১৫০ বছর পর লাইব্রেরিতে ফেরত এল বই, জরিমানা ১৯ লাখ টাকা

অস্ট্রেলিয়ার একটি গণগ্রন্থাগার থেকে ধার নেওয়ার প্রায় ১৫০ বছর পর ফেরত এসেছে প্রাচীন গ্রিক ইতিহাসের ওপর লেখা একটি বিরল বই। একটি বাড়ির পুরোনো ফায়ারপ্লেসের ইট দিয়ে বন্ধ করা দেয়ালের ভেতর থেকে বইটি উদ্ধার করা হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলসের উপকূলীয় শহর কিয়ামার স্থানীয় বাসিন্দা রস সিমন্স সম্প্রতি বইটি কিয়ামা লাইব্রেরি কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেন।
গ্রন্থাগারের ব্যবস্থাপক মিশেল হাডসন জানান, ‘অ্যান্টিকুইটিস অব এথেন্স’ শীর্ষক বইটি ১৮৫৮ সালে প্রকাশিত হয়েছিল। ১৮৭২ সালে কিয়ামা লাইব্রেরি যখন প্রথম চালু হয়, তখন সংগ্রহে থাকা ১ হাজার বইয়ের মধ্যে এটি ছিল ৫০৬ নম্বর নিবন্ধিত বই। ধারণা করা হচ্ছে, গ্রন্থাগার চালু হওয়ার মাত্র দুই-তিন বছরের মধ্যেই বইটি হারিয়ে গিয়েছিল।
মিশেল হাডসন বলেন, ‘আমাদের কাছে এত পুরোনো কোনো হারিয়ে যাওয়া বই আগে কখনোই ফেরত আসেনি।’
বইটি ফেরত দেওয়া ৭৭ বছর বয়সী রস সিমন্স জানান, সম্প্রতি তার পুরোনো পৈতৃক বাড়ি সংস্কারের কাজ করার সময় একটি বন্ধ ফায়ারপ্লেসের ভেতরে কাঠের একটি চা-এর বাক্সের সন্ধান পান। সেই বাক্সের ভেতরেই যত্নে রাখা ছিল বইটি।
রস সিমন্স বলেন, ‘আমার ধারণা আমার প্রপিতামহের পিতা জন সিমন্স ১৮৭০-এর দশকে বইটি গ্রন্থাগার থেকে ধার করেছিলেন। তিনি ওই সময়ে এই বাড়িতে থাকতেন এবং পরবর্তীতে স্থানীয় পৌরসভার কাউন্সিলর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন।’
এত বছর ধরে পানির কারণে বইটিতে কিছুটা ক্ষতি হলেও বেশির ভাগ অংশই পাঠযোগ্য রয়েছে।
বইটির মলাটের ভেতরে ১৮৭০ সালের তৎকালীন গ্রন্থাগারের নিয়মাবলি ছাপা রয়েছে। সেখানে উল্লেখ ছিল, নির্ধারিত সময়ে বই ফেরত না দিলে প্রতি সপ্তাহে তিন পেন্স করে জরিমানা দিতে হবে।
বর্তমান মুদ্রাস্ফীতি ও সময় হিসাব করে গ্রন্থাগার প্রধান মিশেল হাডসন জানান, বিলম্ব মাশুল হিসেবে বইটির জরিমানা দাঁড়ায় প্রায় ২৮ হাজার অস্ট্রেলীয় ডলার (প্রায় সাড়ে ১৯ হাজার মার্কিন ডলার)।
তবে গ্রন্থাগার কর্তৃপক্ষ এই বিপুল জরিমানা দাবি করছে না। কারণ ১৮৭০-এর দশকের গ্রাহকদের রেজিস্টার খাতাটি হারিয়ে গেছে। ফলে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করার উপায় নেই যে শেষ পর্যন্ত কে বইটি ধার করেছিলেন।
উদ্ধারকৃত বইটির মলাটে তৎকালীন গ্রন্থাগার ব্যবহারের কিছু চমকপ্রদ নিয়ম দেখা গেছে।
একটি নিয়মে বলা হয়েছিল, কোনো পরিবারের অন্তত ছয়জন সদস্য পড়ালেখা করতে পারেন—এমন প্রমাণ দেখাতে পারলে সেই পরিবারকে সর্বোচ্চ তিনটি বই ধার দেওয়া হবে। এ ছাড়া তৎকালীন নিয়মে স্পষ্ট উল্লেখ ছিল, কোনো ব্যক্তি ‘মদ্যপ অবস্থায়’ গ্রন্থাগারে এলে তাকে বই ধার দেওয়া হবে না।
দীর্ঘ দেড় শতাব্দী পর ফেরত আসা এই বিরল বইটি আর কাউকে ধার দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে লাইব্রেরি কর্তৃপক্ষ। এটিকে লাইব্রেরির স্থানীয় ইতিহাস সম্পর্কিত বিশেষ সংগ্রহশালায় সাধারণ দর্শনার্থীদের দেখার জন্য সংরক্ষণ করা হবে।
লাইব্রেরি ম্যানেজার মিশেল হাডসন রসিকতা করে বলেন, ‘আমরা বইটি আর কোনো পাঠককে দেব না। এই বইটির জন্য আমরা আবার ১৫০ বছর অপেক্ষা করতে রাজি নই!’



