বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনমঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬
এডিটরস পিক

বিড়াল রাস্তা পার হলেই থমকে যায় মানুষ – কেন এই ভয়?

catITG-1745246551332

রাস্তা পার হওয়া একটি বিড়ালকে দেখে অনেকেই থমকে দাঁড়ান। কেউ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করেন, কেউ আবার অন্য কাউকে আগে যেতে বলেন। বহু বছর ধরে প্রচলিত এই বিশ্বাস অনুযায়ী, বিড়াল—বিশেষ করে কালো বিড়াল—রাস্তা কাটলে নাকি অমঙ্গল বা দুর্ভাগ্য নেমে আসে। কিন্তু এই ধারণার পেছনে কি সত্যিই কোনো বৈজ্ঞানিক বা আধ্যাত্মিক ভিত্তি আছে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিড়াল রাস্তা কাটার সঙ্গে মানুষের ভাগ্য বা ভবিষ্যতের কোনো সম্পর্ক নেই। এটি মূলত একটি কুসংস্কার, যার শিকড় ইতিহাস ও লোকবিশ্বাসে। মধ্যযুগীয় ইউরোপে কালো বিড়ালকে জাদুবিদ্যা ও ডাইনিদের সঙ্গে যুক্ত করা হতো। সেখান থেকেই কালো বিড়ালকে অশুভ ভাবার প্রবণতা ছড়িয়ে পড়ে। তবে মজার বিষয় হলো, বিশ্বের সব জায়গায় এই বিশ্বাস এক নয়।

প্রাচীনকালে যখন মানুষ ঘোড়ার গাড়ি বা গরুর গাড়ি নিয়ে যাতায়াত করত, তখন রাতের আঁধারে হঠাৎ বিড়ালের জ্বলজ্বলে চোখ দেখে ঘোড়া বা গরু ভয় পেয়ে লাফিয়ে উঠত বা দিক পরিবর্তন করতো। দুর্ঘটনা এড়াতে সেই সময়ের মানুষেরা গাড়ি থামিয়ে বিড়ালটিকে রাস্তা পার হতে দিতেন। পরবর্তীকালে সেই বাস্তব সতর্কতামূলক কাজটিই কুসংস্কারে রূপান্তরিত হয়

যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের কিছু অঞ্চলে কালো বিড়ালকে দুর্ভাগ্যের প্রতীক মনে করা হলেও, যুক্তরাজ্য ও জাপানে এটি সৌভাগ্য ও সমৃদ্ধির প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।

Advertisements

উপমহাদেশেও বিড়াল নিয়ে নানা লোকবিশ্বাস রয়েছে।

কেউ কেউ মনে করেন, বিড়াল রাস্তা কাটলে কাজে বাধা আসতে পারে বা দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তবে এসব ধারণার পক্ষে কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, মানুষ অনেক সময় কাকতালীয় ঘটনাকে বিশেষ অর্থ দিতে চায়, আর সেখান থেকেই এমন কুসংস্কারের জন্ম হয়।

অতএব, রাস্তা পার হওয়া একটি বিড়াল কেবল তার স্বাভাবিক চলাফেরাই করছে। এর সঙ্গে মানুষের সৌভাগ্য বা দুর্ভাগ্যের কোনো সম্পর্ক নেই। বরং কুসংস্কার নয়, যুক্তি ও বিজ্ঞানের আলোয় বিষয়গুলোকে দেখাই হতে পারে সবচেয়ে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি।

Advertisements
অমঙ্গলবিড়ালরাস্তা