২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | বৃহস্পতিবারবাংলা: ৯ আশ্বিন ১৪৩৩
স্বাস্থ্য

ভাইরাস ঠেকাতে এবার চুইংগাম! গবেষণায় মিলল চমকপ্রদ ফল

istockphoto-2197604728-612×612

টিকা বা ওষুধ নয়, বিশেষ ধরনের চুইংগাম চিবিয়েই মুখের ভেতরে থাকা কিছু ভাইরাসের পরিমাণ কমানো সম্ভব হতে পারে। ল্যাবল্যাব বিন থেকে তৈরি এই চুইংগাম নিয়ে গবেষণায় ইনফ্লুয়েঞ্জা ও হার্পিস ভাইরাসের বিরুদ্ধে আশাব্যঞ্জক ফল পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক হেনরি ড্যানিয়েল ও তাঁর সহকর্মীরা ল্যাবল্যাব বিন থেকে তৈরি চুইংগাম নিয়ে এই গবেষণা চালান। ল্যাবল্যাব বিনে প্রাকৃতিকভাবে থাকা এফআরআইএল নামের একটি প্রোটিন ভাইরাসকে আটকে নিষ্ক্রিয় করতে পারে। গবেষকেরা এই প্রোটিনকে চুইংগামের মাধ্যমে মুখের ভেতরে পৌঁছে দেওয়ার কৌশল পরীক্ষা করেছেন।

গবেষণায় দেখা গেছে, চুইংগাম চিবানোর সময় এফআরআইএল প্রোটিন লালার সঙ্গে মিশে যায়। পরীক্ষাগারে এই চুইংগাম ইনফ্লুয়েঞ্জা এ ভাইরাসের এইচ১এন১ ও এইচ৩এন২ এবং হার্পিস সিমপ্লেক্স ভাইরাসের এইচএসভি-১ ও এইচএসভি-২-এর বিরুদ্ধে কার্যকারিতা দেখিয়েছে। নির্দিষ্ট মাত্রায় চুইংগামের উপাদান ব্যবহার করলে পরীক্ষায় এসব ভাইরাসের ৯৫ শতাংশের বেশি নিষ্ক্রিয় করার ফল পাওয়া গেছে।

গবেষকদের মতে, মুখ ও লালার মাধ্যমে ছড়ানো ভাইরাসের ক্ষেত্রে সংক্রমণের জায়গাতেই ভাইরাসের পরিমাণ কমিয়ে দেওয়ার একটি নতুন পদ্ধতি হিসেবে এই চুইংগাম কাজে লাগতে পারে। এর আগে একই ধরনের ল্যাবল্যাব বিনের চুইংগাম নিয়ে সার্স-কোভ-২ ভাইরাসের ওপরও গবেষণা করা হয়েছিল। সেই পরীক্ষায় কোভিড-১৯ আক্রান্ত ব্যক্তিদের লালা ও নমুনায় ভাইরাসের পরিমাণ ৯৫ শতাংশের বেশি কমানোর ফল পাওয়া যায় বলে গবেষকেরা জানিয়েছেন।

তবে এখনই এই চুইংগামকে করোনা, ইনফ্লুয়েঞ্জা বা হার্পিসের চিকিৎসা হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ নেই। নতুন গবেষণার ফল মূলত পরীক্ষাগারভিত্তিক। মানুষের শরীরে এটি ভাইরাসের সংক্রমণ বা ছড়িয়ে পড়া কতটা কমাতে পারে, তা নিশ্চিত করতে আরও মানবদেহে পরীক্ষা প্রয়োজন।

গবেষকেরা জানিয়েছেন, পরবর্তী ধাপে মানবদেহে ক্লিনিক্যাল গবেষণার মাধ্যমে এই চুইংগামের কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা যাচাই করা হবে। ফলাফল আশানুরূপ হলে ভবিষ্যতে ভাইরাসের সংক্রমণ ও বিস্তার কমাতে চুইংগামভিত্তিক এই পদ্ধতি নতুন একটি চিকিৎসা-সহায়ক ব্যবস্থা হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

Advertisements
Advertisements