বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনশনিবার, ৩০ মে, ২০২৬
স্বাস্থ্য

টক দই বনাম ঘোল: কোনটা খাওয়া উপকারী?

Traditional Turkish Yogurt in earthen pot on the wooden table.

পুষ্টিবিজ্ঞানের ভাষায় পেটের স্বাস্থ্যকে শরীরের সামগ্রিক সুস্থতার ভিত্তি বলা হয়। আর এই সুস্থতার পেছনে প্রাকৃতিক ও সহজলভ্য খাবারগুলোর মধ্যে টক দই ও ঘোলের ভূমিকা বহু পুরোনো ও পরীক্ষিত। বিশেষ করে অন্ত্রের ভালো ব্যাকটেরিয়া বা প্রোবায়োটিকের উৎস হিসেবে দই আজও চিকিৎসাবিজ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার অংশ।

টক দই মূলত প্রোবায়োটিক সমৃদ্ধ একটি প্রাকৃতিক খাবার, যা অন্ত্রের মাইক্রোবায়োমকে ভারসাম্যপূর্ণ রাখতে সাহায্য করে। নিয়মিত দই খাওয়ার অভ্যাস হজমশক্তি উন্নত করে, গ্যাস-অম্বল ও কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা কমায় এবং দীর্ঘমেয়াদে অন্ত্রের প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। আধুনিক গবেষণায় দেখা গেছে, দইয়ে থাকা ল্যাকটিক অ্যাসিড ব্যাকটেরিয়া শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাকে সক্রিয় করতে সহায়তা করে। একই সঙ্গে এতে থাকা ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও ভিটামিন বি১২ হাড়, দাঁত ও পেশির স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তবে পুষ্টিবিদদের মতে, দই খাওয়ার পাশাপাশি দই থেকে তৈরি আরেকটি জনপ্রিয় পানীয় ঘোল বা বাটারমিল্কও শরীরের জন্য সমানভাবে উপকারী, বরং কিছু ক্ষেত্রে আরও বেশি সহজপাচ্য। দই ফেটিয়ে তাতে পানি, বিট লবণ, জিরা গুঁড়ো ও কখনো কখনো পুদিনা বা আদা মিশিয়ে তৈরি ঘোল শরীরকে আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে এবং গরম আবহাওয়ায় ক্লান্তি দূর করতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। যাদের দুগ্ধজাত খাবারে সংবেদনশীলতা বা ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স রয়েছে, তাদের জন্য ঘোল তুলনামূলকভাবে নিরাপদ বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হয়।

তবে প্রশ্ন আসে- দই নাকি ঘোল, কোনটি বেশি উপকারী? পুষ্টিবিদরা বলছেন, এর কোনো একক উত্তর নেই। এটি নির্ভর করে ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা ও প্রয়োজনের ওপর। যেমন, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইলে ঘোল তুলনামূলকভাবে ভালো বিকল্প, কারণ এতে দইয়ের তুলনায় ক্যালোরি ও চর্বির পরিমাণ কম থাকে। অন্যদিকে যারা হজমশক্তি বাড়াতে বা অন্ত্রের স্বাস্থ্য উন্নত করতে চান, তাদের জন্য টক দই বেশি কার্যকর।

অ্যাসিডিটি বা গ্যাস-অম্বলের সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও ঘোল স্বস্তিদায়ক হতে পারে, কারণ এটি তুলনামূলক হালকা ও সহজপাচ্য। অন্যদিকে নিয়মিত অ্যান্টিবায়োটিক সেবনের পর বা কোনো সংক্রমণ থেকে সেরে ওঠার সময় টক দই অন্ত্রের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে। তবে হাঁপানি বা শ্বাসকষ্টের রোগীদের ক্ষেত্রে দই কিছু ক্ষেত্রে শ্লেষ্মা বাড়াতে পারে বলে সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

শিশুদের পুষ্টির ক্ষেত্রেও দই বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। বাড়ন্ত বয়সে ক্যালসিয়াম ও প্রোটিনের চাহিদা পূরণে টক দই একটি কার্যকর খাবার হিসেবে কাজ করে। অন্যদিকে গরমে পানীয় হিসেবে ঘোল শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক-উভয়ের জন্যই শরীর ঠান্ডা রাখতে সহায়তা করে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, টক দই ও ঘোল-দুটিই আলাদা বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন হলেও স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। আধুনিক জীবনযাপনে যেখানে হজমজনিত সমস্যা ও পেটের অসুস্থতা ক্রমশ বাড়ছে, সেখানে এই প্রাকৃতিক খাবারগুলো আবারও গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরের চাহিদা বুঝে সঠিকভাবে দই বা ঘোলকে খাদ্যাভ্যাসে অন্তর্ভুক্ত করাই হতে পারে সুস্থ পেটের সবচেয়ে সহজ সমাধান।

উপকারীঘোলটক দইপ্রোবায়োটিকস্বাস্থ্য