বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনসোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬
বিবিধ

১৩০ বছর বয়সী মায়ের খেয়াল রাখেন ১০০ বছরের মেয়ে!

f8ffa140-0ce2-4421-945b-ecf585b4cb3e-2608021131

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের গড়মাটি গ্রামের জরাজীর্ণ একটি ঝুপড়ি ঘরে বসবাস করছিলেন শতবর্ষী মা ফাতেমা বেগম ও তাঁর মেয়ে মানিকজান। বয়সের ভারে দুজনই এখন প্রায় অসহায়। তবু জীবনের শেষ প্রান্তে এসে একে অপরকেই আঁকড়ে ধরে বেঁচে আছেন মা-মেয়ে।

স্থানীয়দের দাবি, ফাতেমা বেগমের বয়স ১২৫ থেকে ১৩০ বছরের কাছাকাছি। তাঁর মেয়ে মানিকজানের বয়সও প্রায় ১০০ বছর। তবে জাতীয় পরিচয়পত্রে তাঁদের বয়স প্রকৃত বয়সের তুলনায় কম উল্লেখ রয়েছে বলে জানা গেছে।

স্বাধীনতার পরপরই স্বামীকে হারান ফাতেমা বেগম। প্রায় এক দশক আগে মারা যান তাঁর একমাত্র ছেলেও। এরপর থেকে মেয়ে মানিকজানই হয়ে ওঠেন তাঁর একমাত্র অবলম্বন। অন্যদিকে, শতবর্ষী মায়ের দেখভালের দায়িত্বও পালন করে আসছেন মানিকজান। বয়সের ভারে দুজনেরই দৈনন্দিন জীবন কঠিন হয়ে উঠলেও একে অপরের সঙ্গই তাঁদের বেঁচে থাকার বড় শক্তি।
দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ ঝুপড়ি ঘরেই তাঁদের দিন-রাত কাটছিল। বর্ষা কিংবা দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় নিরাপত্তাহীনতায় থাকতে হতো তাঁদের। প্রতিবেশীরা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করলেও একটি নিরাপদ ও টেকসই ঘরের স্বপ্ন অপূর্ণই ছিল মা-মেয়ের।

সম্প্রতি তাঁদের অসহায় জীবনের খবর জানতে পেরে পাশে দাঁড়িয়েছে ‘মানবিক সেবা ফাউন্ডেশন’। সংগঠনটি প্রথমে তাঁদের খাদ্যসহায়তা দেয়। পরে তাঁদের বসতঘরের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা দেখে একটি টেকসই ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। নতুন ঘর পাওয়ার খবরে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ফাতেমা বেগম ও মানিকজান। জীবনের দীর্ঘ পথের স্মৃতি, শৈশব, সংসার এবং হারিয়ে যাওয়া আপনজনদের কথা বলতে গিয়ে তাঁদের চোখেমুখে ফুটে ওঠে স্বস্তির ছাপ।

Advertisements

জীবনের প্রায় পুরোটা সময় অভাব ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে কাটিয়েছেন মা-মেয়ে। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে একটি নিরাপদ ঘরই তাঁদের কাছে হয়ে উঠেছে বড় প্রাপ্তি। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষগুলো এভাবে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ালে ফাতেমা ও মানিকজানের মতো আরও অনেক মানুষের জীবনেও ফিরতে পারে নিরাপত্তা, স্বস্তি ও আশার আলো।

Advertisements
নারীবাংলাদেশশতবর্ষী