।

জয়েন্ট ও ত্বকের জন্য উপকারী হতে পারে

মুরগির পায়ে থাকা কোলাজেন ও অ্যামিনো অ্যাসিড শরীরে কোলাজেন তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান সরবরাহ করতে পারে। ফলে সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবে এটি জয়েন্ট ও কার্টিলেজের স্বাস্থ্যে সহায়ক হতে পারে।

এ ছাড়া কোলাজেনসমৃদ্ধ খাবার ত্বকের আর্দ্রতা ও স্থিতিস্থাপকতা বজায় রাখতেও ভূমিকা রাখতে পারে। তবে শুধু মুরগির পা খেলেই ত্বক বা জয়েন্টের সমস্যা দূর হবে—এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

Advertisements

গাটের স্বাস্থ্যে ভূমিকা

মুরগির পা থেকে তৈরি জেলাটিন অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্যও সহায়ক হতে পারে। বিশেষ করে গাটের আবরণ বা intestinal lining-এর স্বাভাবিক গঠনে জেলাটিনের কিছু উপাদান ভূমিকা রাখতে পারে।

এতে ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও ম্যাগনেসিয়ামের মতো কিছু খনিজও অল্প পরিমাণে পাওয়া যায়।

কোলাজেন থাকলেই কি সরাসরি শরীরে যায়?

মুরগির পায়ে প্রাকৃতিক কোলাজেন থাকলেও এটি সরাসরি শরীরের ত্বক বা জয়েন্টে গিয়ে জমা হয় না। শরীর কোলাজেনকে হজমের মাধ্যমে ছোট ছোট উপাদান ও অ্যামিনো অ্যাসিডে ভেঙে নেয়। এরপর শরীর প্রয়োজন অনুযায়ী এসব উপাদান ব্যবহার করে।

শরীরে পর্যাপ্ত কোলাজেন তৈরির জন্য শুধু কোলাজেনসমৃদ্ধ খাবার নয়, ভিটামিন সি, পর্যাপ্ত প্রোটিন, জিঙ্ক ও কপার-এর মতো পুষ্টি উপাদানও গুরুত্বপূর্ণ।

কীভাবে তৈরি করবেন বোন ব্রথ?

মুরগির পা ভালোভাবে পরিষ্কার করে সবজি ও বিভিন্ন হার্বসের সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে ধীরে ধীরে সিদ্ধ করে বোন ব্রথ তৈরি করা যায়। সাধারণত ৪ থেকে ৮ ঘণ্টা ধীরে রান্না করলে সংযোজক টিস্যু নরম হয়ে জেলাটিন বের হয়ে আসে।

চাইলে রান্নার পর উপরে জমে থাকা অতিরিক্ত চর্বি তুলে ফেলা যায়। এরপর এটি অন্যান্য পুষ্টিকর খাবারের সঙ্গে সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে খাওয়া যেতে পারে।

তবে মুরগির পাকে কোনো অলৌকিক খাবার’ হিসেবে দেখা উচিত নয়। এটি পুষ্টিকর খাদ্য হতে পারে, কিন্তু একাই জয়েন্ট, ত্বক বা গাটের সব সমস্যা সমাধান করতে পারে না। সুস্থ থাকতে নিয়মিত সুষম খাবার, পর্যাপ্ত প্রোটিন, প্রয়োজনীয় ভিটামিন-মিনারেল এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

Advertisements
কোলাজেনপাপুষ্টিগুণমুরগি