অল্প সময়েই রান্না শেষ করতে ৪ কার্যকর পরামর্শ

চলমান গ্যাস–সংকটে রান্নাঘরে সময়ের সঙ্গে যেন চলছে প্রতিযোগিতা। তবে আগে থেকে পরিকল্পনা ও কিছু প্রস্তুতি থাকলে অল্প সময়েই পুষ্টিকর ও সুস্বাদু খাবার রান্না করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
বাংলাদেশ গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের খাদ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক আনিকা জামান ও রন্ধনশিল্পী সিতারা ফেরদৌসের পরামর্শ অনুযায়ী, গ্যাস আসার আগেই সবজি কাটা, ধোয়া, খোসা ছাড়ানো, মাছ-মাংস পরিষ্কার করা ও প্রয়োজনীয় মসলা প্রস্তুত করে রাখলে রান্নার সময় অনেক কমে যায়। একই সঙ্গে মাছ বা মাংস আগে থেকে ম্যারিনেট করে রাখলে তা দ্রুত সেদ্ধ হয় এবং স্বাদও বজায় থাকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্যাস এলেই কোন খাবার আগে রান্না করবেন, সেটি আগেই ঠিক করে রাখা উচিত। ভাত বা রুটির মতো প্রধান খাবারের পাশাপাশি শিশু ও বয়স্কদের জন্য প্রয়োজনীয় খাবার আগে তৈরি করা ভালো। ডিম ভাজি, পোচ, সবজি ভাজি বা মাছ ভাজার মতো দ্রুত প্রস্তুত হওয়া পদ মূল রান্নার ফাঁকে তৈরি করে নেওয়া যেতে পারে।
সময় বাঁচাতে চাল ২০ থেকে ৩০ মিনিট আগে ভিজিয়ে রাখা, গুঁড়া মসলা পানিতে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করা এবং ভাতের সঙ্গে ডিম বা আলু সেদ্ধ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। পাশাপাশি তরকারিতে ঠান্ডা পানির বদলে আগে থেকে গরম করা ফুটন্ত পানি ব্যবহার করলে রান্না দ্রুত শেষ করা সম্ভব। রান্নার আগে চুলার চারপাশ ও কর্মস্থল পরিষ্কার রাখলেও কাজের গতি বাড়ে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমে।
গ্যাস–সংকটের সময়ে একবারে দুই থেকে তিন বেলার রান্না করে রাখাও কার্যকর উপায় বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। এ ক্ষেত্রে বেশি করে ঝোলের মসলা কষিয়ে সংরক্ষণ করা, ওয়ান-পট মিল যেমন ভুনা খিচুড়ি, ফ্রায়েড রাইস বা বিরিয়ানি রান্না করা এবং ডাল একবারে কয়েক বেলার মতো রান্না করে ফ্রিজে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মাংসের বড় টুকরার পরিবর্তে কিমা ব্যবহার করলে অল্প গ্যাসেই রান্না দ্রুত শেষ করা যায়।
খাবারের পুষ্টিমান ও নিরাপত্তার বিষয়েও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। গ্যাসের চাপ কম থাকলে প্রেশার কুকার বা ঢাকনা ব্যবহার করে রান্না করলে সময় ও জ্বালানি দুটোই সাশ্রয় হয়। রান্না করা খাবার সাধারণ ফ্রিজে তিন থেকে চার দিন পর্যন্ত নিরাপদে রাখা গেলেও দীর্ঘদিন সংরক্ষণের জন্য ডিপ ফ্রিজে বায়ুরোধী পাত্রে রাখা উচিত। একই খাবার বারবার গরম করে খাওয়া এড়িয়ে চলারও পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
তাদের মতে, গ্যাস এলেই তাড়াহুড়া করে রান্না করার পরিবর্তে পরিকল্পনা করে কাজ ভাগ করে নিলে কম সময়েই নিরাপদ, পুষ্টিকর ও সুস্বাদু খাবার প্রস্তুত করা সম্ভব।



