বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনসোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬
বিবিধ

কুড়িগ্রামে পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু

istockphoto-1426281384-612×612

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় নালার পানিতে ডুবে দ্বিতীয় শ্রেণির দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে।

রোববার (৫ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার বড়ভিটা ও ভাঙ্গামোড় ইউনিয়নের মধ্যবর্তী একটি নালা থেকে স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহতরা হলো ভাঙ্গামোড় ইউনিয়নের রাবাইতারী গ্রামের নূর হোসেনের মেয়ে লুশি খাতুন (৯) এবং বড়ভিটা ইউনিয়নের নওদাবাস গ্রামের আনিছুর রহমানের মেয়ে আরশী (৮)। তারা দুজনই রাবাইতারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং চাচাতো-জ্যাঠাতো বোন।

পুলিশ জানায়, খবর পেয়ে রাত সাড়ে ৯টার দিকে ফুলবাড়ী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ বা সন্দেহ না থাকায় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়। পরে গভীর রাতে তাদের দাফন সম্পন্ন হয়।

Advertisements

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার স্কুল শেষে বাড়ি ফিরে বিকেলে আরও কয়েকজন শিশুর সঙ্গে খেলতে বের হয় লুশি ও আরশী। সন্ধ্যা পর্যন্ত তারা বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজির পরও তাদের সন্ধান না মেলায় উদ্বেগ বাড়ে।

পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে স্থানীয়রা বাড়ির পাশের একটি নালায় দুই শিশুর মরদেহ ভাসতে দেখে পরিবারকে খবর দেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয়দের ধারণা, খেলাধুলার এক পর্যায়ে অসাবধানতাবশত নালায় পড়ে গিয়ে পানিতে ডুবে তাদের মৃত্যু হয়েছে।

নিহত লুশি খাতুনের বড় বোন লামিয়া খাতুন বলেন, তার বোন খুবই ভালো ছিল। এভাবে সে চলে যাবে তা কখনো ভাবেননি।

লুশি ও আরশীর খেলার সাথী সুমাইয়া খাতুন জানায়, বিকেলে তারা সবাই মিলে খেলাধুলা করেছিল এবং পাশের একটি ছোট পুকুরে গোসলও করেছিল। পরে তারা নিখোঁজ হয়।

নিহত দুই শিশুর চাচি হাসিনা বেগম বলেন, স্কুল থেকে ফিরে তারা একসঙ্গে খেলছিল। পরে পুকুরে গোসল করে বাড়ি ফিরতে দেরি হয়। পরে খোঁজাখুঁজির পর নালায় তাদের মরদেহ পাওয়া যায়।

বড়ভিটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মিন্টু বলেন, এটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ঘটনা। তিনি শিশুদের সাঁতার শেখানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদ হাসান নাইম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

Advertisements
কুড়িগ্রামমৃত্যুশিশু