বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনমঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬
বিবিধ

১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিকমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা

977d32f7cbb8761f0ccdc6aafb50bcf92c19c8d80dc83a76e260d723b9306070

১৬ বছরের কম বয়সি লাখ লাখ শিশুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট খোলার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে নতুন নিয়ম কার্যকর শুরু করেছে মালয়েশিয়া।
শিশুদের নিরাপদ ভবিষ্যতের লক্ষ্যে দেশটিতে এই সিদ্ধান্ত সোমবার থেকেই কার্যকর হতে শুরু করেছে। বার্তাসংস্থা এপির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ পায়।

সরকারের দাবি, সামাজিক মাধ্যম শিশুদের জন্য সব সময় নিরাপদ নয়। এখানে অনেক সময় খারাপ কনটেন্ট, সাইবার বুলিং ও অতিরিক্ত আসক্তির ঝুঁকি থাকে। এই ঝুঁকি থেকে শিশুদের দূরে রাখতেই ১৬ বছরের নিচে সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বড় বড় সামাজিক মাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোকে ব্যবহারকারীর বয়স যাচাই করতে হবে।

যদি কোনো অ্যাকাউন্ট ১৬ বছরের নিচে কারও বলে শনাক্ত হয়, তাহলে সেটি বন্ধ করে দেওয়া হবে। এ ছাড়া ব্যবহারকারীরা চাইলে তাদের ছবি, ভিডিও ও ব্যক্তিগত তথ্য ডাউনলোড করে রাখার জন্য এক মাস সময় পাবে। নিয়ম না মানলে কোম্পানিগুলোকে বড় অঙ্কের জরিমানা দিতে হতে পারে।

মালয়েশিয়ার যোগাযোগ ও মাল্টিমিডিয়া কমিশন জানিয়েছে, এই নিয়মের উদ্দেশ্য শিশুদের ইন্টারনেট বা ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার থেকে বিরত রাখা নয়, বরং অনলাইন ক্ষতি মোকাবিলা করা এবং বয়সোপযোগী সুরক্ষাকবচ নিশ্চিত করতে সেবা প্রদানকারীদের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়ার তাগিদ দেওয়া।

গত মাসে এক বিবৃতিতে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি জানায়, ‘এই পদক্ষেপগুলো অনলাইন পরিবেশে শিশুদের সুরক্ষা জোরদার করতে সাহায্য করবে এবং ক্রমবর্ধমান জটিল ডিজিটাল ঝুঁকি মোকাবিলায় অভিভাবকদের বাড়তি আশ্বাস দেবে।’

প্ল্যাটফর্মগুলোকে এখন ‘সেফটি-বাই-ডিজাইন’ ফিচার চালু করতে হবে, যার মধ্যে বাধ্যতামূলক ব্যবহারকে উৎসাহিত করে এমন কারসাজিমূলক ডিজাইনের বিরুদ্ধে সুরক্ষা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এছাড়া কম বয়সি অ্যাকাউন্ট এবং ক্ষতিকর কনটেন্টের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো মালয়েশিয়ার এই নতুন নিয়ম কীভাবে বাস্তবায়ন করবে, তা এখনো বিস্তারিত জানায়নি।

এজ-ভেরিফিকেশন সিস্টেমের বাস্তবায়ন সম্পন্ন করার জন্য প্ল্যাটফর্মগুলোকে একটি গ্রেস পিরিয়ড বা অতিরিক্ত সময় দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

এর আগে গত এপ্রিলে মেটার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পাবলিক পলিসি ডিরেক্টর ক্লারা কোহ সতর্ক করে বলেছিলেন, মালয়েশিয়ার ১৬ বছরের কম বয়সিদের এই ঢালাও নিষেধাজ্ঞা উল্টো ফল বয়ে আনতে পারে। এটি কিশোর-কিশোরীদের সুরক্ষিত অ্যাপ থেকে দূরে ঠেলে দিয়ে ইন্টারনেটের অনিয়ন্ত্রিত ও বিপজ্জনক কোণগুলোতে নিয়ে যেতে পারে।

তিনি জানান, মেটা ইতোমধ্যে ১৮ বছরের কম বয়সিদের জন্য ‘টিন অ্যাকাউন্টস’ চালু করেছে, যা যোগাযোগ, স্ক্রিন টাইম এবং অনুপযুক্ত কনটেন্ট দেখার সুযোগ সীমিত করে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য এবং অনলাইন সুরক্ষায় কীরূপ প্রভাব ফেলছে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান চাপের মধ্যেই মালয়েশিয়া এই নিষেধাজ্ঞা জারি করল। গত মার্চে যুক্তরাষ্ট্রের একটি জুরি প্ল্যাটফর্মের ডিজাইনের কারণে এক তরুণ ব্যবহারকারীর ক্ষতির অভিযোগে মেটা ও ইউটিউবকে লাখ লাখ ডলার জরিমানা দেওয়ার নির্দেশ দেয়।

অনেক অভিভাবকের সমর্থন থাকলেও মালয়েশিয়ার এই পদক্ষেপ ডেটা প্রাইভেসি বা তথ্যের গোপনীয়তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি করেছে। মালয়েশিয়ার মোনাশ ইউনিভার্সিটির সোশ্যাল সায়েন্সের লেকচারার বেঞ্জামিন লোহ বলেন, ‘এটি বৈশ্বিক প্রবণতা অনুসরণ করছে ঠিকই, তবে বয়স যাচাইয়ের জন্য সরকারি আইডি কার্ডের প্রয়োজনীয়তার কারণে এটি শঙ্কা তৈরি করছে।’

লোহ আরো বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের অভিজ্ঞতা দেখায় যে বয়সভিত্তিক নিষেধাজ্ঞাগুলো এখনো পুরোপুরি কার্যকর প্রমাণিত হয়নি। মা-বাবার জন্য কোনো শাস্তির বিধান না থাকায় পরিবারগুলো সহজেই তাদের শিশুদের জন্য অ্যাকাউন্ট তৈরি করে এই আইন ফাঁকি দিতে পারে।

তিনি আরো বলেন, ‘এটি একটি বড় ফাঁকফোকর। নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো যদি এটি সংশোধন না করে, তাহলে শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার বন্ধে এই আইনের কার্যকারিতা খুব কমই থাকবে।’

নিরাপদ ভবিষ্যতনিষেধাজ্ঞামালয়েশিয়াসামাজিকমাধ্যম