বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনরবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬
বিবিধ

অবসরের পর আর দীর্ঘ অপেক্ষা নয়! এ মাসেই সব শিক্ষক পাচ্ছেন অবসর সুবিধার একাংশ

768219097_4539030939719301_411505168813781736_n

অবসরের পর প্রাপ্য অর্থের জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হয়- এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এবার সেই ভোগান্তি কিছুটা কমাতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণসুবিধার পুরো অর্থ একসঙ্গে দেওয়া সম্ভব না হলেও আপাতত তাঁদের প্রাপ্য টাকার একটি অংশ পরিশোধ করা হবে।

সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অবসরসুবিধার জন্য একজন শিক্ষক-কর্মচারী সর্বোচ্চ সাড়ে ৪ লাখ টাকা এবং কল্যাণসুবিধার জন্য সর্বোচ্চ ২ লাখ ৩৯ হাজার টাকা পর্যন্ত পেতে পারেন। তবে পদ ও গ্রেডভেদে এই অর্থের পরিমাণ কমবেশি হবে। মূলত চাকরির সময় শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন থেকে যে চাঁদা কেটে রাখা হয়েছিল, সেই অর্থের অংশই এবার তাঁদের দেওয়া হবে। অবশিষ্ট টাকা পরবর্তী সময়ে আবেদনের ক্রমানুসারে পরিশোধ করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, কল্যাণসুবিধার জন্য গত ৩০ জুন পর্যন্ত এবং অবসরসুবিধার জন্য ৩১ জুলাই পর্যন্ত আবেদন করা শিক্ষক-কর্মচারীরা এই ধাপের অর্থ পাবেন। আগামী ১৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট এবং শিক্ষক ও কর্মচারী অবসরসুবিধা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এবার অবসরসুবিধার আওতায় ৭০ হাজার ১১৯ জন শিক্ষক-কর্মচারী অর্থ পাবেন। এ খাতে ব্যয় হবে প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা। অন্যদিকে, কল্যাণসুবিধার জন্য ৫৩ হাজার ৪৭৭টি আবেদনের বিপরীতে প্রায় ৫৬৫ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। একজন শিক্ষক-কর্মচারী একই সঙ্গে অবসর ও কল্যাণ- দুই ধরনের সুবিধাই পেয়ে থাকেন। ফলে দুই খাতে মোট ১ লাখ ২৩ হাজার ৫৯৬টি আবেদনের বিপরীতে অর্থ দেওয়া হলেও প্রকৃত সুবিধাভোগীর সংখ্যা এর চেয়ে কম।

দীর্ঘ অপেক্ষার পর কিছুটা স্বস্তি

Advertisements

এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা ছয় লাখের বেশি। তাঁদের অবসর ও কল্যাণসুবিধা পরিচালনা করে দুটি পৃথক প্রতিষ্ঠান। কল্যাণসুবিধা দেয় বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট এবং অবসরসুবিধা দেয় বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী অবসরসুবিধা বোর্ড। অবসরের পর এসব অর্থ পেতে অনেক শিক্ষক-কর্মচারীকেই দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। কেউ মাসের পর মাস, কেউ আবার বছরের পর বছর ধরে আবেদন করে অর্থ পাওয়ার অপেক্ষায় থাকেন। এমনকি কেউ কেউ জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত প্রাপ্য অর্থ হাতে পাননি- এমন অভিযোগও রয়েছে।

এ কারণে সরকারের আংশিক অর্থ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে স্বস্তির খবর হিসেবেই দেখছেন শিক্ষক-কর্মচারীরা। তবে তাঁদের দাবি, এখন যে অর্থ দেওয়া হচ্ছে, তার পাশাপাশি অবশিষ্ট পাওনাও যেন দ্রুত পরিশোধ করা হয়। কল্যাণ ট্রাস্টের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বর্তমানে আংশিক অর্থ দেওয়া হলেও ভবিষ্যতে সরকার এ খাতে আরও অর্থ বরাদ্দ করলে অবশিষ্ট টাকাও পর্যায়ক্রমে দেওয়া হতে পারে।

বেতনের চাঁদা থেকেই মিলছে অর্থ

শিক্ষকদের অবসর ও কল্যাণসুবিধার অর্থের বড় একটি উৎস তাঁদের কাছ থেকে চাকরির সময় কেটে রাখা চাঁদা। এ ছাড়া ব্যাংকে জমা থাকা অর্থের সুদ, সরকারের থোক বরাদ্দ এবং বন্ড সুবিধার মাধ্যমেও তহবিল গঠিত হয়। অবসরসুবিধার জন্য শিক্ষক-কর্মচারীদের মূল বেতনের ৬ শতাংশ এবং কল্যাণসুবিধার জন্য ৪ শতাংশ হারে চাঁদা কেটে রাখা হয়েছে। ২০১৯ সাল পর্যন্ত এই হারে চাঁদা নেওয়া হয়। এর আগে অবসরসুবিধার জন্য ৪ শতাংশ এবং কল্যাণসুবিধার জন্য ২ শতাংশ হারে চাঁদা নেওয়া হতো।

এ ছাড়া প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে বছরে ১০০ টাকা নেওয়া হয়। এর মধ্যে ৭০ টাকা যায় অবসরসুবিধা তহবিলে এবং ৩০ টাকা কল্যাণসুবিধার তহবিলে। বাকি অর্থের একটি অংশ সরকার ও জমা অর্থের সুদ থেকে সমন্বয় করা হয়। সংশ্লিষ্টদের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, সর্বোচ্চ গ্রেডের একজন অধ্যক্ষ অবসরসুবিধা হিসেবে মোট প্রায় ৩৮ লাখ টাকা পেতে পারেন। এর মধ্যে তাঁর নিজের চাঁদার পরিমাণ প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকা। কল্যাণসুবিধায় তিনি পেতে পারেন ২০ লাখ টাকার বেশি। অন্যদিকে, একজন মাধ্যমিক সহকারী শিক্ষক অবসরসুবিধা হিসেবে প্রায় ১৭ লাখ টাকা পান, যার মধ্যে তাঁর চাঁদার পরিমাণ প্রায় ২ লাখ টাকা। কল্যাণসুবিধায় মোট প্রায় পৌনে ৭ লাখ টাকা পাওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর চাঁদার অংশ প্রায় ৭৭ হাজার টাকা। কর্মচারীদের ক্ষেত্রে এই অঙ্ক আরও কম। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সূত্র বলছে, বর্তমানে দুই প্রতিষ্ঠানে জমা থাকা অর্থ থেকেই এবার শিক্ষক-কর্মচারীদের এই আংশিক সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।

অবসরসুবিধা বোর্ডের সচিব মো. মোশাররফ হোসেন জানিয়েছেন, আপাতত আবেদনকারী প্রায় সব শিক্ষক-কর্মচারীই তাঁদের জমা দেওয়া চাঁদার অংশ পাবেন। পরবর্তী সময়ে তহবিলে অর্থ এলে অবশিষ্ট পাওনাও পর্যায়ক্রমে পরিশোধ করা হবে। তাঁর আশা, এই উদ্যোগের ফলে অবসরসুবিধার অর্থ পেতে শিক্ষক-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে।

Advertisements
অপেক্ষাঅবসরবাংলাদেশশিক্ষক