বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনশনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬
জীবনযাপন

বিড়ালের ভাষা বুঝবেন যেভাবে

cat7

বিড়াল কথা বলতে পারে না—এমনটা আমরা সাধারণভাবে মনে করি। কিন্তু আসলে পোষা বিড়ালটি তার মালিকের সঙ্গে সারাক্ষণই যোগাযোগের চেষ্টা করে। কখনো ‘ম্যাও’ করে, কখনো লেজের ভঙ্গি বদলায়, আবার কখনো চোখের পলক কিংবা শরীর ঘেঁষে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে।

বিজ্ঞানীদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, মানুষের সঙ্গে নিজেদের প্রয়োজন ও অনুভূতি ভাগ করে নিতে বিড়াল নানা ধরনের শব্দ ও আচরণ ব্যবহার করে। একই ধরনের ‘ম্যাও’ সব সময় একই অর্থ বহন করে না। ডাকের ধরন, স্বর, লেজের অবস্থান, চোখের দৃষ্টি এবং শরীরের ভঙ্গি—সবকিছু মিলিয়েই বোঝা যায় বিড়ালটি আসলে কী বলতে চাইছে।

পোষা বিড়ালের এসব সংকেত বুঝতে পারলে তার সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক আরও সহজ ও গভীর হতে পারে।

ম্যাওয়েরও আছে আলাদা ভাষা

একটি বিড়ালকে হয়তো দিনে অসংখ্যবার ‘ম্যাও’ করতে দেখা যায়। কিন্তু প্রতিটি ডাকের উদ্দেশ্য এক নয়। ডাকের সময়, শব্দের দৈর্ঘ্য ও স্বরের পার্থক্য লক্ষ্য করলে অনেকটাই বোঝা যায় সে কী চাইছে।

Advertisements

আপনি বাইরে থেকে বাড়ি ফিরলে বিড়াল যদি ছোট ও স্বাভাবিক স্বরে ‘ম্যাও’ করে, সেটি অনেকটা অভ্যর্থনা জানানোর মতো আচরণ। দীর্ঘ সময় পর বাড়িতে ফিরলে একের পর এক ডাক দিয়ে সে আনন্দ বা উত্তেজনাও প্রকাশ করতে পারে।

আবার মাঝারি স্বরের ম্যাও অনেক সময় খাবার বা পানির প্রয়োজনের সংকেত দেয়। আর যদি ডাকটি দীর্ঘ ও জোরালো হয়, তাহলে ধরে নেওয়া যায় তার চাহিদাটা বেশ জরুরি।

সব ডাক যে চাওয়ার কথা জানায়, তা নয়। নিচু বা কিছুটা ভিন্ন স্বরের ডাক দিয়ে বিড়াল বিরক্তি কিংবা অসন্তোষও প্রকাশ করতে পারে। তাই শুধু শব্দ শুনে নয়, ডাকের সময় তার আশপাশের পরিস্থিতিও খেয়াল করা জরুরি।

লেজের ভঙ্গিতেই বোঝা যায় মনের অবস্থা

বিড়ালের লেজ যেন তার মনের অবস্থার একটি ছোট্ট সূচক। লেজ কীভাবে রাখা হয়েছে বা কীভাবে নড়ছে, সেদিকে নজর রাখলে তার অনুভূতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

লেজ সোজা করে ওপরের দিকে তুলে রাখা সাধারণত আনন্দ বা স্বস্তির ইঙ্গিত। কোনো কিছুতে উত্তেজিত বা অস্থির হলে লেজ কাঁপতে পারে। আবার ভয় বা হুমকি অনুভব করলে লেজের লোম খাড়া হয়ে সেটি বড় দেখাতে পারে।

তবে একই ধরনের লেজের ভঙ্গির অর্থ পরিস্থিতিভেদে ভিন্ন হতে পারে। কোনো কোনো সময় লোম ফুলিয়ে লেজ উঁচু করা খেলতে চাওয়ার উত্তেজনাও প্রকাশ করতে পারে।

বিড়াল যদি লেজ শরীরের নিচে গুটিয়ে রাখে, তাহলে সেটি সাধারণত ভয় বা নিরাপত্তাহীনতার লক্ষণ। আর আপনার পায়ের চারপাশে লেজ পেঁচিয়ে রাখলে সেটি ঘনিষ্ঠতা ও স্নেহের প্রকাশ হতে পারে।

আবার আক্রমণাত্মক অবস্থায় বিড়ালের লেজ অস্বাভাবিকভাবে বাঁকানো বা শক্ত হয়ে থাকতে পারে। এ সময় লেজের পাশাপাশি কান, চোখ ও শরীরের ভঙ্গিও লক্ষ্য করা দরকার।

চোখে চোখ রাখারও অর্থ আছে

বিড়ালের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তোলার ক্ষেত্রে চোখের ভাষাও গুরুত্বপূর্ণ। আপনি যদি বিড়ালের দিকে তাকিয়ে ধীরে ধীরে চোখের পলক ফেলেন, অনেক সময় সে একইভাবে প্রতিক্রিয়া জানায়। এটি তার কাছে স্বস্তি ও বিশ্বাসের সংকেত হতে পারে।

তবে বিড়ালের চোখের দিকে দীর্ঘ সময় একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকা ঠিক নয়। সে এটিকে হুমকি বা আক্রমণাত্মক আচরণ হিসেবে নিতে পারে এবং অস্বস্তি বোধ করতে পারে।

অন্যদিকে কোনো বিড়াল যদি স্বাভাবিকভাবে আপনার চোখের দিকে তাকিয়ে থাকে, তাহলে সেটি তার আস্থা ও স্বাচ্ছন্দ্যের প্রকাশ হতে পারে। ধীরে ধীরে চোখ বন্ধ করা বা পলক ফেলা সাধারণত বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণের ইঙ্গিত।

তবে চোখের মণি বড় হয়ে যাওয়ার অর্থ একটিমাত্র নয়। সে খেলতে চাইতে পারে, উত্তেজিত হতে পারে অথবা ভয় পেয়ে আত্মরক্ষামূলক অবস্থায় যেতে পারে। তাই চোখের সঙ্গে তার লেজ, কান ও শরীরের অন্যান্য অঙ্গভঙ্গিও মিলিয়ে দেখতে হবে।

শরীর ঘেঁষে এলে কী বোঝায়?

বিড়ালের শরীরী ভাষার সবচেয়ে পরিচিত আচরণগুলোর একটি হলো মানুষের শরীরের সঙ্গে গা ঘষা। পোষা বিড়াল আপনার পায়ে বা শরীরে গা ঘষলে সেটি সাধারণত আপনাকে নিজের পরিচিত ও নিরাপদ মানুষ হিসেবে গ্রহণ করার ইঙ্গিত।

কখনো বিড়াল নাক দিয়ে আপনার নাকে হালকা স্পর্শ করতে পারে। এটিও ঘনিষ্ঠতা ও স্নেহ প্রকাশের একটি উপায়। আবার মাথা দিয়ে হালকা ধাক্কা দেওয়াও তার পক্ষ থেকে বন্ধুত্বপূর্ণ যোগাযোগের সংকেত হতে পারে।

এসব আচরণের মাধ্যমে বিড়াল শুধু আদরই প্রকাশ করে না, বরং পরিচিতি ও সামাজিক বন্ধনের অনুভূতিও প্রকাশ করে।

আপনাকে চাটলে ভয় পাওয়ার কারণ নেই

কখনো দেখা যায়, বিড়াল নিজের শরীর পরিষ্কার করার পাশাপাশি মানুষের হাত বা শরীরের কোনো অংশও চাটছে। এটিকে অদ্ভুত মনে হলেও এর মধ্যে সামাজিক সম্পর্কের বিষয়টি জড়িয়ে থাকতে পারে।

বিড়াল সাধারণত নিজেদের পরিষ্কার রাখতে শরীর চাটে। মা বিড়ালও সন্তানকে পরিষ্কার করার জন্য চেটে দেয়। তাই কোনো বিড়াল আপনাকে চাটলে অনেক সময় সেটি আপনাকে নিজের ঘনিষ্ঠ গোষ্ঠী বা পরিবারের অংশ হিসেবে গ্রহণ করার আচরণ হতে পারে।

অর্থাৎ তার কাছে এটি এক ধরনের পরিচর্যা বা ‘গ্রুমিং’।

চুল নিয়ে টানাটানি কেন?

কিছু বিড়ালের মধ্যে মানুষের চুল নিয়ে খেলা বা চুল মুখে নেওয়ার প্রবণতাও দেখা যায়। এ ধরনের আচরণকে অনেক সময় সামাজিক গ্রুমিংয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত করা হয়। বিড়াল হয়তো আপনাকে নিজের মতো করে পরিচর্যা করার চেষ্টা করছে।

তবে বিড়ালের আচরণ সব সময় একই অর্থ বহন করে না। বিশেষ করে সে যদি হঠাৎ বিরক্ত হয়ে হালকা কামড় দেওয়ার চেষ্টা করে, তখন তাকে কিছুটা সময় নিজের মতো থাকতে দেওয়া ভালো।

এ ধরনের আচরণ অনেক সময় বোঝায় যে সে তখন আর স্পর্শ বা আদর পেতে চাইছে না।

বিড়ালকে বুঝতে হলে একটিমাত্র সংকেত যথেষ্ট নয়

বিড়ালের ভাষা বোঝার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো তার একাধিক সংকেত একসঙ্গে দেখা। শুধু ‘ম্যাও’ শুনে যেমন তার চাহিদা বোঝা কঠিন, তেমনি শুধু লেজ দেখেও সব সময় সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।

ডাকের স্বর, লেজের অবস্থান, চোখের পলক, শরীরের ভঙ্গি এবং আপনার সঙ্গে তার আচরণ—সবকিছু মিলিয়ে পরিস্থিতি বুঝতে হবে।

একই বিড়ালও পরিস্থিতি অনুযায়ী ভিন্নভাবে আচরণ করতে পারে। তাই নিয়মিত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে নিজের পোষা প্রাণীটির স্বাভাবিক আচরণগুলো চিনে নেওয়াই সবচেয়ে ভালো উপায়।

বিড়াল মানুষের ভাষায় কথা বলতে পারে না ঠিকই, কিন্তু তার নিজস্ব ভাষা আছে। সেই ভাষার শব্দগুলো হলো ‘ম্যাও’, চোখের পলক, লেজের নড়াচড়া, শরীর ঘেঁষে থাকা কিংবা মাথা দিয়ে আলতো ধাক্কা। এসব ছোট ছোট সংকেত বুঝতে শিখলে পোষা বিড়ালটির প্রয়োজন যেমন সহজে বোঝা যাবে, তেমনি তার সঙ্গে মানুষের সম্পর্কও হয়ে উঠবে আরও আন্তরিক।

Advertisements
বিড়ালভাষাম্যাও