বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬
নারী

বদলে গেছে ডেঙ্গুর ধরন, অবহেলা করলেই মৃ’ত্যুঝুঁকি

dengue-20221020122722

প্রতিবছর বর্ষা এলেই ডেঙ্গুর আতঙ্ক ফিরে আসে। তবে এখন পরিস্থিতি আগের চেয়ে অনেক ভিন্ন। একসময় ডেঙ্গুকে মৌসুমি রোগ হিসেবে দেখা হলেও বর্তমানে বছরের প্রায় সব সময়ই ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হচ্ছে।

বর্ষাকালে শুধু সংক্রমণের হার বেড়ে যায়। চিকিৎসকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শুধু আক্রান্তের সংখ্যাই বাড়েনি, বদলে গেছে ডেঙ্গুর লক্ষণ, জটিলতা এবং রোগের ধরনও। ফলে অনেক রোগী শুরুতে বুঝতেই পারেন না যে তিনি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত।

ডেঙ্গুর বদলে যাওয়া চিত্র

আগে ডেঙ্গুর সবচেয়ে পরিচিত লক্ষণ ছিল তীব্র জ্বর, চোখের পেছনে ব্যথা, শরীর ও অস্থিসন্ধিতে অসহনীয় ব্যথা এবং শরীরে লালচে র‍্যাশ। এ কারণেই একসময় ডেঙ্গুকে ‘হাড়ভাঙা জ্বর’ বলা হতো। কিন্তু এখন অনেক ক্ষেত্রেই এসব পরিচিত লক্ষণ দেখা যায় না। বর্তমান সময়ে অনেক রোগীর ক্ষেত্রে শুধু হালকা জ্বর, দুর্বলতা, গা ম্যাজম্যাজ করা বা সামান্য ক্লান্তি দেখা যায়। এমনকি কেউ কেউ জ্বর ছাড়াও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হতে পারেন। ফলে রোগটি শনাক্ত হতে দেরি হয় এবং জটিলতার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

Advertisements

জ্বর কমলেই নিশ্চিন্ত নন

ডেঙ্গু নিয়ে সবচেয়ে বড় ভুল ধারণাগুলোর একটি হলো- জ্বর কমে গেলে রোগী সুস্থ হয়ে যাচ্ছেন। চিকিৎসকদের মতে, এখনকার ডেঙ্গুতে ঠিক এই সময়টিই সবচেয়ে বিপজ্জনক। জ্বর কমে যাওয়ার পর শুরু হয় ক্রিটিক্যাল ফেজ, যা সাধারণত ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত স্থায়ী হয়। এ সময় রক্তনালির ভেতর থেকে তরল বের হয়ে যেতে পারে, রক্তচাপ হঠাৎ কমে যেতে পারে, প্লাটিলেট ও রক্তের অন্যান্য উপাদানে পরিবর্তন দেখা দিতে পারে এবং রোগী শকে চলে যেতে পারেন। তাই জ্বর কমলেও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়া জরুরি।

যেসব লক্ষণ দেখলে দ্রুত হাসপাতালে যাবেন

ডেঙ্গু রোগীর মধ্যে নিচের যেকোনো লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে হাসপাতালে যেতে হবে-
-তীব্র বা বারবার বমি


-প্রচণ্ড পেটব্যথা, বিশেষ করে ডান পাশের ওপরের অংশে
-শ্বাসকষ্ট
-অতিরিক্ত দুর্বলতা বা অস্বাভাবিক ঘুমঘুম ভাব
-নাক, মাড়ি বা অন্য কোথাও রক্তপাত
-প্রস্রাব কমে যাওয়া
-হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়া বা মাথা ঘোরা

লিভার, কিডনি ও মস্তিষ্কেও প্রভাব

বর্তমান ডেঙ্গু সংক্রমণে শুধু রক্তের প্লাটিলেট কমে যাওয়াই নয়, অনেক রোগীর লিভার, কিডনি, হৃদ্‌যন্ত্র কিংবা মস্তিষ্কও আক্রান্ত হচ্ছে। লিভার আক্রান্ত হলে বমি, জন্ডিস, ডান পাশের ওপরের দিকে তীব্র ব্যথা এবং লিভারের এনজাইম বেড়ে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।

দ্বিতীয়বার ডেঙ্গু হলে ঝুঁকি বেশি কেন?

ডেঙ্গু ভাইরাসের চারটি ধরন বা সেরোটাইপ রয়েছে। ডেন-১, ডেন-২, ডেন-৩ এবং ডেন-৪। একজন ব্যক্তি যদি একবার একটি সেরোটাইপে আক্রান্ত হওয়ার পর অন্য সেরোটাইপে পুনরায় আক্রান্ত হন, তাহলে গুরুতর ডেঙ্গু, রক্তক্ষরণ বা শক সিনড্রোমের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। তাই আগে ডেঙ্গু হয়েছে বলে ভবিষ্যতে নিরাপদ- এমন ধারণা সঠিক নয়।

কীভাবে সুরক্ষিত থাকবেন?

ডেঙ্গু প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো এডিস মশার বংশবিস্তার রোধ করা। বাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, এসির ট্রে, পানির ট্যাংক বা যেকোনো স্থানে তিন দিনের বেশি পানি জমতে দেবেন না। দিনের বেলায়ও মশারি ব্যবহার, ফুলহাতা পোশাক পরা, মশা প্রতিরোধক ব্যবহার এবং আশপাশ পরিষ্কার রাখা জরুরি।

ডেঙ্গুর লক্ষণ দেখা দিলে নিজে থেকে অ্যান্টিবায়োটিক বা ব্যথানাশক ওষুধ না খেয়ে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। পর্যাপ্ত পানি, ওরস্যালাইন ও তরল খাবার গ্রহণ করুন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী রক্ত পরীক্ষা করান। সচেতনতা, দ্রুত শনাক্তকরণ এবং সময়মতো চিকিৎসাই ডেঙ্গুজনিত জটিলতা ও মৃত্যুঝুঁকি কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

Advertisements
এডিস মশাডেঙ্গুবর্ষাকালমৃত্যুঝুঁকিলিভার