বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবুধবার, ২৭ মে, ২০২৬
স্বাস্থ্য

তিসি, তিল ও কুমড়ার বীজ খাওয়ার আগে যা জানা জরুরি

photo-collage.png

স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের খাদ্যতালিকায় এখন নিয়মিত জায়গা করে নিচ্ছে বিভিন্ন ধরনের বীজ। যেমন তিসির বীজ, সূর্যমুখীর বীজ, চিয়া, তোকমা, তিল ও কুমড়ার বীজ। পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এসব বীজ অনেকের জন্য উপকারী হলেও সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে উপযোগী নাও হতে পারে।

বীজ মূলত উদ্ভিজ্জ ফ্যাট, ফাইবার ও খনিজ উপাদানের ভালো উৎস। এতে রয়েছে প্রোটিন, আয়রন, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়াম, ফসফরাস, জিংক ও ফলিক অ্যাসিডসহ নানা পুষ্টি উপাদান। এসব উপাদান অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতেও বীজ কার্যকর।

বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ প্রতিদিন ২০ থেকে ৩০ গ্রাম পর্যন্ত বীজ খেতে পারেন। এর বেশি খাওয়া ঠিক নয়। বীজ দই, স্যুপ, সালাদ, রুটি কিংবা কেকের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়া যায়। এতে খাবারের ফাইবার ও পুষ্টিমান দুটোই বাড়ে। ফাইবার সমৃদ্ধ খাদ্য হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে।

স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের খাদ্যতালিকায় এখন নিয়মিত জায়গা করে নিচ্ছে বিভিন্ন ধরনের বীজ। পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এসব বীজ শরীরের জন্য উপকারী হলেও কিছু ক্ষেত্রে সতর্ক থাকাও জরুরি। জেনে নেয়া যাক কোন বীজ খাওয়া উপযোগী আর কোনটি নয়-

তিসির বীজ
তিসির বীজে রয়েছে প্রোটিন, ফাইবার, ওমেগা–থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড ও আলফা–লিনোলেনিক অ্যাসিড। এটি ওজন কমাতে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং হৃদ্‌যন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। তিসির বীজে থাকা ফাইবার কোষ্ঠকাঠিন্য কমায়। পাশাপাশি এতে থাকা লিগানন নামের অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট প্রদাহ কমাতে, হৃদ্‌রোগ ও ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক বলে গবেষণায় দেখা গেছে।

চিয়ার বীজ
চিয়ার বীজ ওমেগা–থ্রি ও দ্রবণীয় ফাইবারের ভালো উৎস। পানি শোষণ করে ফুলে ওঠায় এটি দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। ফলে ওজন কমানো, কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ ও হজম ভালো রাখতে এটি কার্যকর।

কুমড়ার বীজ
কুমড়ার বীজে রয়েছে পটাশিয়াম, জিংক ও ক্যালসিয়াম, যা হাড়ের ক্ষয়রোধে সহায়তা করে। এতে থাকা ট্রিপটোফ্যান শরীরে সেরোটোনিন ও মেলাটোনিন নিঃসরণে সাহায্য করে। ফলে মন ভালো রাখা ও ঘুমের মান উন্নত করতেও এটি ভূমিকা রাখতে পারে।

সূর্যমুখীর বীজ
সূর্যমুখীর বীজ ভিটামিন–ই, ফাইবার ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাটসমৃদ্ধ। এটি খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে ও হৃদ্‌যন্ত্র ভালো রাখতে সাহায্য করে। তিলের বীজেও রয়েছে ফাইবার, খনিজ ও সেলেনিয়াম নামের অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট, যা দীর্ঘস্থায়ী রোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক।

তবে সবার জন্য এসব বীজ উপযোগী নয়। যাদের কিডনি বা লিভারের সমস্যা আছে কিংবা অতিরিক্ত প্রোটিন গ্রহণে নিষেধ আছে, তাদের বীজজাতীয় খাবার এড়িয়ে চলা উচিত। বীজ ইউরিক অ্যাসিড বাড়াতে পারে। এ ছাড়া যাদের আইবিএস বা বীজে অ্যালার্জি রয়েছে, তাঁদেরও সতর্ক থাকতে হবে। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে বীজ খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

উপকারীকুমড়াতিলতিসিবীজস্বাস্থ্য