বৃষ্টির দিনে কেন বাড়ে বিষণ্নতা? জানুন ‘রেইনি ডে ব্লুজ’-এর রহস্য

কারও কাছে বৃষ্টি মানেই এক কাপ গরম চা, প্রিয় গান আর স্বস্তির অনুভূতি। আবার কারও কাছে একই বৃষ্টি নিয়ে আসে অকারণ মন খারাপ, ক্লান্তি, উদ্যমহীনতা কিংবা বিষণ্নতা। যদি আপনারও বৃষ্টির দিনে এমন অনুভূতি হয়, তাহলে অবাক হওয়ার কিছু নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, আবহাওয়ার পরিবর্তন অনেক সময় মানুষের মানসিক অবস্থার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
২০২০ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, টানা মেঘলা আকাশ বা রোদহীন আবহাওয়ায় অনেকের মধ্যে হতাশা ও বিষণ্নতার লক্ষণ বেড়ে যায়। এই অবস্থাকে অনেকে ‘রেইনি ডে ব্লুজ’ নামে চেনেন। তবে এটি মানেই যে আপনি ডিপ্রেশনে ভুগছেন, এমন নয়। বরং যাদের আগে থেকেই বিষণ্নতা বা সিজনাল অ্যাফেকটিভ ডিসঅর্ডার (SAD)-এর প্রবণতা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে উপসর্গ আরও তীব্র হতে পারে।

কেন বৃষ্টির দিনে মন খারাপ হয়?
সূর্যের আলো কমে যায়
বৃষ্টির দিনে সূর্যের আলো কম থাকায় শরীরে সেরোটোনিনের মাত্রা কমে যেতে পারে। এই রাসায়নিক উপাদান আমাদের ভালো মেজাজ বজায় রাখতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে ঘুম নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন মেলাটোনিনের স্বাভাবিক ছন্দও ব্যাহত হতে পারে। ফলে ক্লান্তি, অলসতা ও মন খারাপের অনুভূতি বাড়তে পারে।
সিজনাল অ্যাফেকটিভ ডিসঅর্ডার
সিজনাল অ্যাফেকটিভ ডিসঅর্ডার বা এসএডি হলো এক ধরনের মৌসুমি বিষণ্নতা। সাধারণত শীতকাল বা দীর্ঘ সময় মেঘলা আবহাওয়ায় এটি বেশি দেখা যায়। এ সময় অনেকের কাজের প্রতি আগ্রহ কমে যায়, মনোযোগ নষ্ট হয় এবং সারাক্ষণ অবসাদ অনুভূত হয়।
ঘরবন্দি জীবন

টানা বৃষ্টির কারণে বাইরে হাঁটাহাঁটি, বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করা কিংবা অন্যান্য আনন্দদায়ক কাজ ব্যাহত হয়। দীর্ঘ সময় ঘরে থাকলে একঘেয়েমি ও মানসিক চাপ বাড়তে পারে।
জলবায়ু পরিবর্তনের উদ্বেগ
অতিরিক্ত বৃষ্টি, বন্যা কিংবা অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের খবর অনেকের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি দুশ্চিন্তাও মানসিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
মন ভালো রাখার সহজ উপায়
বৃষ্টির দিনেও নিজের মানসিক সুস্থতার দিকে নজর দেওয়া জরুরি। এজন্য- সকালে যতটা সম্ভব উজ্জ্বল আলোতে থাকার চেষ্টা করুন। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শে লাইট থেরাপি নিতে পারেন।
ঘরে বসেই ব্যায়াম করুন
যোগব্যায়াম, নাচ বা অনলাইন ফিটনেস ক্লাস শরীর ও মন দুটোকেই চাঙা রাখে। পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন এবং প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে ও জাগতে চেষ্টা করুন। এছাড়াও, প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটান, বই পড়ুন, গান শুনুন বা এমন কোনো কাজ করুন যা আপনাকে আনন্দ দেয়।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
যদি কয়েক সপ্তাহ ধরে মন খারাপ স্থায়ী হয় এবং এর কারণে স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হতে থাকে, তাহলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। বিশেষ করে যদি-
-কোনো কাজেই আগ্রহ না থাকে
-সারাক্ষণ ক্লান্ত লাগে
-ঘুম বা খাওয়ার অভ্যাসে বড় পরিবর্তন আসে
-অথবা নিজের ক্ষতি করার চিন্তা মাথায় আসে
তাহলে দেরি না করে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা মনোবিদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
বৃষ্টি প্রকৃতির এক অনন্য সৌন্দর্য। তবে যদি এই আবহাওয়া আপনার মনে বিষণ্নতা তৈরি করে, তাহলে সেটিকে অবহেলা করবেন না। সময়মতো যত্ন, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং প্রয়োজন হলে বিশেষজ্ঞের সহায়তা- এই তিনটিই আপনাকে ‘রেইনি ডে ব্লুজ’ কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করতে পারে।



