বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনসোমবার, ২৫ মে, ২০২৬
বিশ্লেষণ

জমি-স্বর্ণ আছে, নগদ টাকা নেই- কী হবে কোরবানির বিধান?

qurbani-cow-20230621164144

ঈদুল আজহা ঘনিয়ে এলে অনেকের মনেই একটি সাধারণ প্রশ্ন দেখা দেয়- “সম্পদ তো আছে, কিন্তু হাতে নগদ টাকা নেই; তাহলে কি আমার ওপর কোরবানি ওয়াজিব?” ইসলামি শরিয়তে এ বিষয়ে রয়েছে সুস্পষ্ট নির্দেশনা ও ব্যাখ্যা। ইসলামে কোরবানি শুধু একটি পশু জবাইয়ের নাম নয়; এটি আল্লাহর প্রতি আনুগত্য, ত্যাগ ও সামর্থ্যের বহিঃপ্রকাশ। তাই যার ওপর কোরবানি ওয়াজিব, তার জন্য এ ইবাদত পালন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কাদের ওপর কোরবানি ওয়াজিব?

শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন প্রত্যেক মুসলিম নারী-পুরুষের ওপর কোরবানি ওয়াজিব হয়, যদি তিনি ১০ জিলহজ ফজর থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্তের মধ্যে নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হন।

অর্থ-কড়ি, টাকা-পয়সা, সোনা-রূপা, গহনা-অলঙ্কার, বসবাস ও খোরাকির অতিরিক্ত জমি, প্রয়োজন অতিরিক্ত বাড়ি, ব্যবসায়িক পণ্য ও অপ্রয়োজনীয় সব আসবাবপত্র কোরবানির নেসাবের ক্ষেত্রে হিসাবযোগ্য। আর নেসাব হল স্বর্ণের ক্ষেত্রে সাড়ে সাত (৭.৫) ভরি, রূপার ক্ষেত্রে সাড়ে বায়ান্ন (৫২.৫) ভরি। আর টাকা-পয়সা ও অন্যান্য বস্তুর ক্ষেত্রে নিসাব হলো- এগুলোর মূল্য সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপার মূল্যের সমপরিমাণ হওয়া (টাকার অংকে প্রায় ৫৫ হাজার টাকা)।

আর সোনা বা রূপা কিংবা টাকা-পয়সা এগুলোর কোনো একটি যদি পৃথকভাবে নেসাব পরিমাণ না থাকে কিন্তু প্রয়োজন অতিরিক্ত একাধিক বস্তু মিলে সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপার মূল্যের সমপরিমাণ হয়ে যায়, তাহলেও কোরবানি করা ওয়াজিব। (আলমুহিতুল বুরহানি: ৮/৪৫৫; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া: ১৭/৪০৫)

সামর্থ্য থাকার পরও কেউ যদি এই মহৎ ইবাদত পালন করে না, তাকে হাদিসে নিন্দা করা হয়েছে। হাদিস শরিফে এসেছে, ‘যার কোরবানির সামর্থ্য রয়েছে, কিন্তু কোরবানি করে না—সে যেন আমাদের ঈদগাহে না আসে।’ (মুস্তাদরাকে হাকেম, হাদিস: ৩৫১৯; আত্তারগিব ওয়াত্তারহিব: ২/১৫৫)

কোনো ব্যক্তির যদি নেসাব পরিমাণ সম্পদ থাকে কিন্তু তার হাতে নগদ টাকা না থাকে, যেমন কোনো ব্যবসার কাজে ইনভেস্ট করেছে, অথবা কাউকে ধার দিয়েছে, কিন্তু তা উদ্ধার করতে পারেনি। তাহলে তার কোরবানীর বিধান কী?  এ বিষয়ে ফেকাহবিদদের মতামত হলো, কারো নেসাব পরিমাণ সম্পদ আছে কিন্তু তার কাছে নগদ টাকা নেই। এমন ব্যক্তির যদি এমন কোন সম্পদ থাকে, যা বিক্রি করে কোরবানির পশুর মূল্য সংগ্রহ করা এবং পশু ক্রয় করা সম্ভব হয়, তাহলে সেই বস্তু বিক্রি করে কোরবানী করা আবশ্যক হবে। আর যদি এমন কোন বস্তু না থাকে, যা বিক্রি করে কোরবানী করতে পারবেন, সেই সাথে কোরবানীর দিনসমূহে কোরবানীর পশু ক্রয় পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ না করতে পারেন, তাহলে কোরবানী করা আবশ্যক হবে না।

কোরবানির প্রকৃত শিক্ষা হলো আত্মত্যাগ, তাকওয়া ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। তাই সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কোরবানি এড়িয়ে যাওয়ার মানসিকতা নয়, বরং দায়িত্ববোধ ও আন্তরিকতাই একজন মুমিনের পরিচয় হওয়া উচিত।

ঈদুল আজহাওয়াজিবকোরবানিনগদ টাকাস্বর্ণ