বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনশনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬
বিনোদন

৫০ বছরেও সাইফের বোনের জীবনে কেন এল না বিয়ে?

1786085586-52ddca86ba8937892b0b2ac621b57da4

ভারতীয় চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুরের কন্যা এবং বলিউড অভিনেতা সাইফ আলি খান ও অভিনেত্রী সোহা আলি খানের বোন সাবা পাতৌদি। তার পরিবারের অধিকাংশ সদস্যই বিনোদন জগতের সঙ্গে যুক্ত হলেও সাবা বরাবরই নিজেকে রূপালি পর্দার আলো-ঝলমল দুনিয়া থেকে দূরে রেখেছেন। পতৌদি পরিবারের বড় কন্যা হয়েও অভিনয়ে আসেননি তিনি। বরং বেছে নিয়েছেন সম্পূর্ণ ভিন্ন ও অপেক্ষাকৃত শান্ত জীবনধারা।

১৯৭৬ সালের ১ মে জন্ম নেওয়া সাবা পাতৌদির বয়স বর্তমানে ৫০ বছর। পেশায় তিনি একজন জুয়েলারি বা গহনা ডিজাইনার। এর পাশাপাশি নিজের ইনস্টাগ্রাম বায়োতে নিজেকে ট্যারোট কার্ড রিডার ও আধ্যাত্মিক হিলার হিসেবেও পরিচয় দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে ভোপালের ‘রয়েল অ্যান্ডোমেন্ট ট্রাস্ট’-এর প্রধান তত্ত্বাবধায়কের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও পালন করছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বেশ সক্রিয় সাবা। ইনস্টাগ্রামে তার অনুসারীর সংখ্যা প্রায় ২ লাখ ৫৯ হাজার। সেখানে তিনি পরিবারের বিভিন্ন মুহূর্ত, ছবি ও ব্যক্তিগত জীবনের নানা বিষয় অনুসারীদের সঙ্গে শেয়ার করেন। পরিবারের তারকাখ্যাতির বাইরে থেকেও নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করেছেন তিনি।

৫০ বছর বয়সেও কেন বিয়ে করেননি?

Advertisements

পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা বিনোদন জগতের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও সাবা এখনো বিয়ে করেননি। এত বছর বয়সেও কেন তিনি অবিবাহিত—এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আগ্রহ রয়েছে তার ভক্তদের মধ্যে। সম্প্রতি নেহা ধুপিয়া ও অঙ্গদ বেদীর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে নিজের বিয়ে না করা এবং ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন সাবা।

সাক্ষাৎকারে সাবা জানান, তার জীবনে কখনো কোনো প্রথম প্রেমিক ছিল না। বরং ১৮ বা ১৯ বছর বয়স থেকেই পরিবারের পক্ষ থেকে তার জন্য বিভিন্ন পাত্রের প্রস্তাব আসতে শুরু করে।

নিজের জীবনের একটি পুরোনো ঘটনার কথা স্মরণ করে সাবা বলেন, ১৯ বছর বয়সে কলকাতার এক পাত্রের সঙ্গে তার বিয়ের আলোচনা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সেই বিয়ে আর হয়নি। কারণ তখন তিনি নিজেকে বিয়ের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত মনে করেননি।

সাবা বলেন, ‘১৯ বছর বয়সে কলকাতার এক পাত্রের সঙ্গে আমার বিয়ের আলোচনা প্রায় চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা আর হয়ে ওঠেনি, কারণ তখন আমি বিয়ের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলাম না।’

পরবর্তী সময়ে অবশ্য বিয়ের বিষয়ে তার মনোভাব ইতিবাচক ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে মনের মতো জীবনসঙ্গী খুঁজে পাননি তিনি। নিজের পছন্দের সঙ্গী না পাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সাবা তার প্রয়াত বাবা এবং ভারতের সাবেক ক্রিকেট অধিনায়ক মনসুর আলি খান পতৌদির ব্যক্তিত্বের কথাও তুলে ধরেন।

বাবার ব্যক্তিত্বের প্রভাব

সাবার ভাষ্য অনুযায়ী, তার বাবা মনসুর আলি খান পতৌদি ছিলেন অত্যন্ত আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্বের অধিকারী। একই সঙ্গে তিনি ছিলেন নম্র ও দায়িত্বশীল একজন মানুষ। বাবার কাছ থেকেই সাবা আত্মনির্ভরশীল হওয়ার শিক্ষা পেয়েছেন বলে জানান।

সাবা বলেন, ‘আমার বাবা অত্যন্ত আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্বের অধিকারী, নম্র এবং দায়িত্বশীল একজন মানুষ ছিলেন। তিনি আমাকে আত্মনির্ভরশীল হতে শিখিয়েছেন।’

তবে বাবার মতো হুবহু কাউকে জীবনসঙ্গী হিসেবে খুঁজেছেন—বিষয়টি এমন নয় বলেও স্পষ্ট করেন তিনি। তার মতে, বাবা তো বাবাই। কিন্তু একজন পুরুষের মধ্যে যে ধরনের ব্যক্তিত্ব, মানসিকতা ও দায়িত্ববোধ তিনি প্রত্যাশা করেন, সেটি এখনো তার কাছে মনের মতো করে মেলেনি।

এ প্রসঙ্গে অভিনেত্রী তাপসী পান্নুর একটি মন্তব্যের কথাও উল্লেখ করেন সাবা। তিনি জানান, কিছুদিন আগে তাপসীর একটি কথা তার মনে গভীরভাবে দাগ কেটেছে।

সাবা বলেন, ‘আমি বাবার মতো অবিকল কাউকে খুঁজছিলাম না, কিন্তু বাবা তো বাবাই হন। কিছুদিন আগে অভিনেত্রী তাপসী পান্নুর একটি কথা আমার মন ছুঁয়ে গিয়েছিল—’আমার কোনো ছেলের প্রয়োজন নেই, আমার প্রয়োজন একজন পুরুষের’। আমি এই কথাটির সঙ্গে নিজেকে মেলাতে পারি। আমি আসলে সেই মাপের বা মনের মতো কোনো সঙ্গী খুঁজে পাইনি।’

সাবার বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট, বিয়ের ক্ষেত্রে বয়স বা সামাজিক চাপের চেয়ে তিনি নিজের পছন্দ, মানসিক প্রস্তুতি এবং জীবনসঙ্গীর ব্যক্তিত্বকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। তাই পরিবারের তারকা-খচিত পরিচয়ের মাঝেও নিজের স্বাধীনতা ও ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যকে অগ্রাধিকার দিয়েই জীবন কাটাচ্ছেন তিনি।

পতৌদি পরিবারের এই জ্যেষ্ঠ কন্যা অভিনয় বা বিনোদন জগতের প্রচলিত পথ বেছে না নিয়ে গহনা ডিজাইন, আধ্যাত্মিক চর্চা ও পারিবারিক দায়িত্বের মধ্য দিয়ে নিজের আলাদা পরিচয় গড়ে তুলেছেন। ব্যক্তিগত জীবনেও সেই স্বাধীন মানসিকতার প্রতিফলন দেখা যায়—মনের মতো সঙ্গী না পাওয়া পর্যন্ত বিয়ের সিদ্ধান্ত নেননি সাবা পাতৌদি।

Advertisements
বিয়েবোনসাইফ