বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনসোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬
বিবিধ

‘স্ত্রী-সন্তানদের খাবারের টাকাও পাঠাতে পারছি না’- কোচের আর্তনাদ, যা বলছে বাফুফে

prothomalo-bangla_2026-08-10_n66tlt45_730171650184468537301415561854014487887956879n

বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল দলের ইংলিশ কোচ জেরার্ড জোন্স বেতন পাওয়া নিয়ে জটিলতার কথা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক পোস্ট দিয়েছেন। এক পর্যায়ে স্ত্রী ও তিন সন্তানের কাছে খাবারের খরচও পাঠাতে পারছেন না বলে হতাশা প্রকাশ করেন তিনি। একই সঙ্গে নিজের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন এই কোচ।

তবে জেরার্ডের বেতন আটকে নেই বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। বাফুফের সাধারণ সম্পাদক জানিয়েছেন, চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ১০ তারিখের মধ্যেই তাঁর অ্যাকাউন্টে বেতন পাঠানো হয়েছে।

বাফুফের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘তাঁর সঙ্গে আমাদের চুক্তি অনুযায়ী, ১০ তারিখের মধ্যে বেতন দেওয়ার কথা। সে ভাবেই আমরা তাঁর অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠিয়ে দিয়েছি। এরপর কী হলো সেটা বলতে পারব না।’ এর আগে সোমবার সকালে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে জেরার্ড জানিয়েছিলেন, তিনি তখনও বেতনের অপেক্ষায় ছিলেন। এমনকি অর্থসংকটের কারণে স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য খাবারের টাকাও পাঠাতে পারছেন না বলে জানান তিনি। পাশাপাশি নিজের জীবন ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

পরে দেওয়া আরেকটি পোস্টে অবশ্য জেরার্ড জানান, তিনি অর্থ পেয়েছেন। তবে ব্যাংকিং-সংক্রান্ত কিছু জটিলতার কারণে সেই অর্থ নিয়ে নতুন সমস্যায় পড়েছেন। এসব বিষয় সম্পর্কে তাঁকে আগে জানানো হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি। নিজের আর্থিক তথ্য অন্যদের সঙ্গে যেভাবে যোগাযোগ ও শেয়ার করা হয়েছে, তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এই কোচ। তাঁর ভাষ্য, স্ত্রী ও তিন সন্তান থেকে দূরে থাকাটাই তাঁর জন্য কঠিন সময়ের। এর মধ্যে ঢাকায় অবস্থানকালে গাড়ির কাছে এসে টাকা চাওয়া, গাড়িতে ধাক্কা দেওয়া এবং গাড়ি ঘিরে ধরার মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন তিনি। ব্যক্তিগতভাবেও অনেকে তাঁর কাছে আর্থিক সহায়তা চেয়েছেন বলে জানান।

Advertisements

সব মিলিয়ে নিজেকে অত্যন্ত একা, বিপন্ন ও অসহায় মনে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জেরার্ড। তিনি বলেন, চলমান অনিশ্চয়তা, একের পর এক নতুন সমস্যার মুখোমুখি হওয়া এবং এখানকার জীবনযাপনের পরিস্থিতি তাঁর ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি করছে। তিনি ভয় ও আতঙ্কের মধ্যে আছেন বলেও জানান। জেরার্ডের ভাষায়, তিনি শুধু চান কোনো ধরনের দুশ্চিন্তা ছাড়াই নিজের দায়িত্ব পালন করতে।

বর্তমানে বাংলাদেশের যুব দলের আবাসিক ক্যাম্প চলছে যশোরের শামসুল হুদা একাডেমিতে। সেখানেই অবস্থান করছেন জেরার্ড। এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে তিনি নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়ে বলেছিলেন, প্রতিনিয়ত ভুল বোঝাবুঝি ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে তাঁকে।

দুপুরে দেওয়া এক ভিডিও বার্তাতেও নিজের মানসিক বিপর্যস্ততার কথা তুলে ধরেন জেরার্ড। তিনি বলেন, প্রতিদিনই নতুন কোনো না কোনো সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন এবং পরিস্থিতি তাঁকে ভেতর থেকে ভেঙে দিচ্ছে। পরিবারকে হতাশ করেছেন- এমন অনুভূতিও তাঁকে কষ্ট দিচ্ছে বলে জানান তিনি। এদিকে বাফুফের একটি সূত্র জানিয়েছে, বেতনের অর্থ নিজ দেশে পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সোমবার দুপুরের দিকে যশোর থেকে ঢাকায় আসেন জেরার্ড।

গত জুনে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দলের কোচের দায়িত্ব নেন ইংল্যান্ডের এই উয়েফা ‘এ’ লাইসেন্সধারী কোচ। দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র দুই মাসের মধ্যেই বেতন ও ব্যাংকিং জটিলতাকে ঘিরে তাঁর এমন প্রকাশ্য হতাশা দেশের ফুটবল অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

Advertisements
জেরার্ড জোন্সবাফুফেবাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল দলসন্তানস্ত্রী