শিশুরাও আক্রান্ত হচ্ছে উচ্চ রক্তচাপে, যেসব লক্ষণে সতর্ক হবেন

হাইপারটেনশন বা উচ্চ রক্তচাপের মতো সমস্যা ইদানীং ছোটদের মধ্যেও দেখা দিচ্ছে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেখা দেয় উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরল, হার্টের অসুখ, ব্লাড সুগারের মতো হাজারো সমস্যা। তবে সব রোগ যে কেবল বড়দেরই হয় এমনটা নয়। হাইপারটেনশন বা উচ্চ রক্তচাপের মতো সমস্যা ইদানীং ছোটদের মধ্যেও দেখা দিচ্ছে। তাই চিন্তায় পড়েছেন মা-বাবারা।
বিশ্বজুড়ে প্রায় ৩-৫ শতাংশ শিশুদের মধ্যে এই রোগ দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। তার ওপর ওবেসিটির সমস্যা থাকলে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় একে ‘পেডিয়াট্রিক হাইপারটেনশন’ বলে।
কেন শিশুদের মধ্যে বাড়ছে উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা?
একদম ছোট শিশুদের মধ্যে অনেকসময় কিছু ‘আন্ডারলাইং মেডিক্যাল প্রবলেম’-এর কারণে উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা হতে পারে। চিকিৎসকের মতে, ‘শিশুদের কিডনির সমস্যা, হার্টের সমস্যা, হরমোনের সমস্যা থাকলে কিংবা কোনো ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা হতে পারে।’
এছাড়া একটু বড় শিশু আর কিশোরদের ক্ষেত্রে জাঙ্ক ফুডের প্রতি আসক্তি, অতিরিক্ত নোনতা খাবার খাওয়া, মোবাইল ফোনে আসক্ত হয়ে খেলাধুলা না করা, কম ঘুমানো এবং অত্যধিক মানসিক চাপ- উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত হওয়ার নেপথ্যে অন্যতম কারণ। এছাড়া বাড়িতে উচ্চ রক্তচাপের রোগী থাকলে সেই কারণেও শিশুরা উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় ভুগতে পারে।
কী কী লক্ষণ দেখলে বাবা-মায়েরা সতর্ক হবেন?
অনেক সময় প্রাথমিক পর্যায়ে শিশুদের ক্ষেত্রে কোনো লক্ষণই থাকে না। তবে কখনো কখনো যেসব লক্ষণ দেখা দেয়-
-মাথাব্যথা
-মাথা ঘোরা
-ঝাপসা দেখা
-বুক ধড়ফড় করা
-নাক দিয়ে রক্ত পড়া
-অতিরিক্ত ক্লান্তি
রোগের ঝুঁকি কমাতে করণীয়
১. বাইরের খাবার খাওয়ার অভ্যাস কমাতে হবে। বাড়িতে রান্না করা খাবার খেতে হবে।
২. রোজ অন্তত ১ ঘণ্টা বাইরে খেলাধুলার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।৩. মোবাইল, টিভি দেখার অভ্যাস কমাতে হবে। স্ক্রিন টাইম কমিয়ে শারীরিক চর্চা বা খেলায় শিশুকে উৎসাহিত করতে হবে।
৪. রোজকার খাবার পাতে রাখতে হবে ফল, সবজি, দানাশস্যের মতো খাবার। রক্তচাপের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রাণিজ প্রোটিন খেতে হবে। তবে, তা যেন ফ্যাট-বর্জিত হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। পাশাপাশি এড়িয়ে চলতে হবে অতিরিক্ত লবণ, চিনি ও অস্বাস্থ্যকর খাবার।
৫. ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।



