বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনশনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬
জীবনযাপন

কোলেস্টেরল বেশি হলে দুধ কি ক্ষতিকর, নাকি উপকারী?

images (3)

অনেক মানুষই বর্তমানে উচ্চ কোলেস্টেরলের সমস্যায় ভুগছেন। রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে গেলে হৃদরোগসহ বিভিন্ন জটিলতার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই যাদের কোলেস্টেরল বেশি, তাদের খাবার নির্বাচন করার ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।

দুধ অনেকের প্রতিদিনের খাদ্যতালিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এতে রয়েছে প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি, পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়ামসহ শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় নানা পুষ্টি উপাদান। তবে উচ্চ কোলেস্টেরলের রোগীদের মধ্যে অনেকেরই প্রশ্ন থাকে—এই অবস্থায় দুধ খাওয়া আদৌ ঠিক হবে কি না।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুধে সাধারণত দুই ধরনের ফ্যাট বা চর্বি থাকে—স্যাচুরেটেড ফ্যাট এবং ট্রান্স ফ্যাট। বিশেষ করে ফুল ক্রিম বা হোল মিল্কে স্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি থাকে।

অতিরিক্ত পরিমাণে স্যাচুরেটেড ফ্যাট গ্রহণ করলে শরীরে খারাপ কোলেস্টেরল বা এলডিএল (LDL)-এর মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। এই অতিরিক্ত এলডিএল ধমনিতে চর্বি জমার ঝুঁকি বাড়ায়, যা পরবর্তী সময়ে হৃদরোগের কারণ হতে পারে।

Advertisements

তবে এর অর্থ এই নয় যে, উচ্চ কোলেস্টেরলের রোগীদের জন্য দুধ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। দুধে থাকা ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ উপাদান শরীরের জন্য উপকারী। এগুলো হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে। তাই দুধ পুরোপুরি বাদ দেওয়ার পরিবর্তে সঠিক ধরনের দুধ বেছে নেওয়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যাদের রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি, তাদের ফুল ক্রিম বা অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত দুধ এড়িয়ে চলা ভালো। এর পরিবর্তে স্কিমড মিল্ক বা ডাবল স্কিমড মিল্ক বেছে নেওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি উদ্ভিজ্জ দুধ যেমন—সয়া মিল্ক, অ্যালমন্ড মিল্ক ও ওট মিল্কও ভালো বিকল্প হতে পারে। এসব উদ্ভিজ্জ দুধে সাধারণত প্রাণিজ কোলেস্টেরল থাকে না এবং হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য তুলনামূলক উপকারী হতে পারে।

এ ছাড়া বাড়িতে দুধ ব্যবহার করলে তা ভালোভাবে ফুটিয়ে ঠান্ডা করার পর ওপরে জমে থাকা সর বা অতিরিক্ত চর্বি ফেলে দিয়ে খাওয়া যেতে পারে। এতে দুধের পুষ্টিগুণ বজায় থাকে এবং অতিরিক্ত ফ্যাট গ্রহণের ঝুঁকিও কমে।

উচ্চ কোলেস্টেরল থাকলে দুধ খাওয়ার সময় যেসব বিষয় এড়িয়ে চলবেন

. সর বা মাখনযুক্ত দুধ খাবেন না
দুধের ওপরে জমে থাকা সর বা অতিরিক্ত চর্বি কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়াতে পারে। তাই এ ধরনের দুধ এড়িয়ে চলা ভালো।

. দুধের সঙ্গে অতিরিক্ত চিনি বা ফ্লেভার মেশাবেন না
দুধে অতিরিক্ত চিনি, ফ্লেভারড সিরাপ বা চকোলেট পাউডার যোগ করলে এর স্বাস্থ্যগুণ কমে যেতে পারে এবং অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণ হতে পারে।

. দুধ থেকে তৈরি উচ্চ চর্বিযুক্ত খাবার সীমিত করুন
ফুল ক্রিম দুধ দিয়ে তৈরি মিষ্টি, পনির, ছানা বা অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত দুগ্ধজাত খাবার নিয়মিত খাওয়া এড়িয়ে চলা উচিত।

উচ্চ কোলেস্টেরলের রোগীরা দুধ খেতে পারেন, তবে তা হতে হবে সঠিক ধরনের এবং পরিমিত পরিমাণে। ফ্যাটমুক্ত বা স্কিমড মিল্ক বেছে নিলে শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি পেতে পারে, পাশাপাশি হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্যের ওপরও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

Advertisements
উচ্চকোলেস্টেরলদুধ