ঈদযাত্রার আগে ঘরকে নিরাপদ রাখছেন? মিলিয়ে নিন চেকলিস্ট

সারা বছর কাজের ব্যস্ততার পর ঈদের লম্বা ছুটি যেন এক টুকরো স্বস্তি। প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটাতে এরই মধ্যে অনেকে ছুটছেন গ্রামের বাড়িতে। কেউ এক সপ্তাহ, কেউবা ১০ দিনের জন্য ফাঁকা রেখে যাচ্ছেন নিজেদের বাসা। তবে আনন্দময় এই ছুটিতে বের হওয়ার আগে ঘরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা খুবই জরুরি। সামান্য অসতর্কতায় ঘটতে পারে চুরি, দুর্ঘটনা কিংবা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি।

তাই বাসা ফাঁকা রেখে যাওয়ার আগে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মাথায় রাখলে ছুটিটা কাটবে আরও নিশ্চিন্তে। ফিরে এসেও পাওয়া যাবে গুছানো ও নিরাপদ একটি ঘর।
১. দরজা-জানালার নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন
শুধু তালা লাগালেই দায়িত্ব শেষ নয়। বের হওয়ার আগে প্রতিটি দরজা ও জানালা ভালোভাবে বন্ধ আছে কি না তা নিশ্চিত করুন। সম্ভব হলে ডাবল লক বা অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যবহার করুন। বাসা ছাড়ার আগে একবার পুরো ঘর ঘুরে দেখে নিন কোথাও কোনো ফাঁকফোকর রয়ে গেছে কি না।
২. অপ্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক সংযোগ বন্ধ রাখুন
টিভি, চার্জার, মাইক্রোওয়েভসহ অপ্রয়োজনীয় সব বৈদ্যুতিক যন্ত্রের প্লাগ খুলে রাখুন। এতে শর্ট সার্কিট ও অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি কমে যায়। দীর্ঘদিন বাইরে থাকলে মেইন সুইচ বন্ধ করে যাওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
৩. গ্যাসের লাইন পরীক্ষা করুন
গ্যাসের চুলা ও সিলিন্ডারের রেগুলেটর ঠিকভাবে বন্ধ আছে কি না তা অবশ্যই দেখে নিন। ছোট একটি অসতর্কতাও বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।

৪. ফ্রিজ খালি ও পরিষ্কার রাখুন
ফ্রিজে থাকা দ্রুত নষ্ট হওয়া খাবার আগে থেকেই সরিয়ে ফেলুন। কয়েকদিনের জন্য বাইরে গেলে ফ্রিজ পরিষ্কার করে বন্ধ রাখা ভালো। দুর্গন্ধ এড়াতে দরজা সামান্য খোলা রাখতে পারেন।
৫. পানির লাইন বন্ধ করতে ভুলবেন না
সব ট্যাপ ঠিকভাবে বন্ধ আছে কি না যাচাই করুন। কোথাও পানি পড়ছে কি না সেটাও খেয়াল করুন। সম্ভব হলে মেইন পানির লাইন বন্ধ করে যান। এতে লিকেজ বা পাইপ ফেটে যাওয়ার ঝুঁকি কমবে।
৬. মূল্যবান জিনিস নিরাপদ স্থানে রাখুন
গয়না, নগদ টাকা ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ করুন। প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট আলাদা করে রাখুন। চাইলে বিশ্বস্ত কোনো আত্মীয় বা প্রতিবেশীকেও বিষয়টি জানিয়ে রাখতে পারেন।
৭. বিশ্বস্ত প্রতিবেশী বা নিরাপত্তাকর্মীকে জানান
বাসা কয়েকদিন ফাঁকা থাকবে- এ তথ্য পাশের ফ্ল্যাটের বিশ্বস্ত প্রতিবেশী বা নিরাপত্তাকর্মীকে জানিয়ে রাখুন। প্রয়োজনে তারা খোঁজ নিতে পারবেন, যা নিরাপত্তার জন্য সহায়ক।

বাড়তি কিছু সতর্কতা
- বের হওয়ার আগে সব ময়লা ফেলে দিন, যাতে দুর্গন্ধ না হয়।
- রাতে টাইমার লাইট ব্যবহার করলে বাসা ফাঁকা মনে হবে না।
- পোষা প্রাণী থাকলে দায়িত্বশীল কারও কাছে দেখাশোনার ব্যবস্থা করুন।
- গাছপালার জন্য পানি দেওয়ার ব্যবস্থা করে যান।
- সম্ভব হলে সিসিটিভি বা মোশন সেন্সর লাইট ব্যবহার করুন।
ঈদের আনন্দ তখনই পূর্ণতা পায়, যখন মনে থাকে না কোনো দুশ্চিন্তা। তাই বাড়ি ছাড়ার আগে অল্প কিছু প্রস্তুতিই আপনাকে রাখতে পারে নিরাপদ ও নিশ্চিন্ত। ফিরে এসে যেন অপেক্ষা করে শুধু আনন্দময় স্মৃতি, কোনো ঝামেলা নয়।



