কুকুর সাহায্য করে নিঃস্বার্থভাবে, বিড়াল অপেক্ষা করে স্বার্থ লাভের জন্য?

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, বিড়াল মানুষের বিপদে সাধারণত তখনই সাড়া দেয়, যখন সেখানে তাদের কোনো সরাসরি লাভ জড়িত থাকে। অন্যদিকে কুকুর অনেক সময় কোনো স্বার্থ ছাড়াই মানুষের সাহায্যে এগিয়ে আসে—যেমনটি ছোট শিশুদের মধ্যেও দেখা যায়।
সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণায় ১৬ থেকে ২৪ মাস বয়সী ১৯টি শিশু, ৩৮টি প্রশিক্ষণবিহীন পোষা কুকুর এবং ২২টি বিড়ালকে পর্যবেক্ষণ করা হয়। গবেষণার মূল প্রশ্ন ছিল—মানুষের কোনো সমস্যা দেখা দিলে কোন প্রাণী স্বতঃস্ফূর্তভাবে সাহায্যে এগিয়ে আসে।

পরীক্ষায় দেখা যায়, একজন পরিচিত ব্যক্তি (শিশুর বাবা-মা বা প্রাণীর মালিক) একটি স্পঞ্জ নিয়ে কাজ করার পর সেটি লুকিয়ে ফেলেন। এরপর গবেষক সেটি সকলের চোখের সামনে লুকিয়ে রাখেন। তিন ধাপে পরীক্ষা করা হয়—যেখানে বস্তুটি কখনো দেখা যায়, কখনো নাগালের বাইরে থাকে, আবার কখনো পুরোপুরি লুকানো থাকে। প্রতিবারই ওই ব্যক্তি বলেন, ‘আমি খুঁজে পাচ্ছি না, কী করবো?’
গবেষণায় দেখা গেছে, শিশু ও কুকুর—দু’দলই পরিস্থিতির প্রতি মনোযোগ দেয় এবং অনেক সময় সাহায্যের মতো আচরণ করে, যেমন বস্তুটির দিকে এগিয়ে যাওয়া, ইশারা করা বা সেটি এনে দেওয়া। শেষ ধাপে অর্ধেকের বেশি কুকুর এবং প্রায় অর্ধেক শিশু বস্তুটির অবস্থান নির্দেশ করে বা তা এনে দেয়।
কিন্তু বিড়ালদের ক্ষেত্রে ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। তারা সাধারণত কাছে যায়নি বা বস্তুটির অবস্থান নির্দেশ করার মতো কোনো আচরণও করেনি।
তবে গবেষকরা আরও একটি ধাপ যোগ করেন। সেখানে স্পঞ্জের পরিবর্তে খাবার বা প্রিয় খেলনা ব্যবহার করা হয়। তখন দেখা যায়, বিড়ালও কুকুর ও শিশুর মতোই সক্রিয়ভাবে এগিয়ে আসে এবং বস্তুটির দিকে ইঙ্গিত করে।
এই ফলাফল প্রমাণ করে যে বিড়াল পরিস্থিতি বোঝে, কিন্তু তখনই প্রতিক্রিয়া জানায় যখন সেখানে তাদের কোনো সরাসরি উপকার থাকে। অন্যদিকে কুকুর ও শিশুদের আচরণ তুলনামূলকভাবে নিঃস্বার্থ ও সহযোগিতামূলক।
গবেষকরা বলছেন, এটি বিড়ালের আচরণকে নেতিবাচকভাবে দেখার বিষয় নয়, বরং এটি তাদের ভিন্ন ধরনের বিবর্তনগত বৈশিষ্ট্যের ফল। বিড়ালরা স্বাধীন স্বভাবের এবং তারা সাধারণত তখনই অংশ নেয়, যখন তাদের নিজের স্বার্থ জড়িত থাকে।



